বিদেশে চিকিৎসার আবেদন খারিজ, এসএসকেএমে চিকিৎসার পরামর্শ হাইকোর্টের; অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে নতুন মোড়
সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
‘আপনি কি কখোনও এসএসকেএমে গিয়েছিলেন? এখানে আগে চিকিৎসা করে দেখুন, কী পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। মেডিক্যাল বোর্ড যদি মনে করে এই বিদেশ যাত্রা প্রয়োজনীয় তাহলে সমস্যা নেই।’ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশ যাত্রার আর্জি খারিজ করে এমন পর্যবেক্ষণ জানালেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। সোমবার মামলার শুনানিতে আদালত জানিয়ে দেয়, বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি সংক্রান্ত আবেদন নিয়ে চূড়ান্ত শুনানি আগামী আগস্ট মাসে হবে।
সোমবারের শুনানিতে আদালতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ওঠে। চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কতটা, তা আগে স্পষ্ট হওয়া দরকার। আদালতের বক্তব্য, কলকাতাতেই চোখের উন্নত চিকিৎসার জন্য একাধিক হাসপাতাল রয়েছে। সেই সব প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন কেন, তা নিয়ে আদালত জানতে চায়। শুনানির সময় আদালত আরও উল্লেখ করে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের কাছেই রয়েছে রাজ্যের অন্যতম বৃহৎ সরকারি হাসপাতাল এসএসকেএম। প্রয়োজনে ওই হাসপাতালেও তাঁর চোখের চিকিৎসা করানো সম্ভব বলে আদালত পর্যবেক্ষণ করে।
এদিন শুনানির সময়ে অভিষেকের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য ও সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা তদন্তে সহযোগিতা করেছি। আমাদের রক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়ানো হোক। ভয়েস স্যাম্পেল দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা করতে বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক।’ তখন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য সিঙ্গল বেঞ্চ বলেন, ‘আপনার চোখের চিকিৎসা কলকাতার হাসপাতালে করা হয়নি। আদালত আপনাকে তখন যেতে দিতে পারে যখন এখানে এই চিকিৎসা করা যাবে না।’ তখনই বিচারপতি প্রশ্ন করেন, ‘আপনি কি কখনও এসএসকেএম গিয়েছিলেন? চিকিৎসকরা একটা বোর্ড গঠন করুক। তারা সিদ্ধান্ত নেবেন আপনার চোখের অবস্থা এতটা খারাপ কি না? এতটা দূর ট্রাভেল করে যাবে কিনা।’
বিচারপতি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। সেক্ষেত্রে তাঁকে বিদেশযাত্রায় অনুমতি দেওয়া যাবে না। তবে অন্তর্বতী রক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়িয়েছেন বিচারপতি। পূজোর আগে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারবেন না তদন্তকারীরা।