সপ্তাহের ক্লান্তি ঝেড়ে দু’দিনের জন্য যদি প্রকৃতির কোলে হারিয়ে যেতে চান, তবে পুরুলিয়ার দুর্গাডি হতে পারে এক আদর্শ ঠিকানা। জঙ্গলে ঘেরা শান্ত পরিবেশ, পাখিদের কলতান আর চোখের সামনে বিস্তীর্ণ কংসাবতীর জলরাশি—সব মিলিয়ে এক নিঃশব্দ প্রশান্তি।
কলকাতা থেকে খুব বেশি দূরে নয় এই ছোট্ট গ্রাম। দু’দিনের ছুটি আর নিজের গাড়ি থাকলেই পরিকল্পনা সেরে ফেলতে পারেন। বসন্তকালে গেলে বাড়তি পাওয়া—রাস্তার দু’পাশ জুড়ে পলাশের আগুনরঙা সৌন্দর্য।
কী দেখবেন দুর্গাডিতে?
দুর্গাডি গ্রামকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি ইকো-ট্যুরিজ়ম সাইট। বারান্দায় বসেই উপভোগ করা যায় কংসাবতীর রূপ। ভোরের সূর্যোদয় কিংবা সন্ধ্যার সূর্যাস্ত—দু’সময়েই নদীর জল আলাদা রঙে রাঙা হয়ে ওঠে।
মাঝেমধ্যে জলরাশির মধ্যে ছোট ছোট দ্বীপের মতো অংশ জেগে থাকে, যা দৃশ্যটিকে আরও মনোরম করে তোলে। নদীর ধারে রয়েছে সোনাঝুরির জঙ্গল। হাতে সময় থাকলে বনপথ ধরে হাঁটতে পারেন।
বসন্তকালে একদিকে নীল কংসাবতী, অন্যদিকে পলাশের লাল আগুন—এই রঙের মেলবন্ধন চোখে-মনে দীর্ঘদিন থেকে যায়। সন্ধ্যা নামলে চাঁদের আলোয় জলরাশি ঝিলমিল করে ওঠে। আর ভোরে কটেজের জানলায় টোকা দেয় নাম-না-জানা পাখিরা।
এই গোটা অভিজ্ঞতাই দুর্গাডিকে অন্যরকম করে তোলে।
কী ভাবে পৌঁছবেন?
দুর্গাডিতে পৌঁছতে একাধিক পথ রয়েছে। হাওড়া থেকে ট্রেনে Ghatshila এসে সেখান থেকে ভাড়া গাড়িতে প্রায় ৬৬ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে পৌঁছনো যায়।
অন্যদিকে Bankura থেকেও সড়কপথে যাওয়া যায়, দূরত্ব প্রায় ৮৫ কিলোমিটার।
চাইলে Purulia শহর থেকেও টানা গাড়িতে পৌঁছনো সম্ভব। নিজস্ব গাড়ি থাকলে যাত্রা আরও সুবিধাজনক, কারণ আশপাশের গ্রাম ও জঙ্গল ঘুরে দেখতে স্বাধীনতা থাকে।
কোথায় থাকবেন?
দুর্গাডিতে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পঞ্চায়েত ট্যুরিজ়মের অধীনে কয়েকটি কটেজ। নদীর ধারে বা জঙ্গলের পাশে ছোট ছোট কটেজে থাকার অভিজ্ঞতা বেশ আলাদা।
বন্ধুদের সঙ্গে গেলে টেন্টে থাকার ব্যবস্থাও রয়েছে, যা রোমাঞ্চপ্রিয় ভ্রমণকারীদের জন্য আকর্ষণীয়। তবে ঘরের সংখ্যা সীমিত হওয়ায় আগে থেকে বুকিং করে নেওয়া জরুরি। রাজ্য পর্যটন দফতরের ওয়েবসাইটে অনলাইনে বুকিং করা যায়।
সব মিলিয়ে, যদি চান জঙ্গলের নির্জনতা, নদীর ধারে রাত্রিবাস আর প্রকৃতির সঙ্গে একান্ত সময়—তবে দুর্গাডি আপনার সপ্তাহান্তকে স্মরণীয় করে তুলতে পারে। শহরের কোলাহল থেকে দূরে, অথচ খুব বেশি দূরেও নয়—এই সহজ সমীকরণেই লুকিয়ে রয়েছে দুর্গাডির আসল আকর্ষণ।