রাহুল সিংহ মজুমদার। কলকাতা সারাদিন।
সোনারপুরের বাসিন্দা তরুণীকে লাগাতার ধর্ষণের অভিযোগ হোটেল মালিকের বিরুদ্ধে। এদিকে এই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টায় প্রভাবশালী নেতাদের নামও উঠে এসেছে।
নির্যাতিতা খোদ এক তৃণমূল নেত্রীর নামে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তাঁর। তবে গোটা ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই, অভিযোগ অস্বীকার দমদম-ব্যারাকপুরের জেলা মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রী।
নির্যাতিতার অভিযোগ, ‘আমার সঙ্গে প্রথমে আলাপ হওয়ার পরে, দুবার আমি ওনার অফিসে যাই। তারপর উনি জোর জবরদস্তি ধর্ষণ করেন। সেটাতে আমি ভেঙে পড়ায়, উনি আমাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে, একটা সম্পর্কে এগোন। এরপর আমি যখন বলি আমাকে বিয়ে করে রেজিস্ট্রি ম্যারেজ করতে, তখন উনি আমার কিছু প্রাইভেট ফটো তুলে নিয়েছিলেন, সেগুলি নিয়ে আমায় ব্ল্যাকমেল করেন। এবং বারংবার এভাবে অত্যাচার করেন। কল্যাণী এক্সপ্রেস ওয়েতে, ওনার হোটেল। ওখানেই উনি আমাকে ডাকতেন, বারংবার। ওখানে আমি যেতাম। ওখানেই উনি আমার ভিডিওটি তুলেছিলেন। ওখানেই আমার সঙ্গে এই ধরণের জিনিসগুলি করেছেন দিনের পর দিন।’
তিনি অভিযোগ জানিয়ে আরও বলেন,’ বিভিন্ন রকমের পলিটিক্যাল লোকেরা আমাকে ভয় দেখাতেন।উনি বলতেন, ওনার সঙ্গে সব পলিটিক্যাল লোক আছে। নাগেরবাজার এলাকায় এক তৃণমূল নেত্রী, উনি আমাকে ওনার বাড়িতে ডাকেন। বলেন যে এই জিনিসটা মিটিয়ে দেবেন। আমি যখন ওখানে যাই, উনি আমাকে একটা ব্লাইন্ড কোর্ট পেপারে জোর জবরদস্তি সই করান।

বলেন যে, এটা তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পাঠাবেন। তখন আমি না বলি। আমি ব্লাইন্ড কোর্ট পেপারটা চাই।.. ওনার বাড়ির সামনে ওয়েট করায়, উনি ওখানকার লোক দিয়ে, আমাকে এবং আমার মায়ের উপর অত্যাচার করেন। এবং তাতেও আমরা বাড়ির সামনে থেকে না যাওয়ায়, উনি নাগেরবাজার থানা থেকে, পুলিশ অফিসার পাঠিয়ে আমাকে চার-পাঁচ ঘণ্টা ওখানে বসিয়ে রাখেন।’