সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
ভারতবর্ষের বুকে প্রথম মেট্রোরেল চলেছিল কলকাতায়। এবার কলকাতা শহরে মেট্রো রেলের পাশাপাশি কলকাতার চারপাশের গঙ্গায় চলবে ওয়াটার মেট্রো পরিষেবা। বৃহস্পতিবার নবান্নে কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরে এমন ঐতিহাসিক ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
কলকাতার জলপথ পরিবহণে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনেওয়ালের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সেরে শুভেন্দু অধিকারী জানান, এবার ‘ওয়াটার মেট্রো’ চেইনের সঙ্গে যুক্ত হতে চলেছে কলকাতা। কেরল-সহ দেশের ১৭টি জায়গায় ইতিমধ্যেই এই আধুনিক জল-মেট্রো প্রকল্প চালু হয়েছে। এবার দেশের ১৮তম শহর হিসেবে এই অভিজাত তালিকায় নাম লেখাতে চলেছে কলকাতা। এই প্রসঙ্গে পূর্বতন রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগের রাজ্য সরকার কোনও কেন্দ্রীয় প্রকল্পেই যুক্ত হয়নি, যার খেসারত আজ ভুগতে হচ্ছে সাধারণ রাজ্যবাসীকে।’
তিনি স্পষ্ট করে দেন, বর্তমান সরকার আর সেই নেতিবাচক পথে হাঁটবে না। এবার থেকে ‘সাগরমালা ২’ প্রকল্পেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হবে বাংলার সরকার। এই প্রকল্পের অধীনে রাজ্যে ৪৪টি নতুন জেটি তৈরি করা হবে। এর পাশাপাশি জাতীয় জলপথে আরও ২৫টি নতুন জেটি তৈরি করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
https://kolkatasaradin.com/2026/04/24/modi-kolkata-ganga-camera-tourist-role-during-election/
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সাগরমালা ১-এ বিগত রাজ্য সরকার যুক্ত হয়নি। তার খেশারদ বাংলাকে দিতে হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে যে কমিটি তৈরি করতে বলা হয়েছিল, তাও তৈরি করা হয়নি। তবে এবার খুব খুশির খবর পেয়েছি আমরা গতকালই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অনুমোদনে সাগরমালা -২ দেশে অনুমোদিত হয়েছে। সেখানে আমরা যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সাগরমালার প্রপোজাল আমরা তৈরি করব এবং ২২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার প্রস্তাবনা রেডি করব আগামী পাঁচ বছরের জন্য। সাগর কাকদ্বীপ, নামখানা থেকে শুরু করে খেজুরির তালপাটি থেকে ওড়িশার সীমান্তে উদয়পুর পর্যন্ত মৎস্যজীবীরা যে কষ্টে রয়েছেন, উপকূলীয় মৎস উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের উন্নয়ন করা হবে। ঝড়খালি, হিঙ্গলগঞ্জ থেকে শুরু করে বকখালি, সন্দেশখালি, গোসাবা, বাসন্তী- যতগুলি উপকূলীয় এলাকার উন্নয়ন করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘গতকাল প্রশাসনিক রিভিউ মিটিংয়ে কলকাতার মেয়রও তুলেছিলেন, অনেক বিধায়কও তুলেছিলেন হুগলি নদীতে আন্ডার টানেল। এটা মূলত জাতীয় সড়ক বিভাগের কাজ, তবে কলকাতা পোর্ট ট্রাস্ট ও শিপিং ডিপার্টমেন্ট অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে। ৪৪টি নতুন জেটি তৈরি হবে। তার এনওসি শ্য়ামা প্রসাদ পোর্ট ট্রাস্টের কাছে আটকে ছিল, ৪১টি এনওসি দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলি আন্ডার প্রসেস আছে। সমুদ্র সৈকত পুনর্গঠন নিয়েও আমাদের যে অনুরোধ ছিল, তাও জাহাজ মন্ত্রক মেনে নিয়েছে। কপিল মুনির মেলাকে আন্তর্জাতিক স্তরের মেলা বানানোর পরিকল্পনা শুরু করলাম। এখানে ড্রেজিং শুরু হবে। বলাগড়ে সড়ক উন্নয়নে কাজ শুরু হয়েছে।’