ব্রেকিং
Latest Posts
Indian Oil Tankers Strait of Hormuz: যুদ্ধের উত্তেজনার মাঝেই হরমুজ প্রণালী পেরোল ভারতের দুই তেল ট্যাঙ্কার, কূটনীতির জোরে স্বস্তি দিল্লিরNarendra Modi Kolkata : জয় শ্রীরাম-এ ভরসা নেই বাংলার ভোটে, মমতাকে হারাতে মা কালীর নাম নিয়ে দক্ষিণেশ্বরের আদলে মঞ্চ মোদির ব্রিগেডেTMC Candidates 2026 : ২৬-শের বিধানসভায় তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় দ্বিতীয় প্রজন্মের উত্থান, টিকিট পেতে পারেন একাধিক প্রবীণ নেতার ছেলে-মেয়েDhuluk Sikkim Offbeat Destination : ধুলুক, সিকিম: মেঘ-ঢাকা পাহাড়ের কোলে অফবিট স্বর্গ—নিঃশব্দ প্রকৃতি আর গ্রামীণ জীবনের অনন্য মেলবন্ধনCEC Gyanesh Kumar Impeachment : জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবে তৃণমূলের উদ্যোগে বিপুল সাড়া বিরোধী সাংসদদের
  • Home /
  • ভ্রমন /
  • Offbeat Destinations in North Bengal: বসের কিচকিচানি ভুলে দু’দিনের নিখাদ শান্তি? আপনার অপেক্ষায় ডুয়ার্সের নিঝুম গ্রাম রংগো

Offbeat Destinations in North Bengal: বসের কিচকিচানি ভুলে দু’দিনের নিখাদ শান্তি? আপনার অপেক্ষায় ডুয়ার্সের নিঝুম গ্রাম রংগো

প্রিয়াঙ্কা মান্না। কলকাতা সারাদিন। ডুয়ার্স বললেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে ঘন জঙ্গল, হাতির দল, চা-বাগানের সবুজ ঢেউ আর পাহাড়ি নদীর কলকল শব্দ। কিন্তু এই পরিচিত ছবির আড়ালেই লুকিয়ে রয়েছে এমন কিছু গ্রাম, যেগুলো আজও পর্যটনের দৌড়ঝাঁপ থেকে অনেক দূরে।....

Offbeat Destinations in North Bengal: বসের কিচকিচানি ভুলে দু’দিনের নিখাদ শান্তি? আপনার অপেক্ষায় ডুয়ার্সের নিঝুম গ্রাম রংগো

  • Home /
  • ভ্রমন /
  • Offbeat Destinations in North Bengal: বসের কিচকিচানি ভুলে দু’দিনের নিখাদ শান্তি? আপনার অপেক্ষায় ডুয়ার্সের নিঝুম গ্রাম রংগো

প্রিয়াঙ্কা মান্না। কলকাতা সারাদিন। ডুয়ার্স বললেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে ঘন জঙ্গল, হাতির দল, চা-বাগানের....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন

প্রিয়াঙ্কা মান্না। কলকাতা সারাদিন।

ডুয়ার্স বললেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে ঘন জঙ্গল, হাতির দল, চা-বাগানের সবুজ ঢেউ আর পাহাড়ি নদীর কলকল শব্দ। কিন্তু এই পরিচিত ছবির আড়ালেই লুকিয়ে রয়েছে এমন কিছু গ্রাম, যেগুলো আজও পর্যটনের দৌড়ঝাঁপ থেকে অনেক দূরে। ঠিক তেমনই এক নিঃশব্দ, স্নিগ্ধ পাহাড়ি ঠিকানা হলো রংগো (Rongo)। কালিম্পং জেলার অন্তর্গত হলেও ডুয়ার্সের পথ ধরেই এই গ্রামে পৌঁছতে হয়। আর পৌঁছনোর পরই বোঝা যায়—এটা আসলে শহরের কোলাহল থেকে পালিয়ে আসার এক আদর্শ আশ্রয়।

