সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বড় স্বস্তি পেলেন রাজ্যের কারামন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা। তাঁর জামিন বহাল রাখল বিশেষ ইডি আদালত। রাজ্যের মন্ত্রীকে হেফাজতে চেয়ে ইডি যে আবেদন করেছিল, তা খারিজ করে দিলেন বিচারক শুভেন্দু সাহা। তবে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার (২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর) ইডি আধিকারিকরা জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন রাজ্যের কারামন্ত্রীকে।
স্বস্তিতে কারামন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা। মঙ্গলবার জামিন বহালের রায় দিল ব্যাঙ্কশাল কোর্ট। তবে আদালত জানিয়েছে, হেফাজত নয় তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মন্ত্রীকে বারংবার ডাকতে পারে ইডি। প্রসঙ্গত, শনিবার ব্যাঙ্কশাল কোর্টে কারামন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ-এর মামলায় শুনানির সময় কারামন্ত্রীকে ৭ দিনের জন্য হেফাজতে নেওয়ার আর্জি জানিয়েছিল ইডি।
দাবি করা হয়, তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সেই সঙ্গে আর কোন কোন কারণে তাঁকে হেফাজতে নিতে চাইছে ইডি? সে বিষয়েও আদালতে কেস ডায়েরিও পেশ করা হয়েছিল। কিন্তু রায় দান হয়নি, মঙ্গলবার পরবর্তী শুনানির দিন রাখা হয়েছিল। আদালতে ইডি-র আইনজীবী দাবি করেন, কারামন্ত্রীর বিরুদ্ধে যা যা তথ্য প্রমাণ রয়েছে, তা তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু হেফাজতের কথা উঠতেই তার বিরোধিতা করেন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ-র আইনজীবী।
আদালত সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা যখনই মন্ত্রীকে তলব করবে তখনই হাজিরা দিতে হবে, তদন্তকারীদের সঙ্গে সব ধরনের সহযোগিতাও করতে হবে মন্ত্রীকে। একইভাবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি কেও মেনে চলতে হবে কিছু নির্দেশ। মন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হলেও জেরা পর্ব শেষ করতে হবে বিকেল পাঁচটার মধ্যে। অর্থাৎ রাতভর জেরার সম্ভাবনা এই মুহূর্তে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে রইল না বলেই মত আইন বিশেষজ্ঞদের।
প্রসঙ্গত, বহিষ্কৃত তৃণমূল যুবনেতা কুন্তল ঘোষের জবানবন্দিতেই প্রথম উঠে আসে মন্ত্রীর নাম। এরপর চন্দ্রনাথের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখে একাধিক বড়সড় লেনদেনের হদিস পায় ইডি।
ইডি-র দাবি, প্রায় ১৫৯ জন প্রার্থীর কাছ থেকে গড়ে ৮ লক্ষ টাকা করে নিয়েছিলেন মন্ত্রী। অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ১২.৭২ কোটি টাকা। কিন্তু এত বিপুল অর্থ কোথায় গেল, তার কোনও উত্তর এখনও মেলেনি।
শনিবারই আদালত থেকে বেরোনোর সময় মন্ত্রী জানিয়েছিলেন আইনের প্রতি তাঁর আস্থা ছিল এবং আগামী দিনেও থাকবে। এদিন তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশ মেনেই চলব।
এখন দেখার, তদন্ত প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে নতুন কোন তথ্য আদালতে হাজির করতে পারে কি না।