সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
এবারে নয়া বিপাকে সাসপেন্ডের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। হুমায়ুনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ কর্মীকে প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগে তাঁর পুত্র গোলাম নবি আজাদকে গ্রেপ্তার করেছে শক্তিপুর থানার পুলিশ। রবিবার সকালে ওই পুলিশ কর্মী শক্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতেই বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে হুমায়ুনের বাড়িতে পৌঁছয় পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সময় বাড়ির ভিতর থেকে গেট বন্ধ থাকায় কিছুক্ষণ হুমায়ুনের বাড়ি ঘিরে রাখে পুলিশ। সেই সময় হুমায়ুনের ছেলে গোলাম নবি আজাদ বাড়ির ভিতরেই আত্মগোপন করে ছিলেন বলে অভিযোগ। পরে তিনি আত্মসমর্পণ করলে পুলিশ তাঁকে আটক করে। পুলিশ জানিয়েছে, হুমায়ুনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল জুম্মা খান রবিবার সকালে শক্তিপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, কয়েক দিন আগে ছুটির আবেদন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা বলার সময় হুমায়ুনের ছেলে গোলাম নবি আজাদ তাঁকে মারধর করেন। এই অভিযোগের তদন্ত করতেই পুলিশ হুমায়ুনের বাড়িতে যায় এবং পরে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।
হুমায়ুনের হুমকি যদি তার বাড়িতে পুলিশ কোন রকম অশালীন আচরণ করে তাহলে বৃহস্পতিবার বহরমপুর স্তব্ধ করে দেবে। পুলিশ সুপারের অফিস হাজার হাজার মানুষ নিয়ে ঘিরে নেবে। হুমায়ুনের পাল্টা অভিযোগ ওই কনস্টেবল দীর্ঘদিন ধরে অসহযোগিতা করছে। তাকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য তিনি আবেদন জানিয়েছিলেন। রবিবার সেই ডিউটিতে এলে তার ছেলে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এরপরই সে মিথ্যে অভিযোগ করে গিয়ে শক্তিপুর থানায়।
অন্যদিকে শক্তিপুর থানার পুলিশ হুমায়ুনের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীকে মারধরের অভিযোগে তার ছেলে রবিনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। হুমায়ুনের পার্সোনাল সিকিউরিটি অফিসার জুম্মা খান অভিযোগ করেছেন তিনি দেশের বাড়ি যাবেন বলে ছুটি চেয়েছিলেন কিন্তু এই কথা জানতে পেরেই তার ওপরে রবিবার সকালে ঝাঁপিয়ে পড়ে হুমায়ুনের ছেলে রবিন তাকে বেধড়ক মারধর করে। এই অভিযোগ খতিয়ে দেখতেই হুমায়ুনের বাড়িতে রবিবার দুপুরে যায় শক্তিপুর থানার পুলিশ। বাড়িতে প্রায় আধঘন্টা হুমায়ূনের ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।
রবিবার দুপুরে শক্তিপুর পুলিশ যখন তার বাড়িতে যায় সেই সময় হুমায়ুন কবীর ছিলেন বহরমপুরে। তিনি স্পষ্ট সেখান থেকে অভিযোগ করেন পুলিশ অন্যায় ভাবে তার বাড়িতে গিয়েছে। তার বাড়িতে তার স্ত্রী ছেলে এবং ছেলের বউ ছাড়া আর কেউ নেই। পুলিশ যদি কোনরকম বাড়ির লোকের গায়ে হাত দেয় তাহলে মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপারের অফিস ঘেরাও হবে। বহরমপুর স্তব্ধ করে দেওয়া হবে।
যদিও হুমায়ুনের এই হুমকি প্রসঙ্গে মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার এস সানি রাজ কোন মন্তব্য করেননি। তিনি শুধু বলেছেন, ঘটনার তদন্ত চলছে।এদিকে, হুমকি দেওয়ার পর এবার জামিনের ব্যবস্থা করছে হুমায়ুন কবীরের পুত্রের। শক্তিপুর থানায় আলোচনা করে গোলাম নবী আজাদ ওরফে রবিনের জামিনের ব্যবস্থা করেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। পাশাপাশি এই বিষয় নিয়ে তদন্ত চলবে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তদন্ত করা হবে বলে জানা গেছে।