ব্যস্ত অফিস, বসের অনবরত ফোন, ট্র্যাফিক আর সময়ের চাপ—সবকিছু থেকে দু’দিনের ছুটি যদি সত্যিই মানসিক শান্তির জন্য চান, রংগো হতে পারে আপনার সেই বহু কাঙ্ক্ষিত অফবিট গন্তব্য।
মেঘ, পাহাড় আর সিঙ্কোনার ঘ্রাণ
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় সাড়ে চার হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত রংগো গ্রাম। এই গ্রামের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার নিস্তব্ধতা। এখানে পৌঁছেই মনে হবে, শব্দ যেন নিজেই নিজের ভলিউম কমিয়ে নেয়। গ্রামের ঢোকার মুখেই চোখে পড়বে সারি সারি সিঙ্কোনা গাছ। ব্রিটিশ আমলে তৈরি এই ওষধি গাছের বাগান আজও রংগোর জীবন-জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
সকালে আর সন্ধ্যায় বাতাসে ভেসে আসে এক ধরনের ভেষজ সুবাস। পাহাড়ের ঢালে ধাপে ধাপে সাজানো কাঠের ছোট ছোট বাড়ি, জানলার পাশে রঙিন ফুলের টব, আর সেই সব বাড়ির ফাঁক গলে ভেসে চলা মেঘ—সব মিলিয়ে রংগো যেন প্রকৃতির হাতে আঁকা এক জীবন্ত পোস্টকার্ড।
এখানে দেখার চেয়ে অনুভবই বেশি
রংগোতে বড় বড় ট্যুরিস্ট স্পট বা ভিড় করা দর্শনীয় স্থান নেই। আর সেটাই এই গ্রামের সবচেয়ে বড় ইউএসপি। এখানে আসার মানে হলো ধীরে চলা, থেমে থাকা আর নিজের সঙ্গে একটু সময় কাটানো।
রংগো বাজার ও গুম্ফা:
গ্রামের মাঝখানে ছোট্ট একটি বাজার রয়েছে। কাছেই পাহাড়ের ঢালে একটি বৌদ্ধ গুম্ফা। ভেতরে ঢুকলেই এক অদ্ভুত শান্তি নেমে আসে। চারপাশ এতটাই নিস্তব্ধ যে নিজের শ্বাস-প্রশ্বাস পর্যন্ত স্পষ্ট শোনা যায়। পরিষ্কার দিনে এখান থেকে দূরের ভুটান পাহাড়ের দৃশ্য সত্যিই চোখ জুড়িয়ে দেয়।
ভিউ পয়েন্ট:
গ্রামের শেষ প্রান্তে রয়েছে একটি ছোট ভিউ পয়েন্ট। আবহাওয়া ভালো থাকলে এখান থেকে জলঢাকা নদী, তার ওপারে ভুটানের পাহাড় ও ঘন জঙ্গল স্পষ্ট দেখা যায়। সূর্যাস্তের সময় এই জায়গাটা যেন আলাদা রূপ নেয়।
হাঁটুন, দেখুন, হারিয়ে যান
রংগোর সবচেয়ে ভালো অভিজ্ঞতা পেতে হলে পায়ে হেঁটেই পুরো গ্রাম ঘুরে দেখুন। সিঙ্কোনা বাগানের মাঝ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে পাখির ডাক শুনুন, কোথাও মেঘ এসে ছুঁয়ে যাবে গাল, আবার কোথাও পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে যাবে ঠান্ডা হাওয়া।
চাইলে কাছের টানডাং গ্রাম পর্যন্ত হালকা ট্রেকিং করা যায়। খুব কঠিন নয়, কিন্তু পথ জুড়ে প্রকৃতির যে রূপ দেখা যায়, তা মনে গেঁথে থাকে। রংগোকে বেস ক্যাম্প করে সহজেই ঘুরে নেওয়া যায় ঝালং, বিন্দু, প্যারেন কিংবা তোদে-তাংতা। নামার পথে গৈরিবাাসও পড়ে, সেখানকার প্রকৃতিও কম মনকাড়া নয়।
কখন যাবেন রংগো?
রংগো প্রায় সারা বছরই যাওয়ার উপযোগী। বর্ষায় পাহাড় ঢেকে যায় গাঢ় সবুজে, মেঘ নামে একেবারে চোখের সামনে। শীতকালে আকাশ থাকে ঝকঝকে নীল, ভাগ্য ভালো হলে কাঞ্চনজঙ্ঘার এক ঝলকও দেখা যেতে পারে। অক্টোবর থেকে মে মাস রংগো ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে আদর্শ সময়।
কীভাবে পৌঁছবেন?
শিলিগুড়ি বা এনজেপি থেকে চালসা হয়ে খুনিয়া মোড়। সেখান থেকে গৈরিবাাস পেরিয়ে পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তা উঠে গেছে রংগোর দিকে। এনজেপি থেকে গাড়িতে সময় লাগে প্রায় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা। বাস বা শেয়ার জিপে আসা গেলেও রিজার্ভ গাড়ি নিলে যাত্রা অনেক বেশি আরামদায়ক হয়।
থাকার ব্যবস্থা ও খাবার
রংগোতে বড় হোটেল নেই, আছে কয়েকটি পরিচ্ছন্ন ও আরামদায়ক হোমস্টে। এখানকার মানুষের আতিথেয়তা অসাধারণ। ঘরোয়া রান্না, গরম ভাত, ডাল আর পাহাড়ি সবজির স্বাদ শহরে বসে পাওয়া যাবে না। বারান্দায় বসে ধোঁয়া ওঠা কফিতে চুমুক দিতে দিতে পাহাড় আর মেঘ দেখার বিলাসিতাই রংগোর আসল সম্পদ।
যাঁরা নির্জনতা ভালোবাসেন, যাঁরা চান সকালে ঘুম ভাঙুক পাখির ডাকে আর জানলা খুললেই মেঘ ঘরে ঢুকে পড়ুক—রংগো তাঁদের জন্য এক নিখুঁত অফবিট ঠিকানা। দু’দিনের ছুটিতে সত্যিই হারিয়ে যেতে চাইলে, এই গ্রাম আপনার জন্য অপেক্ষা

আজকের খবর