সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
বাংলায় নতুন করে শিল্প বিপ্লব। রাজ্যে শিল্প পরিকাঠামো সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বড় ঘোষণা করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পশ্চিমবঙ্গ শিল্প পরিকাঠামো উন্নয়ন নিগমের (WBIDTC) অধীনে রাজ্যজুড়ে মোট ৮টি নতুন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক তৈরি হতে চলেছে। সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তিনি ঘোষণা করেন, কল্যাণী, হাওড়া, বিষ্ণুপুর এবং ফলতা-সহ মোট ৮টি জায়গায় নতুন শিল্প পার্ক তৈরি হবে। এর পাশাপাশি, উত্তরবঙ্গের কোচবিহার জেলাতেও আরও দুটি নতুন শিল্পপার্ক তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুধু নতুন পার্ক তৈরিই নয়, একইসঙ্গে শিল্পপতিদের জন্য নতুন প্লটও বরাদ্দ করা হচ্ছে। উলুবেড়িয়া, বিষ্ণুপুর, ফলতা, কল্যাণী এবং কোচবিহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে শিল্পের প্রয়োজনে এই প্লটগুলি দেওয়া হবে। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তে শিল্পমহলে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই নয়া উদ্যোগ রাজ্যের শিল্প মানচিত্রে কতটা বদল আনে, সেটাই এখন দেখার।
দিঘায় জগন্নাথ মন্দির ও কলকাতায় দুর্গা অঙ্গনের পর, এবার উত্তরবঙ্গের মাটিগাড়ায় মহাকাল মন্দির তৈরি করতে সরকারিভাবে জমি বরাদ্দ করল রাজ্য মন্ত্রিসভা৷ সোমবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানালেন রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য৷
পর্যটন দফতরের অধীনে মহাকাল মন্দির ও সাংস্কৃতিক পর্যটন কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে৷ এ দিন সেই জমি হস্তান্তরের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও মোট জমির পরিমাণ কত, তা জানান চন্দ্রিমা৷ তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী আগেই ঘোষণা করেছিলেন যে, উত্তরবঙ্গের মাটিগাড়ায় মহাকাল মন্দির তৈরি করা হবে৷ আজ মন্ত্রিসভায় সেই প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে৷ 25.15 একর জমি, যা আগে লক্ষ্মী টাউনশিপ অ্যান্ড হোল্ডিংস লিমিটেডের লিজ হোল্ডে ছিল, সেটি এসজেডিএ-র কাছে আসবে৷ তার মধ্যে 17.41 একর ভ্যাকেন্ট ও আনইউটিলাইজড জমি পর্যটন দফতরের হাতে ইন্টার-ডিপার্টমেন্টাল ট্রান্সফারের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হবে৷”
তিনি আরও জানান, এই জমি দার্জিলিং জেলার মাটিগাড়া থানা এলাকার উজানো মৌজা (জে.এল. নম্বর 86) এবং গৌরচরণ মৌজায় (জে.এল. নম্বর 81) অবস্থিত ৷ জমি পর্যটন দফতরের অধীনে যাওয়ার পর সেখানে মহাকাল মন্দির, কালচারাল সেন্টার গড়ে উঠবে ৷ পর্যটন দফতরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সংশ্লিষ্ট মহাকাল মন্দিরের পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলবে বলেও জানান চন্দ্রিমা ৷ প্রসঙ্গত, উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহাকাল মন্দির তৈরির কথা ঘোষণা করেছিলেন ৷ এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে সেই প্রকল্পের সিলমোহর দিল সরকার ৷
এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ৷ যেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, উত্তরবঙ্গে নতুন কনভেনশন সেন্টার তৈরি করা হবে ৷ বর্তমানে রাজ্যে দু’টি বড় কনভেনশন সেন্টার রয়েছে ৷ একটি কলকাতার নিউ টাউনে এবং অন্যটি দিঘায় ৷ তৃতীয় কনভেনশন সেন্টারটি হবে দার্জিলিংয়ের ডাবগ্রাম মৌজায়৷

অর্থ প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ডাবগ্রাম মৌজায় 10 একর জমিতে নতুন একটি কনভেনশন সেন্টার তৈরি হবে৷ জমিটি এশিয়ান হাইওয়ে-2 সংলগ্ন ‘তিস্তা টাউনশিপ’ অঞ্চলে রয়েছে ৷ উত্তরবঙ্গে বড় আকারের আন্তর্জাতিক মানের কনভেনশন সেন্টারের প্রয়োজন বহুদিনের ৷ অবশেষে সরকার সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকে এগলো ৷”