সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
ক্ষমতায় এলে বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হবে। বিধানসভা নির্বাচনের সংকল্পপত্রে জানিয়েছিল বিজেপি। ক্ষমতায় এসেই তা নিয়ে উদ্যোগী হয় শুভেন্দু-সরকার। সোমবার বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল পেশ করা হতে পারে বলে জল্পনা বেড়েছিল। তবে এদিন একাধিক বিল পেশ হলেও ইউসিসি বিল পেশ করেনি শাসকদল।
অবশেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় জানালেন, বিলটি নিয়ে সুপারিশের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন, বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হবেই। এই বিলের আওতার বাইরে কারা থাকবেন, তাও এদিন জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আমরা এই বিল আনব। আমরা সংকল্পপত্রে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সবসময় বলেছেন, এক দেশ, এক প্রধান, এক বিধান। আমরা পশ্চিমবঙ্গেও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল আনব। আগামী ২ জুলাই মন্ত্রিসভায় এই বিলের খসড়া অনুমোদনের জন্য আনব। উত্তরাখণ্ড, অসম এবং গুজরাটের অভিন্ন দেওয়ানি বিধিকে ভিত্তি করে পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল আনা হবে। এই রাজ্যে একটা আইন চলবে। ধর্মের ভিত্তিতে দুটো বিল চলবে না। এক্ষেত্রে মূলবাসী, আদিবাসী এবং কুড়মি-সহ আরও যাঁরা আমাদের প্রাচীন জনজাতি, তাঁরা এই প্রস্তাবিত বিলের আওতার বাইরে থাকবে। আমি উত্তরাখণ্ড, গুজরাটকে অনুসরণ করে একটি কমিটি গঠন প্রস্তাব করেছি। সেই কমিটির চেয়ারপার্সন হবেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনাপ্রকাশ দেশাই। এর সঙ্গে সদস্য হিসেবে থাকবেন একজন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার, একজন আইনি বিশেষজ্ঞ, একজন শিক্ষাবিদ, একজন সমাজকর্মী এবং একজন অতিরিক্তি সচিব থাকবেন। বিয়ে, বিচ্ছেদ, সম্পত্তির উত্তরাধিকার, সন্তানের অভিভাবকত্ব, দত্তক-সহ মোট ৯টি বিষয় এই কমিটি খতিয়ে দেখবে। এই কমিটিকে চার সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। অগস্টে এই কমিটির সুপারিশ গ্রহণ করে আমরা ইউসিসি বিল আনব। এবং এই বিল পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর হবে। আপনাদের কিছু বলার থাকবে, কমিটির কাছে বক্তব্য রাখবেন। তবে শুনে রাখুন, আমরা এই ইউসিসি পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর করতে বদ্ধপরিকর।’
গুন্ডা দমন বিল প্রসঙ্গে
বিধানসভায় আজ ঐতিহাসিক গুন্ডা দমন বিল পাস হলো সেই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় বলেন, ‘তৃণমূলকে জনতা বর্জন করেছে। এর জন্য আপনারা বিরোধী। কেউ বেরচ্ছে কেউ জামা ধরে টানছে। কেউ বলেছে আমি তৃণমূল, কেউ বলছে ওরা ল্যাম্পপোস্ট। তাই এই অবস্থা। এই আইন কেন প্রয়োজন। সরকারি সম্পত্তির সুরক্ষা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। যা হয়ে গেছে অতীত । আর কিছু করতে দেবো না ।
এই আইনের কঠোর কঠোর কঠোর পদক্ষেপ হবে। শুধু জেল খাটাব না। পার্ক-সার্কাসে পুলিশকে ঢিল মারা বের করব। আমার দায়িত্ব পুলিশ কর্মীদের নিরাপত্তা দেওয়া। সরকারি বেসরকারি যাই ভাঙুন এগোতে দেব না। বিচার দেবো , সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিপূরণ আদায় করব। আগের আইনে ফাঁক ফোকর ছিল। বর্তমান আইনে ফাঁক-ফোকড় রাখা হল না। এই আইন গুণ্ডা দের জন্য প্রযোজ্য।

আতঙ্কের জায়গা প্রিভেন্টিং অ্যারেস্ট তাই তো? সন্দেশখালি আর না। এই প্রথম ভোট। ভাঙড়ে তো কোনও মৃত্যু নেই। বিজেপির ওইখানে ৭০ হাজার ভোট আছে। আমরা ভাঙড়টাকে ছেড়ে দিতে পারতাম। ছেড়ে দিলে যিনি জেলে ছিলেন তিনি এখানে আসতেন। আর বিলের যিনি বিরোধিতা করেছেন তিনি এখানে আসতে পারতেন না। এই আইন না মানতে চাইলে, ইন্ডি জোটের রাজ্যে বিরোধিতা করুন। এখানে নয়। হরগোবিন্দ দাসের পরিবারের গেছিল সেলিম আর মীনাক্ষী বোন গেলেন। বলেন আমাদের পরিবার। সিপিএম বলল দাঙ্গা আটকাতে গেছিল মারা গেছে। আরে ভোট কাকে দেন? কাস্তে-হাতুড়িতে। বলল-আমরা হিন্দু বলে মেরেছে। আমি বিজেপির চেক নিয়ে গেলাম-আমাদের চেক নিল। এই লোকগুলো জেল থেকে আবার বেরবে, আবার বুক ফুলিয়ে ঘুরবে, পঞ্চায়েতে লড়বে। কাজ করবে। তাই আইন। ভিটা-মাটি ছাড়া করব। কোনও দাঙ্গাবাজের স্থান নেই। যার পাস্ট রেকর্ড খারাপ থাকবে, এক বছর প্রিভেন্টিং অ্যারেস্ট।’