শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
“আমরা চাইনি কারও চাকরি যাক, শুধুমাত্র অযোগ্যদের বাদ দেওয়া হোক আমরা এটাই বলেছিলাম।” ২৫৭৫২ চাকরি ছাঁটাই নিয়ে দাবি করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গতকালই অভিযোগ করে বলেছিলেন যে, বিজেপি ও সিপিআইএম মিলিতভাবে এই চাকরি বাতিলের জন্য দায়ী। এদিন তা খারিজ করে দিলেন তিনি।
বৃহস্পতিবারই সুপ্রিম কোর্ট এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় ২০১৬-র গোটা প্যানেল বাতিল করে দিয়েছে। যার জেরে চাকরি হারিয়েছেন ২৫৭৫২ জন। আর এর পর থেকে এই ইস্যুতে সরব বিরোধীরা। আজ ফের একবার শীর্ষ আদালতের নির্দেশে ২৬ হাজার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীর চাকরি বাতিলের দায় সরাসরি রাজ্য সরকার ও স্কুল সার্ভিস কমিশনের উপর চাপালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
শুক্রবার বিধানসভার বাইরে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর প্রেস কনফারেন্স শুনে মনে হচ্ছিল চোরের মায়ের বড় গলা!” তিনি অভিযোগ করেন যে, “সুপ্রিম কোর্ট বহুবার সুযোগ দিলেও রাজ্য সরকার ও এসএসসি যোগ্য-অযোগ্যদের তালিকা আলাদা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এসএসসি-র বেশিরভাগ কাজ নাকতলার বাড়ি থেকে চালানো হত”, বলেও দাবি করেছেন শুভেন্দু। শুভেন্দু অধিকারী আরও অভিযোগ করে বলেন যে, “পার্থ চট্টোপাধ্যায় পুরো এসএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের বিভিন্ন অফিসারই পার্থের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ৬০০০ শূন্যপদের যে ফর্মুলা বের করা হয়েছে, তা দুর্নীতিগ্রস্ত মনীশ জৈনের পরিকল্পনা”।
যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দুর পরামর্শ, “যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা সুপ্রিম কোর্টে আপিল করুন। আপনারা আবার আইনি লড়াই করুন, যোগ্যদের চিন্তার কিছু নেই। তাঁদের পাশে আমরা আছি”।
তিনি আরও দাবি করেন, “পরবর্তী এসএসসি নিয়োগের দায়িত্ব রাজ্য সরকারকে না দিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দেওয়া হোক”। কিন্তু তাতে কি আদৌ কোনো লাভ হবে? সেই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য অধরা। বিরোধীদের দাবির প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকা মহল।