শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
“শুভেন্দু অধিকারী নিজেই বলেছেন, এটা তার ব্যক্তিগত মত। এর সঙ্গে দলের অবস্থানের কোনো সম্পর্ক নেই। কাশ্মীর আমাদের। ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় কাশ্মীরের জন্যই জীবন বিসর্জন দিয়েছিলেন। কাশ্মীরে আমরা যাবই। কাশ্মীর আমাদের ছিল, আছে এবং থাকবে।” কাশ্মীরে না যাওয়ার জন্য বাঙ্গালীদের কাছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী যে আবেদন জানিয়েছিলেন তাকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে নিজের তথা দলের মতামত জানিয়ে দিলেন বঙ্গ বিজেপির নবনির্বাচিত রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
বৃহস্পতিবার জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ বাংলায় এসে পহেলগাঁও হামলার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার এবং পর্যটকদের ফের কাশ্মীর ভ্রমণের আহ্বান জানান। এই বৈঠকের পরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রকে কাশ্মীরে সবার যাওয়ার ব্যবস্থা করার কথা বলেন। বৃহস্পতিবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেন জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। বৈঠকে কাশ্মীরের পর্যটনকে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টার বিষয়ে জানান। পাশাপাশি বাংলার পর্যটকদের আমন্ত্রণ করেন। ওমরের অনুরোধে মমতা জানান, দুর্গাপূজার পরে সময় করে কাশ্মীর সফর করতে পারেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কাশ্মীরে শান্তি ফেরানোর পক্ষে বার্তা দেন এবং জানান, কাশ্মীরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া জরুরি।

তবে এর পরেই শুভেন্দু অধিকারী হঠাৎ বিপরীত অবস্থান নিয়ে বলেন, “মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মীরে না গিয়ে হিন্দু বাঙালিরা অন্য কোথাও গেলে প্রাণে বাঁচবেন।” তার এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র তরজা শুরু হয়। শুভেন্দুর এই মন্তব্যের জবাবে শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠক করেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা।
তিনি বলেন, “পর্যটকদের কাশ্মীরে যেতে নিষেধ করছেন বিরোধী দলনেতা। তবে এতে কিছু আসে যায় না। যেখানে কাশ্মীরকে স্বাভাবিক ও নিরাপদ করে তোলার চেষ্টা চলছে, সেখানে এমন মন্তব্য অনভিপ্রেত। এটা কি কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশেই করা হচ্ছে? সেই প্রশ্নও উঠছে।” শশী পাঁজার বক্তব্য, “বিজেপি নেতারা এখন নিজেদেরই কেন্দ্রীয় সরকার ভেবে বসেছেন। কিন্তু বাস্তবটা মোটেই তেমন নয়।”

এমন পরিস্থিতিতে শনিবার নবনিযুক্ত বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, কাশ্মীর নিয়ে শুভেন্দুর মন্তব্য ‘ব্যক্তিগত মতামত’ এবং এটি ‘দলের বিবৃতি নয়’। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা এবং দলেরই রাজ্য সভাপতির অবস্থানের এই ফারাক রাজনৈতিকভাবে রীতিমতো তাৎপর্যপূর্ণ।
শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “স্বাধীনতার পরে কংগ্রেস নেতৃত্ব কাশ্মীরকে বরাবর আলাদা দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখেছে। সেটা হওয়া উচিত হয়নি। আর পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্মের নামে সমাজকে ভাগ করছেন। আমরা চাই সবাই একসঙ্গে থাকুক। পিওকে (পাক অধিকৃত কাশ্মীর) দেশের মানুষের দাবি। আগামীদিনে সীমান্তও বাড়বে।”