সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
“পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা হলে তা হবে ‘পাক অধিকৃত কাশ্মীর পুনরুদ্ধার’ নিয়েই।” এভাবেই আরো একবার ভারত পাক উত্তেজনার আবহে অপারেশন সিঁদুর নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করতে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় ভারত সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন ভারতীয় সংসদ প্রতিনিধি দলের অন্যতম সদস্য তথা তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জাকার্তার মঞ্চে দাঁড়িয়ে ফের একবার পাকিস্তানের সন্ত্রাসের মুখোশ খুলে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড, সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, প্রবাসী ভারতীয়দের উদ্দেশে তাঁর আহ্বান, এবার পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা হলে তা হবে ‘পাক অধিকৃত কাশ্মীর পুনরুদ্ধার’ নিয়েই!
এদিন পাকিস্তানের সন্ত্রাসের বিষবৃক্ষ তুলে ধরে ভারতের জাতীয় ঐক্যের এক অনবদ্য বার্তা দেন তৃণমূল সাংসদ। মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিনিধি দলের গঠনই দেখুন। আমার শাসক দলের সঙ্গে মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থের উর্ধ্বে আমি আমার রাজনৈতিক মতবাদকে স্থান দিই না। আমি আমার কাজ করে যাব দেশের স্বার্থেই।” এই বক্তব্য দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভেদকে ছাপিয়ে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে একজোট হওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে।
বিভিন্ন দেশ সফরের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে অভিষেক আরও বলেন, “আমরা বহু দেশে সফর করেছি। যাদের সঙ্গেই দেখা করেছি, সবার অভিমত এক। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের লড়াইয়ে তারা পাশে আছে। প্রত্যেককে নিজের নিজের অবস্থান থেকে এই ইস্যুকে তুলে ধরতে হবে। পাকিস্তানের মুখোশ খুলে দিতে হবে।” অভিষেকের এই জোরালো বার্তা আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানকে আরও দৃঢ় করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
শনিবার জাকার্তায় প্রবাসী ভারতীয়দের সমাবেশে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের ছত্রে ছত্রে ফুটে উঠেছে দেশের প্রতি তাঁর অটল নিষ্ঠা এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারতের কঠোর অবস্থান। বক্তব্যের শেষ লগ্নে যখন তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন, “আমি একটা অনুরোধ করব, আপনারা রাখবেন?”, তখন দর্শকাসন থেকে তুমুল করতালির মাধ্যমে ইতিবাচক সাড়া মিলল।

আর তারপরই অভিষেকের সেই সোজাসাপটা আহ্বান, “আপনারা যদি ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন, তাহলে সেই ভ্রমণের সঙ্গে অতিরিক্ত তিনটে দিন যোগ করুন। যদি সাতদিনের জন্য যাওয়ার পরিকল্পনা থাকে, তাহলে তা বাড়িয়ে ১০ দিন করুন। তিনটি দিন কাশ্মীরে থেকে আসবেন। কাশ্মীরের পর্যটন ও অর্থনীতি উপকৃত হবে।” এই আহ্বান শুধু কাশ্মীরের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার বার্তা দেয়নি, বরং উপত্যকার স্বাভাবিকতা ও নিরাপত্তার প্রতিও এক অটুট বিশ্বাস স্থাপন করেছে।