শৌভিক তালুকদার। কলকাতা সারাদিন।
বিশ্বের দিকে-দিকে গোলমাল, ঝঞ্ঝাট, বিক্ষোভ। এবার মার্কিন মুলুক। লস অ্যাঞ্জেলেসে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চলছে অভিযান (Anti-Immigration Protests in Los Angeles)। সেই অভিযানে পাঁচ দিন ধরে সেখানে ব্যাপক প্রতিবাদ বিক্ষোভ, হিংসা ও লুটপাট চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লস অ্যাঞ্জেলেসের কেন্দ্রস্থলে তাই আংশিক কারফিউ জারি করেছেন শহরের মেয়র ক্যারেন ব্যাস।
আজ, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সেখানে প্রায় ৪০০ জন গ্রেফতার হয়েছেন। আগামী বেশ কয়েকদিন কারফিউ বলবৎ (curfew imposed) থাকবে।
রাত ৮টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত
লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের প্রশাসন মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠিয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে। সেই বার্তায় বলা হয়েছে, লস অ্যাঞ্জেলেস শহর ঘোষণা করছে, রাত ৮টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কারফিউ বলবৎ থাকবে। কাজে যাওয়া বা কাজ থেকে ফিরে আসা, জরুরি চিকিৎসা নেওয়া বা দেওয়ার জন্য বের হওয়া এবং বিভিন্ন জরুরি বিভাগে যাঁরা কর্মরত সেই সব কর্মীরা কারফিউমুক্ত থাকবেন! আগামী বেশ কয়েকদিন কারফিউ বলবৎ থাকবে।
ট্রাম্পের নির্দেশে
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে কয়েকশো মার্কিন মেরিন সেনা হাজির হয় লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে। এর পাশাপাশি লস অ্যাঞ্জেলেসে বিক্ষোভ দমনের লক্ষ্যে ট্রাম্প সেখানে ন্যাশনাল গার্ডের চার হাজার সেনাও মোতায়েন করেছেন।
‘ট্রাম্পের মুখোমুখি দাঁড়ান’
যদিও ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর ট্রাম্পের এইসব পদক্ষেপে আপত্তি জানিয়ে সেনা মোতায়েনকে অপ্রয়োজনীয় অবৈধ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন। এমনকি, এক ভাষণে তিনি আমেরিকানদের ‘ট্রাম্পের মুখোমুখি দাঁড়ানো’র আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এই মুহূর্তে আমাদের সকলকে উঠে দাঁড়াতে হবে। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট তার অঙ্গরাজ্যের শহরগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসনের অবৈধ অভিবাসী দমন অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ায় ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর নিশ্চিত করেছেন।
অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের চলতি অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্যান ফ্রান্সিসকো, শিকাগো, নিউ ইয়র্ক, ওয়াশিংটন, ফিলাডেলফিয়া, ডালাস, অস্টিন ও আটলান্টা-সহ বিভিন্ন শহরে ছড়িয়েছে।