সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা এবং তার পরবর্তী সময়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অপারেশন সিঁদুর অভিযানে সেনাবাহিনীর অসাধারণ সাফল্যকে ধন্যবাদ জানাতে বাংলার বিধানসভায় আসছে বিশেষ প্রস্তাব। গত মাসে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিরীহের মৃত্যু, ভারতীয় সেনার অপারেশন সিঁদুর নিয়ে রাজ্য বিধানসভায় আগেই প্রস্তাবের কথা জানানো হয়েছিল। এবার তার দিনক্ষণ ঘোষণা করলেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী সপ্তাহে, ১০ জুন সেনাকে সম্মান জানিয়ে প্রস্তাব পেশ হতে চলেছে বিধানসভায়।
ওইদিন বিধানসভায় উপস্থিত থাকতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর উপস্থিতিতে স্পিকার নিজেই প্রস্তাব আনবেন বলে জানিয়েছেন।
রাজ্য বিধানসভায় বৃহস্পতিবার দুপুরে সর্বদল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যদিও বিরোধী দল তথা ভারতীয় জনতা পার্টির তরফে কেউ এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও আই এস এফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীও অনুপস্থিত ছিলেন। এদিকে, সরকার পক্ষের তরফে সকলে উপস্থিত ছিলেন – উপাধ্যক্ষ আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, সরকার পক্ষের মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ উপ – মুখ্য সচেতক দেবাশিস কুমার প্রমুখ। সেইসঙ্গে পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসু, আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক, পরিবেশ ও অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, জনশিক্ষা ও প্রসার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী, অগ্নি নির্বাপণ ও জরুরি পরিষেবা দফতরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী সুজিত বসু প্রমুখ বিধানসভায় সর্বদল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
আগামী ৯ জুন, সোমবার দুপুর ১২টা থেকে শুরু হচ্ছে বিধানসভার বাদল অধিবেশন। চলবে আগামী দু’সপ্তাহ। আর ১০ তারিখ গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব আনা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, ১১ ও ১২ তারিখ স্ট্যান্ডিং কমিটির রিপোর্টের উপর আলোচনা হবে দু’ঘণ্টা ধরে। এনিয়ে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ”গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন আমরা শান্তিপূর্ণভাবে যেন করতে পারি। আমি সরকার আর বিরোধী পক্ষের কাছে সেই আবেদন করছি।” এর আগে একাধিক অধিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সময় বিজেপি বিধায়কদের ওয়াকআউট করে বেরিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে। তবে পহেলগাঁও আবহে সেনাকে সম্মান জানিয়ে রাজ্য বিধানসভায় যে প্রস্তাব আনা হবে, তাতেও যদি বিজেপি যোগ না দেয়, তাহলে তা নিন্দনীয় হবে নিঃসন্দেহে।
গত মাসেই স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, ৯ জুন থেকে শুরু হতে চলা বিধানসভার অধিবেশনে সেনাবাহিনীকে সম্মান জানিয়ে অপারেশন সিঁদুর নিয়ে প্রস্তাব আসছে। শাসকদল যদি প্রস্তাব না আনে, তাহলে নিজের ক্ষমতাবলে সেই প্রস্তাব আনবেন স্পিকার নিজে। তাঁর এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক মহল মনে করছিল, জাতীয়তাবাদ নিয়ে বিজেপিকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ তৃণমূল।
ইতিমধ্যেই সভা, সমিতি, মিছিল মধ্যে দিয়ে জাতীয়তাবাদে অস্ত্রে শান দিয়েছে তারা। এবার বিধানসভায় সেই অস্ত্র আরও একবার প্রয়োগ করতে চায় রাজ্যের শাসকদল। বৃহস্পতিবার স্পিকারের বক্তব্যে আরও একবার তা স্পষ্ট হল।