“ছাত্র নয়, জামাতি ও মৌলবাদী’, কলকাতার আন্দোলনকারীদের নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য শুভেন্দু অধিকারীর”
কনিষ্ক সামন্ত। কলকাতা সারাদিন।
“এরা কেউ ছাত্র নয়। এরা জামাতি, মৌলবাদী। ভারতকে অশান্ত করতে চায়। গুন্ডাদমন আইনে ব্যবস্থা হবে।” গত শুক্রবার শিয়ালদা থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত ছাত্রদের মিছিলের নামে পুলিশ এবং সাংবাদিকদের উপরে যারা গুন্ডামি চালিয়েছিল তাদের প্রকৃত রূপ ফাঁস করে এমন বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
ধর্মতলায় ছাত্রমিছিলে গোলমাল পাকানোয় যাঁরা চিহ্নিত, তাঁরা বিদেশি শক্তির মদতপুষ্ট হতে পারেন! রবিবার এমনটাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিষয়টি তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। রবিবার নন্দীগ্রামের সোনাচুড়াতে বিজেপি নেতা-কর্মীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রেডিয়ো অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’ শোনেন শুভেন্দু। সেখানেই সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে শুভেন্দু জানান, যাঁরা গোলমাল পাকিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) কোনও সম্পর্ক নেই। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “পশ্চিমবঙ্গে যাঁরা নিট আন্দোলনের পার্ট ছিলেন, তাঁরা এই ঘটনার (গোলমাল পাকানো এবং সাংবাদিকদের মারধর) সঙ্গে একেবারেই যুক্ত নন। আমি ভাল করে দেখেছি। তাঁরাও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন যে, সাংবাদিকদের সঙ্গে এই বর্বরোচিত আক্রমণের ঘটনায় যাঁরা জড়িত, তাঁদের দায় কোনও ভাবেই নেবে না সিজেপি পার্টি।”
ধর্মতলায় ককরোচের মিছিলে সাংবাদিকদের হামলা, অশান্তির সৃষ্টি করে একদল সমাজবিরোধী। সেই ঘটনায় হেয়ার স্ট্রিট থানায় ছ’টি এবং এন্টালিতে একটি, অর্থাৎ মোট সাতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাতে গুন্ডাদমন আইনও যোগ করা হয়েছে। এই আইনেই এখনও পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজন ভিন রাজ্যে পালিয়ে যাওয়ার ছক কষেছিল বলেও জানা যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ” নিট আন্দোলনে ককরোচ জনতা পার্টির মিছিলের সঙ্গে এদের যোগ নেই। সাংবাদিকদের দায়ের করা মামলাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিধানসভায় যা বলেছি তাই হবে।”
শুভেন্দু বলেন, “এই শক্তিটা বিদেশি শক্তিদের মদতপুষ্ট হতে পারে। সেটার তদন্ত চলছে।” সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রসঙ্গ উত্থাপন করে শুভেন্দুর সংযোজন, “যে ভাবে সাংবাদিকদের মেরেছে, রক্তপাত করেছে, হত্যার চেষ্টা করেছে, তার বিরুদ্ধে সাতটা মামলা হয়েছে। সব মামলা সাংবাদিকেরাই করেছে, পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে দু’একটা মামলা করেছে। এই প্রথম সাংবাদিকেরা এগিয়ে এসে মামলা করেছেন।” এই সূত্রেই মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, “এদের সঙ্গে আন্দোলনের কোনও সম্পর্ক নেই। এরা ছাত্রও নয়। এরা ইসলামিক মৌলবাদী। এদের পিছনে কোন বিদেশি শক্তির মদত রয়েছে, তা তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন।”
মুখ্যমন্ত্রীর আরও দাবি, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর, খারিজি মাদ্রাসা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ওবিসি শংসাপত্র নিয়ে হাই কোর্টের রায় কার্যকর করেছে। পশু আইন কার্যকর করেছে। সেই রাগ, যন্ত্রণা থেকে একদল দুষ্কৃতী এই কাজ করছে। তিনি বলেন, “সাউন্ড পলিসিতে বিধি আরোপ করা হয়েছে। খারিজি মাদ্রাসা নিয়ে তদন্ত হচ্ছে। অবৈধভাবে ওবিসি শংসাপত্র পেয়েছিল, হাই কোর্ট বাতিল করেছে। আমরা কার্যকর করেছি। তা নিয়ে রাগ আছে। এরা কেউই ছাত্র নয়। এরা গুন্ডা। গুন্ডাদমন আইনে ব্যবস্থা হবে।”