সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
‘ইডির তদন্তে কোনও মুখ্যমন্ত্রীর ঢুকে পড়াটা অনভিপ্রেত। ভবিষ্যতে যদি অন্য কোনও মুখ্যমন্ত্রীও এ ভাবে অন্য কোনও দফতরে প্রবেশ করেন, তখন তার বিচার কী ভাবে হবে?’ এভাবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট।
সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক মামলায় সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নথি চুরির অভিযোগ এনেছিল ইডি। সঙ্গে অভিযোগ করা হয়, ইডি হানার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ মুছে দেওয়া হয়েছিল। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। গত ৮ জানুয়ারি আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশির সময় আসেন মুখ্যমন্ত্রী। খালি হাতে ঢুকে যান প্রতীকের বাড়িতে। তারপর সবুজ ফাইল হাতে বেরিয়ে আসেন। সেখানে তৃণমূলের হার্ডডিস্ক, কৌশল সংক্রান্ত নথি আছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। পরে সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিস থেকে একগুচ্ছ নথি তোলা হয় গাড়িতে। পরে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কাগজ, নথি, ফাইল পড়েছিল। সেগুলো তৃণমূলের কাগজপত্র। সেগুলিই গাড়িতে তোলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। সেখানে ফের সময় চেয়ে আবেদন জানায় রাজ্য সরকার। যা নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলে সলিসেটর জেনারেল তুষার মেহতা অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী তদন্তে বাধা দিচ্ছেন এবং রাজ্য ইচ্ছাকৃতভাবে সময় নষ্ট করছে। এদিন সওয়াল করতে উঠে রাজ্যের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান ইডির মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই বড়সড় প্রশ্ন তোলেন। তাঁর প্রধান যুক্তিগুলি ছিল, সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কেবল একজন নাগরিক বা আইনি কর্পোরেট সংস্থা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্ন তুলে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন। ইডি কোনও ‘জুরিস্টিক এনটিটি’ নয়, তাই তাদের এই পিটিশন গ্রহণযোগ্য নয়। শুনানি চলাকালীন সলিসেটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, ‘এটি অত্যন্ত আশ্চর্যের যে একজন মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে সরাসরি হস্তক্ষেপ করছেন। তদন্ত চলাকালীন তাঁর এভাবে ঢুকে পড়া অত্যন্ত ‘আনইউজুয়াল’ বা অস্বাভাবিক।’

সেই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র বলেন, ‘মামলা করার অধিকার কার রয়েছে এই নিয়ে সওয়াল করা হচ্ছে? মুখ্যমন্ত্রী যদি তদন্তে ঢুকে পড়েন, তা হলে ইডি কী করবে? যদি আর্টিকেল ৩২ বা আর্টিকেল ২২৬ অনুযায়ী মামলা করা না যায়, তাহলে কী করা যাবে? কাল অন্য কোন মুখ্যমন্ত্রী একই কাজ করতে পারেন।’