সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
‘ওটা তো বিজেপির অনুষ্ঠান, আমি কী করে যাব? নিরপেক্ষ কোনও অনুষ্ঠান হলে অবশ্যই যেতাম।’ ব্রিগেডে ৫ লক্ষ কন্ঠে গীতা পাঠের আসরে তাঁর না যাওয়ার কারণ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন মমতা। ব্রিগেডে ৫ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠের আয়োজন করেছিল আরএসএস ঘনিষ্ঠ সনাতন সংস্কৃতি সংসদ। রবিবার, ৭ ডিসেম্বর সেই অনুষ্ঠান হয়েছে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। সেই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকেও।
রাজ্যপালের ওইদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে গীতাপাঠে অংশ নিলেও অনুপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই নিয়ে বিজেপি নেতাদের তরফে তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। সোমবার কোচবিহার যাওয়ার পথে দমদম বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে তার জবাব দিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, ‘আমি কী করে যাব বিজেপির প্রোগ্রামে? এটা যদি নিরপেক্ষ কোনও অনুষ্ঠান হত, তাহলে আমি নিশ্চয় যেতাম। বিজেপির অনুষ্ঠানে যাই কীভাবে? আমি তো একটা পার্টি করি, আমার তো একটা ইডিওলজি আছে। আমি সব ধর্মকে সম্মান করি। সব বর্ণ, সব জাতিকে সম্মান করি। কিন্তু যেখানে বিজেপি সরাসরি যুক্ত, সেখানে আমি যাব কী ভাবে? যারা নেতাজিকে ঘৃণা করে, যারা গান্ধীজিকে মানে না। আমি তাদের সঙ্গে নেই। যারা নেতাজি, বিদ্যাসাগর, রামমোহন রায়দের অপমান করে তাদের সঙ্গে আমি নেই। আমার বাবা-মা আমাকে এই শিক্ষা দেয়নি। আমার বাংলা আমাকে এই শিক্ষা দেয়নি। আমি সব ধর্মকে সম্মান করি।’
ইন্ডিগো বিপর্যয় প্রসঙ্গে
গত কয়েকদিন ধরেই ইন্ডিগো ফ্লাইট বিভ্রাটে যাত্রীদের বিপুল হয়রানির জন্য কেন্দ্রকেই কাঠগড়ায় তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইন্ডিগো-সহ একাধিক উড়ানে চলমান বিভ্রাটে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে পাইলটদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি অচলাবস্থার রূপ নিয়েছে, আর তার জেরে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বেশ কয়েকদিন ধরে বিমান পরিষেবা না পাওয়ায় সবার খুব সমস্যা হচ্ছে। আমার মনে হয়, কোনও পরিকল্পনা না করায় এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হল। এটা বিপর্যয়। এর জন্য কেন্দ্র দায়ী। তাদের আগে থেকে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হতো। যাত্রীদের হয়রানি হচ্ছে। পাইলটদের উপরে অতিরিক্ত চাপ দিলে সে বিষয়ে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কিন্তু কোনও নির্দেশ দেওয়ার আগে বিকল্প ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। সাধারণ মানুষের কথা ভাবা উচিত। তিন হাজারের টিকিটের দাম ৫০ হাজার টাকা হয়ে গিয়েছে। বর-কনে বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারছে না। এরকম অচলাবস্থা আমি কোনও দিন দেখিনি। এটা একটা বিপর্যয়। সাধারণ মানুষকে এভাবে হয়রানি করার অধিকার কে দিয়েছে?’
মমতা আরও বলেন, ‘বিমান বাতিলের পর যাত্রীদের বলা হচ্ছে অন্য পথে যেতে। সেটা কি সম্ভব? বিমানে যেতে ২ ঘণ্টা লাগে, আর ট্রেনে সেই রাস্তাই ২৪ বা ৩৬ ঘণ্টা। তার উপর আবার আগাম টিকিট, রিজার্ভেশনের ব্যবস্থা করতে হয়। সবমিলিয়ে যাত্রীদের জন্য চূড়ান্ত ভোগান্তি। আসলে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার সবসময় ভোটের কথা ভাবে আর আমরা ভাবি মানুষের কথা। তাই যাত্রীদের এত সমস্যা নিয়ে আমরা গভীরভাবে চিন্তিত। যদি তাঁদের উদ্দেশ্য ফলপ্রসূ না-হয়… ৭-৮ দিন ধরে কাদের ভুগতে হচ্ছে? বিমানবন্দরের ভিতরে হাজার-হাজার, লক্ষ-লক্ষ যাত্রীদের বসে থাকতে হচ্ছে। তাঁরা বিক্ষুব্ধ। তাঁদের হয়রান করা হচ্ছে। তাঁদের উপর মানসিক অত্যাচার চালানো হচ্ছে। আমি কেন্দ্রকে অনুরোধ করব, কিছু একটা পরিকল্পনা করুন, যাতে অন্তত অর্ধেক বিমান সচল থাকে। বাকিটা অন্য কিছু ব্যবস্থা করুন। আমি জানি না ওরা (কেন্দ্র) কী করছে। দেশের বিষয়ে তাদের কোনও আগ্রহ নেই। বিজেপি সরকার শুধু তাদের নির্বাচন নিয়ে ভাবছে। কী ভাবে ভোট, ইভিএম, নির্বাচন কমিশন এবং সংস্থাগুলিকে নিজেদের দখলে রাখবে, তা নিয়েই ওরা আগ্রহী। কিন্তু ওরা জনগণের কথা ভাবে না। এটাই ওদের প্রধান সমস্যা।’