কনিষ্ক সামন্ত। কলকাতা সারাদিন।

নন্দীগ্রামে বিজেপিতে বড় ভাঙন! শুভেন্দুর ঘাঁটিতেই অনাস্থা, একের পর এক নেতাকর্মীর তৃণমূলে যোগ
বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাচ্ছে পূর্ব মেদিনীপুরে। আর সেই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ইঙ্গিত মিলছে নন্দীগ্রামে। যে কেন্দ্র থেকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বারবার রাজ্যে বিজেপির ক্ষমতায় ফেরার দাবি তুলছেন, সেই কেন্দ্রেই এবার দেখা দিল বড় ভাঙন।

নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের কালিচরণপুর ২৪৫ নম্বর বুথ—এই নামটাই এখন রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। পঞ্চায়েত নির্বাচনে পদ্ম প্রতীকে জেতা সদস্য তনুশ্রী দাস হঠাৎই দল ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। শুধু তিনি নন, ওই বুথের বিজেপি সভাপতিও পদ্মফুল ছেড়ে ঘাসফুলের পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের উপস্থিতিতে তাঁদের দলে স্বাগত জানানো হয়।

এতেই থেমে নেই ঘটনা। গ্রাম পঞ্চায়েতে অনাস্থা আনার প্রক্রিয়ায় দু’জন বিজেপি সদস্যার সই প্রকাশ্যে এসেছে। ফলে সংগঠনের ভিত যে নড়বড়ে, তা আর গোপন নেই। অথচ এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে দেখা যায়নি নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীকে।

শুধু নন্দীগ্রাম নয়, খেজুরিতেও বিজেপির অস্বস্তি বাড়ছে। কয়েক মাস আগেই প্রায় ৩০টি সংখ্যালঘু পরিবার বিজেপিতে যোগ দিয়েছিল। সেই সময় তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়েছিলেন কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী। পাশে ছিলেন খেজুরির বিজেপি বিধায়ক শান্তনু প্রামাণিক-সহ জেলা নেতৃত্ব।
কিন্তু এবার সেই পরিবারগুলিই আবার তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে গেল। তাঁদের অভিযোগ, ভয় দেখিয়ে বিজেপিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তৃণমূলের কাঁথি সাংগঠনিক জেলার যুব সভাপতি জালালউদ্দিন খানের হাত থেকে তাঁরা ফের দলীয় পতাকা নেন।

Pratikur Rahman joins TMC : ”বিজেপিকে ঢুকতে দেবো না- তৃণমূলের সঙ্গে এই ডিল হয়েছে, বিজেপিকে আটকাতে পারে শুধু তৃণমূল’ দাবি করে সিপিএম ছেড়ে অভিষেকের হাত ধরে তৃণমূলে এলেন প্রতীক-উর

এর আগেও নন্দীগ্রামে বিজেপির তমলুক জেলা কমিটির সদস্য-সহ প্রায় ৫০ জন কর্মী দলত্যাগ করেছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, সংগঠনের ভেতরে অসন্তোষ, দুর্নীতির অভিযোগ এবং স্থানীয় পরিস্থিতি তাঁদের হতাশ করেছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নন্দীগ্রাম শুধুই একটি বিধানসভা কেন্দ্র নয়—এটি প্রতীক। ২০২১ সালের নির্বাচনে রাজ্যের অন্যতম হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র ছিল এটি। সেই কেন্দ্রেই যদি সংগঠন দুর্বল হতে থাকে, তবে তা বড় বার্তা দেয়। বিশেষ করে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে বিজেপির পক্ষে এই ভাঙন নিঃসন্দেহে চিন্তার কারণ।
অন্যদিকে তৃণমূল শিবির এই ঘটনাকে মনোবল বৃদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে দেখছে। তাঁদের দাবি, বিজেপির সংগঠনের ভিত ফাঁপা হয়ে যাচ্ছে, আর কর্মীরাই বাস্তব পরিস্থিতি বুঝে ঘরে ফিরছেন।
নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক তাপমাত্রা এখন স্পষ্টতই ঊর্ধ্বমুখী। সামনে নির্বাচন, আর তার আগেই যে লড়াইটা জমে উঠেছে—তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *