ব্রেকিং
  • Home /
  • পশ্চিমবঙ্গ /
  • TMC vs Ritabrata : ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা মান্যতা কোন নথিতে? হাইকোর্টের কড়া প্রশ্নে চাপে সরকার-অধ্যক্ষ, মঙ্গলবারই জমা দিতে হবে সব কাগজ

TMC vs Ritabrata : ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা মান্যতা কোন নথিতে? হাইকোর্টের কড়া প্রশ্নে চাপে সরকার-অধ্যক্ষ, মঙ্গলবারই জমা দিতে হবে সব কাগজ

শোভন দেবকে ছেড়ে কেন ঋতব্রত? স্পিকারের সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন রাজনৈতিক ঝড়, তথ্যপ্রমাণ চাইল কলকাতা হাইকোর্ট সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে বিরোধী দলনেতার পদ। বিধানসভায় (West Bengal Assembly) ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Ritabrata Banerjee) ঠিক কোন আইনি....

TMC vs Ritabrata : ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা মান্যতা কোন নথিতে? হাইকোর্টের কড়া প্রশ্নে চাপে সরকার-অধ্যক্ষ, মঙ্গলবারই জমা দিতে হবে সব কাগজ

  • Home /
  • পশ্চিমবঙ্গ /
  • TMC vs Ritabrata : ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা মান্যতা কোন নথিতে? হাইকোর্টের কড়া প্রশ্নে চাপে সরকার-অধ্যক্ষ, মঙ্গলবারই জমা দিতে হবে সব কাগজ

শোভন দেবকে ছেড়ে কেন ঋতব্রত? স্পিকারের সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন রাজনৈতিক ঝড়, তথ্যপ্রমাণ চাইল কলকাতা হাইকোর্ট সুমন....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন

শোভন দেবকে ছেড়ে কেন ঋতব্রত? স্পিকারের সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন রাজনৈতিক ঝড়, তথ্যপ্রমাণ চাইল কলকাতা হাইকোর্ট

সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে বিরোধী দলনেতার পদ। বিধানসভায় (West Bengal Assembly) ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Ritabrata Banerjee) ঠিক কোন আইনি ও প্রশাসনিক ভিত্তিতে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, সেই প্রশ্নেই এবার সরব কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)।

 

বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও (Justice Krishna Rao) সরাসরি জানতে চান, এই স্বীকৃতির পেছনে কী কোনও সরকারি নথি, আদেশ বা স্পিকারের আনুষ্ঠানিক নির্দেশ রয়েছে? শুধু তাই নয়, রাজ্য সরকার এবং বিধানসভার সচিবালয়কে আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে সমস্ত প্রাসঙ্গিক নথি আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

 

ঘটনার সূত্রপাত বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর। বিজেপি (BJP) সরকার গঠন করলেও ৮০ জন বিধায়ক নিয়ে প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা দাবি করে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে আবেদন জানায়। দলীয় সূত্রে শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়কে (Shovan Deb Chattopadhyay) বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করার প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছিল।

Dev on Mamata : “নতুন তৃণমূলে যাচ্ছি না, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আছি” অবস্থান স্পষ্ট করলেন দেব

কিন্তু রাজনৈতিক মহলকে চমকে দিয়ে স্পিকার রথীন্দ্র বোস (Speaker Rathindra Bose) সেই প্রস্তাবে সিলমোহর না দিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দেন। আর সেই সিদ্ধান্তকেই এবার আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়।

 

হাইকোর্টে এদিন মামলার শুনানিতে তৃণমূলের পক্ষে সওয়াল করেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও রাজ্যসভার সাংসদ মেনকা গুরুস্বামী (Menaka Guruswamy)। অন্যদিকে শোভন দেবের হয়ে আদালতে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)।

 

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য ছিল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। আদালতে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিরোধী দলনেতা নির্বাচন করার অধিকার শেষ পর্যন্ত কার হাতে থাকবে— রাজনৈতিক দলের, না কি অন্য কোনও সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষের?

 

তাঁর দাবি, বিধানসভায় যে দল প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে স্বীকৃত, সেই দলের নির্বাচিত বিধায়কদের মতামতের ভিত্তিতেই বিরোধী দলনেতা নির্বাচন হওয়া উচিত। আদালতে তিনি আরও বলেন, “যাঁকে বিরোধী দলনেতা বলা হচ্ছে, তিনি বৈঠক করছেন, দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু তাঁর নিয়োগ সংক্রান্ত কোনও আনুষ্ঠানিক সরকারি নির্দেশ বা নথি এখনও সামনে আসেনি।”

 

এই বক্তব্যের পর বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের পর্যবেক্ষণ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন ফেলেছে। বিচারপতি স্পষ্ট জানান, যদি দেখা যায় যে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, তাহলে আদালত অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।

 

শুনানির সময় বিচারপতি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে যাঁর নাম বিরোধী দলনেতা হিসেবে সামনে আসছে, তিনি কোনও স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের সদস্য কি না, সেটিও বিবেচনার বিষয়।

 

এদিকে মামলার শুনানি চলাকালীন রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সময় চাওয়া হয়। সেই সময় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের আবেদন জানালেও স্পিকারের পক্ষের আইনজীবীরা তার বিরোধিতা করেন।

 

ফলে আপাতত কোনও স্থগিতাদেশ জারি করেনি আদালত। তবে নথি জমা দেওয়ার নির্দেশকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। কারণ, আগামী শুনানিতে এই নথিগুলিই মামলার ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণ করতে পারে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, বিষয়টি শুধু একটি পদ নিয়ে আইনি লড়াই নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিরোধী রাজনীতির সাংবিধানিক মর্যাদা, বিধানসভার রীতি-নীতি এবং স্পিকারের ক্ষমতার সীমা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

এখন নজর আগামী সপ্তাহের শুনানির দিকে। আদালতে জমা পড়া নথি কি স্পিকারের সিদ্ধান্তকে বৈধতা দেবে, নাকি নতুন করে রাজনৈতিক অস্বস্তি বাড়াবে? মঙ্গলবারের শুনানির আগে সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে রাজ্যের রাজনৈতিক অন্দরে। আর তাই একটাই প্রশ্ন— বিরোধী দলনেতার আসনে শেষ পর্যন্ত কার সিলমোহর পড়বে?

 

আজকের খবর