ড্রাইভিং শেখার প্রস্তুতি নিতে বেরিয়ে আর ফেরা হল না সুমিত্রার, প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় পুকুর থেকে উদ্ধার গাড়ি ও দেহ

সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।

কলকাতা: সকালটা শুরু হয়েছিল একেবারে স্বাভাবিকভাবেই। মেয়েকে স্কুটিতে করে স্কুলে পৌঁছে দিয়েছিলেন সুমিত্রা দাস [Sumitra Das]। তারপর নিজের স্কুটি রেখে স্বামীর কেনা নতুন গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে বসেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল ড্রাইভিং শেখা, আগামী পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই যাত্রা পরিণত হল ভয়াবহ দুর্ঘটনায়।

 

কেষ্টপুর [Kestopur]-এর একটি পুকুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি পড়ে যায়। গাড়ির ভিতরেই আটকে পড়েন সুমিত্রা। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টার পর দমকল ও বাগুইআটি থানার পুলিশ [Baguiati Police Station] গাড়িটি জল থেকে তুলতে সক্ষম হয়। তবে ততক্ষণে সব শেষ।

 

মেয়েকে স্কুলে দিয়ে, নতুন গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছিলেন

 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কেষ্টপুরের প্রফুল্ল কানন [Prafulla Kanan, Kestopur] এলাকার বাসিন্দা সুমিত্রা বুধবার সকালে মেয়েকে স্কুটিতে করে স্কুলে দিয়ে আসেন।

 

এরপর স্কুটি বাড়িতে রেখে স্বামী কৃষ্ণেন্দু দাস [Krishnendu Das]-এর কেনা নতুন গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছিলেন তিনি। গাড়ি চালানো শেখার ইচ্ছা ছিল তাঁর। সেই লক্ষ্যেই নিয়মিত প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে।

 

পুলিশের দাবি, সুমিত্রার এখনও ড্রাইভিং লাইসেন্স হয়নি। আগামী ২২ অগস্ট তাঁর ড্রাইভিং পরীক্ষার কথা ছিল। তার আগে গাড়ি চালানোর অভ্যাস করতেই এ দিন সকালে বেরিয়েছিলেন তিনি।

 

কিন্তু আচমকাই ঘটে বিপত্তি।

 

ব্রেকের বদলে অ্যাক্সিলারেটরে পা?

 

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, কোনওভাবে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন সুমিত্রা। সম্ভবত ব্রেকের পরিবর্তে তাঁর পা অ্যাক্সিলারেটরে চলে যাওয়ায় গাড়িটি আচমকা এগিয়ে যায়।

 

এরপর রাস্তার ধার থেকে গাড়িটি পুকুরের দিকে চলে গিয়ে জলে পড়ে যায় বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে পুলিশ। তবে ঠিক কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল এবং বাগুইআটি থানার পুলিশ। পুকুরের জলে গাড়িটি কোথায় রয়েছে, তা শনাক্ত করার পর শুরু হয় উদ্ধার অভিযান।

 

দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় উদ্ধার

 

জলমগ্ন গাড়িটিকে পুকুরের মাঝামাঝি অংশ থেকে তুলতে বেশ বেগ পেতে হয় উদ্ধারকারী দলকে। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টার পর গাড়িটি জল থেকে বের করা সম্ভব হয়।

 

তারপরই সামনে আসে মর্মান্তিক দৃশ্য। গাড়ির ভিতরে পাওয়া যায় সুমিত্রার দেহ।

 

পুলিশ জানিয়েছে, গাড়ির ভিতরের অবস্থান দেখে মনে হয়েছে, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন ওই মহিলা। উদ্ধার করার সময় তাঁর মুখ পিছনের দরজার দিকের দিকে ছিল এবং পা স্টিয়ারিংয়ের দিকে ছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

 

তবে এই অবস্থান কীভাবে তৈরি হয়েছিল, তা তদন্তের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

 

২২ অগস্টের পরীক্ষার আগেই থেমে গেল সব

 

ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য পরীক্ষা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। মাত্র কয়েকদিন পরেই ছিল পরীক্ষা। তার আগেই নতুন গাড়ি নিয়ে শেখার সেই চেষ্টা এমন মর্মান্তিক পরিণতি নেবে, তা কেউ ভাবেননি।

একটি নতুন গাড়ি, লাইসেন্স পাওয়ার প্রস্তুতি এবং কয়েক মিনিটের একটি দুর্ঘটনা—সব মিলিয়ে কেষ্টপুরের এই ঘটনা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।

পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে যে মা নতুন গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছিলেন, তাঁর আর বাড়ি ফেরা হল না—কেষ্টপুরের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর এখন একটাই প্রশ্ন, ঠিক কোন মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল গাড়িটি?

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *