সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
বেশ কয়েকদিন চিকিৎসার পরেও শারীরিক অবস্থার অবনতি তমলুকের বিজেপি সাংসদ প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে শুরু হওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের তত্ত্বাবধানে জরুরী ভিত্তিতে এয়ার লিফট করে নিয়ে যাওয়া হলো দিল্লি এইমসে। গত শনিবার তলপেটে তীব্র ব্যথা এবং বমির সমস্যা নিয়ে তিনি কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি প্যানক্রিয়াটাইটিস বা অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহে ভুগছেন, যা একটি জটিল রোগ।
তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল না হওয়ায় চার দিন পরও তিনি আইসিইউতে মাল্টি-অর্গান সাপোর্ট সিস্টেমে রয়েছেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিল্লির এইমসে স্থানান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনা তাঁর সমর্থক এবং রাজনৈতিক মহলে গভীর উদ্বেগের ছায়া ফেলেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক। উনি মাল্টি অর্গান সাপোর্ট সিস্টেম ও লো ফ্লো অক্সিজেন সাপোর্টে ছিলেন। ৬০ বছরের অভিজিতবাবু ভুগছেন একিউট প্যানক্রিয়াটাইটিস এবং গ্যাস্ট্রো ইনটেস্টিনাল সেপসিসে। গত শনিবার হঠাৎই বমি ও তীব্র পেটে ব্যথা শুরু হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন তাঁর অবস্থার উন্নতি সেভাবে হয়নি। বিপদ কেটেছে বলা যাচ্ছে না। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার প্রয়োজন। তাই দিল্লির এইমস হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা চালানোর কথা ভাবা হয়। পরিবারের সম্মতিতে ও দলের তরফে সিদ্ধান্ত নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ তাকে আলিপুরের বেসরকারি হাসপাতাল থেকে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। বিজেপি সূত্রে খবর, প্রাথমিকভাবে অভিজিতবাবুকে কলকাতা থেকে এয়ার লিফটে রাজধানী নিয়ে যাওয়া হয়। সেই ট্রান্সফারে তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল।
অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে সোমবার হাসপাতালে যান বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, মঙ্গলবার হাসপাতালে যান রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁকে দেখে গিয়েছেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সাংসদ ভর্তি হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সচিবালয় থেকে
অভিজিতবাবুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। জানানো হয়েছিল প্রয়োজন হলে পিএমও পাশে থাকবে।

দিল্লির এইমসে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের চিকিৎসা এখন বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে চলছে। তাঁর স্বাস্থ্যের উন্নতি না হওয়ায় পরিবার এবং শুভানুধ্যায়ীরা উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। প্যানক্রিয়াটাইটিসের মতো জটিল রোগের চিকিৎসায় সময় এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তমলুকের সাংসদ হিসেবে তিনি এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন, এবং তাঁর এই অসুস্থতা স্থানীয় জনগণের মধ্যে দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। সকলে তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছেন।