সুস্মিতা প্রকাশ সুখেন্দুর বিজেপিতে যোগদান নিয়ে দিলীপের মন্তব্য, ‘শমীক ভট্টাচার্য একা সিদ্ধান্ত নেন না’
সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
‘শমীক ভট্টাচার্য্য তো এই ব্যাপারে একা সিদ্ধান্ত নেন না। কেন্দ্রীয় সরকারের বিষয় আছে। কেন্দ্রীয় পার্টির বিষয় রয়েছে। ওঁকে যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উনি সেটা পালন করেছেন। তবে এটা ঠিক পশ্চিমবঙ্গের যে রাজনীতির গতিবিধি আছে তার বিপরীত দিশাতে এটা হয়েছে। সেই জন্যই তাঁকে টার্গেট হতে হয়েছে।’ তৃণমূলের জন্য বিজেপির দরজা বন্ধ বলে ঘোষণা করার পরেও রাতারাতি যেভাবে তৃণমূলের প্রাক্তন তিন রাজ্যসভার সাংসদকে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের থেকে রাজ্যসভায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার স্বপক্ষে এমন সাফাই দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
দিলীপ বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারকে যদি কাজ করতে হয়, তাহলে আমাদের মেজরিটি লাগবে। আমাদেরও রাজ্যসভাতে মেজরিটি চাই। কেন্দ্রীয় সরকারকে যদি কাজ করতে হয় তাহলে আমাদের দুই সভাতেই মেজরিটি লাগবে। যারা রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন, কেবল দলের সিম্বল পাল্টে আমাদের সিম্বলে থাকবেন। এই লোকগুলোর সম্পর্কে আমার ধারণা নেই তবে সুখেন্দু বাবু গুণী লোক সংসদে আমার সঙ্গে কয়েকবার দেখা হয়েছে। তাকে কেউ বদমাশ লোক বলবে না। তিনি একমাত্র যিনি আমাদের মতই সেই সময় তৃণমূল কংগ্রেসের নীতির বিরোধিতা করেছিলেন। এজন্য তাকে সাসপেন্ড হতে হয়েছিল। আর জি করে তিনি যেভাবে কথা বলেছিলেন তাঁর মেরুদন্ড আছে। এটা কেন্দ্রীয় পার্টির সিদ্ধান্ত। কাজেই সব ব্যাপারে শমীক দা-কে টার্গেট করতে হবে এটা ঠিক নয়।’
বিরোধী দলের ছন্নছাড়া অবস্থা
অন্যদিকে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর থেকে তৃণমূল সহ অন্যান্য বিরোধী দল যেভাবে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যেতে শুরু করেছে তার প্রেক্ষিতে রাজ্যের মধ্যে দিলীপ ঘোষ বলেন, বিরোধীরা এখন ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’। এটা গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত। মানুষ বিরোধীদের শক্তি দিয়েছে। কিন্তু তাদের লড়াই করার আত্মিক শক্তি নেই। কারণ তারা সরকারে থাকতে অপকর্ম করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরাও তো চাই বিরোধীরা শক্তিশালী হোক। যারা সরকারকে ঠিক পথে পরিচালিত করবে। কিন্তু যারা নিজেরা কোনওদিন ঠিক রাস্তায় চলেনি, তারা সরকারকে কি সঠিক দিশা দেবে?? মানুষও মর্যাদা দিয়েছে, আমরা যে শক্তি ছিলাম তার থেকেও বেশি বিরোধীদের শক্তি দিয়েছে। কিন্তু বিরোধীদের মধ্যে আত্মিক শক্তি নেই যে তারা লড়াই করবেন। সরকারে থাকতে অপকর্ম করেছেন তাই লড়াই করার শক্তি নাই। লড়াই করলে সত্যের পক্ষে থাকতে হয়। আমরা অপেক্ষা করবো। বিরোধীরা এক হয়ে সরকারের পক্ষে কাজ করবেন।’
দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘রাজনীতিতে রোজ পরিবর্তন সম্ভব। কাল কী হবে আমরা জানিনা। সেটা আমাদের জানার দরকারও নেই। বর্তমান ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার কাজ করছে, মানুষ খুশি আছে। কমপক্ষে নিজেদের মধ্যে লড়াই না করে সরকারের সঙ্গে থাকুন। পশ্চিম বাংলার উন্নয়ন এত বছর আটকে ছিল সেটা যাতে ঠিকঠাক হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে ঠিকঠাক হয়। বিরোধিতা করতে গিয়ে বিরোধীরা একসঙ্গে নিজেরা থাকতে পারছেন না। এটা তো ঠিক নয়! বাকি পার্টি ওঁদের ওঁরা ঠিক করবেন কী করবেন?’
রাজ্যে শিল্পায়ন প্রসঙ্গে
রাজ্যে লাক্সের কারখানার উদ্বোধন নিয়ে রাজ্য সরকারের প্রশংসা করেন দিলীপ। বলেন, ‘মানুষ এই পরিবর্তনটাই তো চেয়েছিলেন। আইনশৃঙ্খলা ঠিক থাকবে, শিল্প আসবে। বিজেপির ইমেজ আছে যা ব্যবসায়ীদের জন্য সহায়ক। অনেকে আসছেন, কথা বলছেন, শিল্প শুরু করতে চাইছেন। শিল্পের এরকম অনুকূল পরিবেশ গত ৫০ বছরে ছিল না।’

নতুন বিজেপি সরকার আসার পর থেকে যেভাবে পশ্চিমবঙ্গে একের পর এক বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তা যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক বলে দাবি করে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘এ কথা ঠিক তো মানুষ এই পরিবর্তনটাই তো চেয়েছিলেন। আইনশৃঙ্খলা ঠিক থাকবে, শিল্প আসবে। কাজ করার সুযোগ পান। বিজেপির ইমেজ আছে এইরকম ব্যবসায়ীদের জন্য সহায়ক। যেদিন তাপসদা শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠক করছেন সেদিনই আমার কাছে এলিগ্যান্ট স্টিল। যাদের পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে সাড়ে চারশ একরেরও বেশি জায়গা আছে। যেখানে তারা নির্বাচনের আগেও কাজ শুরু করতে চেয়েছিলেন, করতে দেওয়া হয়নি। আমি মাননীয় তাপসদাকে বলেছি তাদেরকে পাঠিয়েছি তারা শিল্প শুরু করতে চান। এভাবেই অনেকে আসছেন, কথা বলছেন, কাজ শুরু করতে চাইছেন, শিল্প শুরু করতে চাইছেন। এইরকম শিল্প অনুকূল পরিবেশ গত ৫০ বছরে ছিল না। লাভটা সবার উঠানো উচিত।’