শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পরের দিনই প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দিল বিজেপি। বিজেপি-র প্রার্থী তালিকায় সবথেকে বড় চমক নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুরেও প্রার্থী করা হচ্ছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে। গতবার বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে লড়েছিলেন শুভেন্দু। লড়াইটা এক থাকছে। শুধু ‘পিচটা’ পালটে যাচ্ছে। কারণ ভবানীপুরে বিজেপি টিকিট দিল শুভেন্দু অধিকারীকে। যে আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের সম্ভাব্য প্রার্থী হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এবার ঠিক সেই কাজটা শুভেন্দুর মাধ্যমে করল বিজেপি। যিনি নিজের কেন্দ্র নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুর থেকেও লড়বেন। গত সপ্তাহে দিল্লিতে যখন বিজেপির প্রার্থী তালিকা নিয়ে আলোচনা হয়, তখন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ দুজনেই আলাদা করে ভবানীপুরের ব্যাপারে শুভেন্দুকে প্রশ্ন করেছিলেন। শুভেন্দু তখনও বলেছিলেন, উপযুক্ত কাউকে না পেলে আমাকে লড়তে দিন। আমি লড়ব। সূত্রের খবর, এর পর এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কথা বলেন অমিত শাহ। মোদীর থেকে সবুজ সঙ্কেত নেন। তার পর শুভেন্দুকে আলাদা করে তা জানিয়েও দেন অমিত শাহ। এবার প্রথম দফার নির্বাচনে ভোট হবে নন্দীগ্রামে। দ্বিতীয় দফায় ভোট হবে ভবানীপুরে। অর্থাৎ নন্দীগ্রামে ভোট শেষ হয়ে যাওয়ার পর ভবানীপুরে আরও সময় দিতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারী বর্তমানে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম কেন্দ্রের বিধায়ক। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি নন্দীগ্রাম আসন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রায় দুই হাজার ভোটে জয়লাভ করেছিলেন। ওই নির্বাচনে প্রথমে ভবানীপুর আসনটি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় জিতেছিলেন। পরে তিনি পদত্যাগ করলে ভবানীপুর কেন্দ্রের উপনির্বাচনে প্রার্থী হয়ে জয়ী হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারের নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
আবার হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের আসন খড়্গপুর সদর থেকে দিলীপ ঘোষ টিকিট পেলেন। অতীতে খড়্গপুর সদর থেকেই বিজেপির টিকিটে জিতেছিলেন দিলীপ। ফলে নিজের গড়েই প্রত্যাবর্তন হল বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতির। হিরণ ‘ধাক্কা’ খেলেও অপর অভিনেতা-রাজনীতিবিদ রুদ্রনীল ঘোষকে শিবপুর থেকে প্রার্থী করল বিজেপি। প্রথম দফায় নয়াদিল্লি থেকে আজ রাজ্যের ১৪৪টি আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি। বরানগর থেকে প্রার্থী করা হয়েছে সজল ঘোষকে। বিজেপি-র যাঁরা বর্তমান বিধায়ক, তাঁদের অধিকাংশকেই ফের টিকিট দিয়েছে দল। বিজেপি সূত্রে আগেই জানা গিয়েছিল যে, বর্তমান বিজেপি বিধায়কদের অধিকাংশই এ বার টিকিট পাবেন। সেই অনুযায়ী প্রথম দফার প্রার্থী তালিকায় চেনা মুখেরই আধিক্য দেখা গিয়েছে। তবে বালুরঘাট কেন্দ্রে প্রার্থী করা হল না বর্তমান বিধায়ক অশোক লাহিড়ীকে। ওই বিদ্যুৎ রায়কে প্রার্থী করা হয়েছে ওই আসনে। বর্তমান বিধায়কদের মধ্যে আসানসোল দক্ষিণে প্রার্থী করা হয়েছে অগ্নিমিত্রা পালকে। বাঁকুড়ার শালতোড়া কেন্দ্রে এ বারও প্রার্থী হচ্ছেন চন্দনা বাউড়ি। জলপাইগুড়ির ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্রে এ বারেও প্রার্থী করা হয়েছে শিখা চট্টোপাধ্যায়কে। কোচবিহারের তুফানগঞ্জে ফের প্রার্থী হয়েছেন মালতী রাভা রায়। শিলিগুড়ি কেন্দ্রে এ বারও প্রার্থী হচ্ছেন বিধানসভায় বিজেপির মুখ্য সচেতক শঙ্কর ঘোষ। ভাটপাড়ায় এ বারও প্রার্থী হয়েছেন অর্জুন সিংহের পুত্র পবন সিংহ
বর্তমান বিধায়কদের মধ্যে টিকিট পেয়েছেন কোচবিহার উত্তরের সুকুমার রায়, কুমারগ্রামের মনোজ ওঁরাও, কালচিনিতে বিশাল লামা, ফালাকাটায় দীপক বর্মণ, নাগরাকাটায় পুনা ভেংরা। বিধায়কদের মধ্যে মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির আনন্দময় বর্মণ, ফাঁসিদেওয়ার দুর্গা মুর্মু, তপনের বুধরাই টুডু, গঙ্গারামপুরের সত্যেন্দ্রনাথ রায়, হবিবপুরের জুয়েল মুর্মু, গাজোলের চিন্ময় দেববর্মণ, দুর্গাপুর পশ্চিমের লক্ষ্মণ ঘোড়ুইও। দুর্গাপুর পূর্ব থেকে সাংগঠনিক ক্ষমতার নিরিখে প্রার্থী হয়েছেন চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়।

দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জে প্রার্থী করা হয়েছে বিজেপির রাজ্য ওবিসি মোর্চার সভাপতি শুভেন্দু সরকারকে। উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জে প্রার্থী বদল হয়েছে। বর্তমান বিধায়ক সৌমেন রায়ের বদলে টিকিট পেয়েছেন উৎপল মহারাজ। বীরভূমের সিউড়ি থেকে দ্বিতীয় বারের জন্য টিকিট পেলেন রাজ্য বিজেপির সহ সভাপতি জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ জেলায় বিজেপি দু’টি আসন পেয়েছিল। বহরমপুরে জিতেছিলেন সুব্রত মৈত্র আর মুর্শিদাবাদে গৌরীশঙ্কর ঘোষ। ওই দুই আসনে এ বারও তাঁদের দু’জনকেই প্রার্থী করা হয়েছে। বেলডাঙায় প্রার্থী করা হয়েছে একদা অধীর চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তথা বেলডাঙা পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধান ভরত ঝাওয়ারকে।