সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।

বাংলা সহ গোটা দেশ জুড়ে তীব্র বিরোধিতা ও বিতর্কের মাঝেই এবারে পিছিয়ে গেল খসড়া এবং চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন। সেই সঙ্গে পিছলো এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার ডেডলাইন-ও। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে রবিবার রীতিমতো বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দেওয়া হলো এই তথ্য। আগামী ৯ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা ছিল। সেই ডেডলাইন মেনেই কাজ করছিলেন বিএলও-রা। কিন্তু আজ কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে যে, এই ৯ ডিসেম্বরের তারিখটি পরিবর্তিত হয়ে ১৬ ডিসেম্বর করা হল অর্থাৎ এনুমারেশন ফর্ম জমা নেওয়ার সময় সাতদিন পিছিয়ে দেওয়া হল।
গত ২৮ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তালিকায় রয়েছে আন্দামান ও নিকোবর, ছত্তিসগড়, গোয়া, গুজরাট, কেরালা, লাক্ষাদ্বীপ, মধ্যপ্রদেশ, পুদুচেরি, রাজস্থান, তামিলনাড়ু, উত্তরপ্রদেশ। এতদিন পর্যন্ত কমিশনের তরফে দাবি করা হচ্ছিল, খসড়া তালিকা প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজিটাইজেশনের কাজ সঠিক গতিতে এগোচ্ছে ফলে দিন পেছোনোর প্রয়োজন নেই। কিন্তু বাস্তবে চূড়ান্ত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিলেন বিএলওরা। সেই পরিস্থিতি কার্যত স্বীকার করে নিয়েই গোটা প্রক্রিয়া পিছিয়ে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন।
এই এসআইআর-এর কাজের প্রচণ্ড চাপ সহ্য করতে হচ্ছে বিএলও-দের। কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, কেউ কেউ আবার আতঙ্কে আত্মহত্যা করছেন। স্কুলের কাজ সামলে তারপর এত কাজ কীভাবে করা সম্ভব হবে তা নিয়ে তাঁরা বারবার প্রশ্ন তুলেছেন। এরইমধ্যে একদিন আগেই সিইও দফতরে বিএলও-রা বিক্ষোভে নেমেছিল। প্রতিবাদীরা সেই বিক্ষোভে মুর্শিদাবাদের মৃত বিএলও-দের পরিবারের সদস্যদেরও সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল। আর সেই বিক্ষোভের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই নির্বাচন কমিশন ৯ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন পরিবর্তন করে নতুন দিনক্ষণ জানিয়ে দিল।


৪ নভেম্বর থেকে বিএলও-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনিউমারেশন ফর্ম বিলি শুরু করেছেন। ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত এনিউমারেশন-পর্ব চলার কথা ছিল। অর্থাৎ ফর্ম বিলি থেকে সংগ্রহ, ডিজিটাইজ়েশনের জন্য ৪ ডিসেম্বর ডেডলাইন ঠিক হয়। এ বার তা ১১ বাড়িয়ে ১১ ডিসেম্বর করা হল। প্রথমে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন ধার্য হয়েছিল ৯ ডিসেম্বর। তা পিছিয়ে ১৬ ডিসেম্বর করা হয়েছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ঘোষণা হওয়ার কথা ছিল ৭ ফেব্রুয়ারি, তা পিছিয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি হল এবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *