শৌভিক তালুকদার। কলকাতা সারাদিন।
মহারাষ্ট্রে বুধবার সাতসকালেই ঘটে গেল এক ভয়ঙ্কর বিমান দুর্ঘটনা। পুণে জেলার বারামতিতে অবতরণের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভেঙে পড়ে একটি প্রাইভেট জেট। দুর্ঘটনাগ্রস্ত ওই বিমানে ছিলেন মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা অজিত পাওয়ার। এই ঘটনায় গোটা রাজ্যজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি মুম্বই থেকে বারামতির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। বুধবার বারামতিতে অজিত পাওয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল। সেই সভায় যোগ দিতেই তিনি সকালে বিমানে চড়েন। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছনোর আগেই ঘটে যায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিমানটি রানওয়েতে নামার চেষ্টা করার সময় আচমকাই দুলতে শুরু করে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রানওয়ের কাছেই ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই বিমানটি থেকে আগুন ও ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। বিমানবন্দর চত্বরে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র আতঙ্ক।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই দমকল বাহিনী, পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। একাধিক অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত রাখা হয়। তবে দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে প্রথম থেকেই বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছিল।
ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন (DGCA) পরে এক বিবৃতিতে জানায়, বিমানে থাকা সকল আরোহীরই মৃত্যু হয়েছে। এই ঘোষণার পর পরিস্থিতি আরও শোকাবহ হয়ে ওঠে। অজিত পাওয়ার ছাড়াও বিমানে আরও ছয়জন ছিলেন বলে জানা গেছে। তাঁদের পরিচয় সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
সূত্রের খবর, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটি ছিল একটি ছোট প্রাইভেট জেট। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, অবতরণের সময় দৃশ্যমানতা কম থাকার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে। তবে যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্য কোনও কারণ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা। ডিজিসিএ এবং সংশ্লিষ্ট বিমান নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ পুরো ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পৌঁছতেই বারামতির উদ্দেশে রওনা দেন অজিত পাওয়ারের পরিবারের সদস্যরা। এনসিপি নেতৃত্ব এবং রাজ্যের শীর্ষ রাজনৈতিক মহলেও নেমে এসেছে গভীর শোক। বহু রাজনৈতিক নেতা সামাজিক মাধ্যমে শোকপ্রকাশ করেছেন এবং এই ঘটনাকে রাজ্যের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি বলে উল্লেখ করেছেন।
অজিত পাওয়ার মহারাষ্ট্র রাজনীতির এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুখ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি রাজ্যের প্রশাসন ও রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছেন। বিশেষ করে বারামতির সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গভীর। সেই বারামতিতেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটায় শোকের আবহ আরও গভীর হয়েছে।
দুর্ঘটনার ফলে বিমানটি কার্যত পুড়ে ছাই হয়ে যায়। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ধ্বংসাবশেষ। নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানবন্দর এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। উদ্ধার ও তদন্ত কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিমান চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এই মুহূর্তে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার সঠিক কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে ডিজিসিএর প্রাথমিক বিবৃতি অনুযায়ী, বিমানে থাকা কেউই প্রাণে বাঁচেননি। মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে এই ঘটনা এক গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে।
বারামতির আকাশে সেই সকাল শুরু হয়েছিল স্বাভাবিক ভাবেই। কিন্তু কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই সেই সকাল বদলে যায় এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে। মহারাষ্ট্র আজ হারাল তার অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাকে—যার প্রভাব ও উপস্থিতি রাজ্যের রাজনীতিতে বহুদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।