সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণা অনুযায়ী বুধবার বিধানসভায় পাশ হয়ে গেল কলকাতা ও হাওড়া- রাজ্যের দুই গুরুত্বপূর্ণ পুরনিগমের ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের সংশোধনী বিল। পাশাপাশি এদিন বিল পেশের সময় হাওড়ার অনুন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলেও পূর্বতন সরকারকে তুলোধোনা করেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। ওয়ার্ড সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সীমানা পুনর্বিন্যাসকে আইনি বৈধতা দিতে আজ, বুধবার বিশেষ অধিবেশন ডেকেছিল রাজ্য বিধানসভা। এই অধিবেশনেই কলকাতা মিউনিসিপাল কর্পোরেশন সংশোধনী বিল, ২০২৬ এবং হাওড়া মিউনিসিপাল কর্পোরেশন দ্বিতীয় সংশোধনী বিল, ২০২৬ পাশ হয়ে গেল বিধানসভায়।
রাজ্য মন্ত্রিসভা ইতিমধ্যেই দুই বিল অনুমোদন করেছিল। প্রস্তাবিত কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে হবে ২০৯। অন্যদিকে হাওড়ায় ৫০টি ওয়ার্ডের পরিবর্তে হবে ৬৮টি ওয়ার্ড। অর্থাৎ দুই পুরনিগম মিলিয়ে মোট ৮৩টি নতুন ওয়ার্ড তৈরি হতে চলেছে।
হাওড়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা পুরনির্বাচনের প্রশ্নও ফের সামনে এসেছে। ২০১৮ সালের পর থেকে হাওড়া পুরসভার নির্বাচন হয়নি। ফলে নতুন ওয়ার্ড কাঠামো এবং পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে সেখানে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু করার পথ তৈরি করাই এখন রাজ্য সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
যদিও এই ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস কীসের ভিত্তিতে? তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম।
এক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর স্পষ্ট জবাব, ‘আমরা কোনও বাউন্ডারি টেনে লোকসংখ্যা নির্ধারণ করে নতুন মানচিত্র বানাচ্ছি না। এটার নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। সেই কাজটা করে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।’ এরপরেও অভিযোগ এবং দাবি জানানোর সুযোগ জনগনের থাকবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী জানান, ‘হাউসে এই বিল এনে আসন সংখ্যা নির্ধারণের জন্য আজ আমরা আলোচনায় অংশ নিলাম। এর পরের কাজ রাজ্য নির্বাচন কমিশনের।’ শুধু তাই নয়, দুটো সর্বদল বৈঠকও যে হবে তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। দ্য কলকাতা কর্পোরেশন মিউনিসিপ্যাল (সংশোধনী) বিল, ২০২৬ পেশের আগে এদিন আলোচনায় অংশ নেন কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র তথা বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম এবং প্রাক্তন কাউন্সিলর সজল ঘোষ। ফিরহাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনার তো আরও ৬ মাস মেয়াদ ছিল। তা শেষ হওয়ার আগেই আপনি পালালেন কেন? পুরসভা একটা সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রি। মানুষকে পরিষেবা আপনাকে দিয়ে যেতেই হবে। কিন্তু তা না করে আপনি পালিয়ে গেলেন।’ পালটা ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে প্রশ্ন না তুললেও কীসের ভিত্তিতে হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ফিরহাদ। তিনি বলেন, ‘আমি নীতিগত ভাবে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের বিরোধিতা করছি না। কিন্তু ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের কীসের নীতিতে হচ্ছে?’

এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন মেয়র আরও জানান, পুরো বিষয়টি আমলাদের হাতে ছেড়ে না দিয়ে, ইঞ্জিনিয়ারদের হাতে না ছেড়ে দিয়ে জন প্রতিনিধিদের যুক্ত করে সর্বদল বৈঠক করে করলে আরও ভাল হত। এর পালটা জবাব দিতে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানান, ‘হাউসে এই বিল এনে আসন সংখ্যা নির্ধারণের জন্য আজ আমরা আলোচনায় অংশ নিলাম। এর পরের কাজ রাজ্য নির্বাচন কমিশনের।’ শুধু তাই নয়, দুটো সর্বদল বৈঠকও যে হবে তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন এদিন মুখ্যমন্ত্রী।