শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
‘ছেলের থেকে ১১ বছরের ছোট মা। এসআইআর এর দৌলতে আর কত রঙ্গ দেখবে বঙ্গ !!! ছেলের বয়স ৭৬, মায়ের বয়স ৬৫ !’ উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর রামনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের একটি ভোটার লিস্টের ছবি পোস্ট করে এমন তীব্র ব্যঙ্গ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
এইভাবে বাংলায় ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে নানা ধরনের দুর্নীতি করা হচ্ছে বলে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সরকারকে আক্রমণ করে শুভেন্দু অধিকারী নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভার রামনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ২৬৪ নং বুথের ৭৬ বছর বয়সী ভোটার – আব্দুল মজিদ সেখ এর নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
ঐ ব্যক্তির বয়স বর্তমান ভোটার তালিকা (সিরিয়াল নাম্বার ৩১৪) অনুযায়ী ৭৬ বছর, তাহলে ২০০২ সালের এসআইআর এর সময় উনি প্রাপ্ত বয়স্ক ও হিসেবে মতো বেশ কয়েক বার ভোট দিয়ে দেওয়ার কথা। ওনার নাম তখনকার তালিকায় থাকা উচিত, কিন্তু তা নেই। এবার আশ্চর্যের বিষয় হলো (যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে আর কোনো কিছুতেই আশ্চর্য লাগে না), যে উনি যাকে মা বলে চিহ্নিত করছেন, অর্থাৎ দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার গোসাবা বিধানসভার ৫৫ নাম্বার বুথের ৪০১ সিরিয়াল নম্বরের ‘যছিমন সেখ’ কে, ওনার ২০০২ সালের ভোটার তালিকা অনুযায়ী বয়স হলো ৪২ বছর। তাহলে বর্তমানে ২৩ বছর পর, ২০২৫ সালে মায়ের বর্তমান বয়স গিয়ে দাঁড়ালো ৬৫ বছর। এদিকে ছেলের বর্তমান বয়স হলো ৭৬ বছর, অর্থাৎ মা হলেন গিয়ে ছেলের থেকে থেকে ১১ বছরের ছোট ! জানা যাচ্ছে যে উক্ত ব্যক্তির ৩ ছেলেও নাকি এই ভদ্রমহিলাকে ঠাকুমা সাজিয়ে এসআইআর -এর ফর্ম জমা দিয়েছে। এরকম নিদর্শন বর্তমানে দিকে দিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। কে কাকে বাবা মা সাজাচ্ছে, কে শশুর কে বাবা সাজিয়েছে, এরকম অনেক তথ্য সামনে আসছে। সঠিকভাবে এসআইআর-এর কাজ সম্পন্ন হলে পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা কমে যাবে ও জনবিন্যাস সংশোধিত হবেই… এই অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে, আমি নির্বাচন কমিশন কে অনুরোধ করবো এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।’
অন্যদিকে, বিজেপি কর্মীদের ‘জ্বালিয়ে দেওয়ার’ হুমকির পাল্টা কড়া চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বর্ধমান উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক নিশীথ মালিককে উদ্দেশ্য করে তিনি সরাসরি তাঁর বাড়িতে নিরাপত্তা রক্ষী ছাড়া আসার কথা ঘোষণা করে দিলেন।
শনিবার বর্ধমানের কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার অন্তর্গত মেমারিতে বিজেপির ‘পরিবর্তন সংকল্প সভা’ থেকে এই হুমকি-হুঁশিয়ারির জবাব দেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, এসআইআর আতঙ্কে তৃণমূলের নেতারা এখন ঠিক থাকতে পারছেন না, আর সেই কারণেই জেলায় জেলায় এই ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

এসআইআর প্রসঙ্গ টেনে বিরোধী দলনেতা দাবি করেন, এই প্রক্রিয়া শুরু হতেই সীমান্ত থেকে প্রচুর বাংলাদেশি তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে পড়েছেন, যা প্রমাণ করে যে রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা আশ্রয় পেয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে বর্ধমান উত্তরের বিধায়কের দেওয়া হুমকির প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ‘এখানে বর্ধমানের একটা এমএলএ আছে, বালি চোর। নিশীথ মালিক। বলে, বিজেপিকে দেখলে জ্বালিয়ে দেব। নিশীথ মালিক, কবে আসতে হবে তোমার বাড়ির সামনে, বলো। সিকিউরিটি ছাড়া আসব। তুমি যদি জ্বালাতে পারো, তাহলে বলব, তোমার বাপের নাম ঠিক আছে। এসব ধমক, চমক দিয়ে লাভ নেই।’