সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
‘সমাজের বিশৃঙ্খলা রুখতে এবং ডেমোগ্রাফি বা জনসংখ্যার ভারসাম্য বজায় রাখতে এই আইন অত্যন্ত জরুরি।’ পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা করতে অবিলম্বে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে দাবি করলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, ‘দেশের অন্যান্য রাজ্যে এই আইন আগেই আনা হয়েছে। এ রাজ্যেও চক্রান্ত করে জনসংখ্যার বিন্যাস পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সরকারি জমি ও খাল-বিল দখল করে যে ‘ল্যান্ড জিহাদ’ চালানো হচ্ছে, তা বন্ধ করতে অবিলম্বে আইন এনে কড়া পদক্ষেপ করা উচিত।’
রাজ্য জুড়ে বিপুল সংখ্যক দুর্নীতি রোধে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে শুরু করেছেন, তার ভুয়সী প্রশংসা করে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মাঠে নেমে মানুষের জন্য কাজ করছেন, তাই সকলেই তাঁর কাজের প্রশংসা করছেন। রাজনীতিতে বা সরকারে ভালো কাজের যেমন প্রশংসা হওয়া উচিত, তেমনই কোনো ভুলত্রুটি বা সমালোচনা থাকলে সেটাও নির্দ্বিধায় করা যাবে, এতে কোনো অসুবিধা নেই।’ এরপরেই তিনি মুখ খোলেন সম্প্রতি তারাতলায় নির্মীয়মান গোডাউন ভেঙে বহু শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, তাঁর ওএসডি কালীর ভূমিকার পাশাপাশি তৃণমূলের আমলে পুরসভাগুলির দুর্নীতি নিয়ে। তিনি বলেন, ‘তারাতলার মতো এত বড় গাফিলতি বা দুর্নীতির দায় কোনো একক ব্যক্তির হতে পারে না। এর পিছনে যে বা যারাই জড়িত থাকুক না কেন, পার কেউ পাবে না। তদন্তের মাধ্যমে এর পিছনে থাকা সমস্ত প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম একে একে সামনে আসবেই। বিগত দিনে পুরসভাগুলিতে পর্দার আড়ালে থেকে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বকলমে কাউন্সিলর সেজে লুটপাট ও বেআইনি কাজকর্ম চালিয়েছে। সাধারণ মানুষ তখন ভয়ে চুপ ছিল এবং পুলিস সব জেনেও নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল। তবে এখন দিন বদলেছে, আমাদের সরকারের আমলে এই অপরাধীদের বিরুদ্ধে জোর কদমে অ্যাকশন শুরু হয়েছে। বেআইনি নির্মাণ ভাঙার বা দেখার কাজ শুধু কলকাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, রাজ্যের প্রতিটি জেলায় এই কড়া নজরদারি চালাতে হবে। নিউ টাউনের মতো এলাকায় একই জমি তিনবার করে বিক্রি করার মতো বড় জালিয়াতি হয়েছে। এই ধরনের সমস্ত দুর্নীতির শিকড় এবার উপড়ে ফেলা হবে। বাম আমলের ‘চলছে না, চলবে না’ আন্দোলনের কারণে এ রাজ্যে শিল্পের যে পরিবেশ নষ্ট হয়েছিল, তা এখন অতীত। আমাদের নতুন সরকারের আমলে বিনিয়োগকারীরা আবার বাংলায় বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত বোধ করছেন এবং পরিবেশ অনুকূল দেখছেন। পুজোর মধ্যেই নতুন হাসপাতালের মউ স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং এই বছরেই রাজ্যে বড়সড় বিনিয়োগ আসতে চলেছে।’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে এবারের ২১ জুলাই শহীদ দিবসের অনুষ্ঠানে প্রয়োজনে ৫ জন হলেও সঙ্গে নিয়ে যাবেন বলে দাবি করেছেন, তার প্রেক্ষিতে দিলীপের কটাক্ষ, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত ১৫ বছর ধরে রাজ্য শাসনের নামে শুধু আন্দোলন আর সমাবেশই করে গেছেন, মানুষের জন্য ইতিবাচক কিছুই করতে পারেননি। ১৫ বছর ধরে বাংলার মানুষকে কেবল হতাশাই উপহার দিয়েছেন উনি। এখন ক্ষমতা হারিয়ে ওনার আর কোনো কাজ নেই, তাই ধর্মতলায় পাঁচ জন লোক নিয়েই আন্দোলন করতে থাকুন।’
সেই সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে বিগত সরকারের আমলে লাগামছাড়া অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি জানান, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে হিন্দু সমাজের সুরক্ষায় একটি শক্তিশালী রক্ষাকবচ প্রয়োজন। ওপার বাংলা থেকে কোটি কোটি মানুষ অবৈধভাবে এ দেশে ঢুকে সাধারণ মানুষের জমি-জায়গা ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা দখল করে বসে আছে। বিজেপি সরকারের আমলে এই অনুপ্রবেশ আর কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।’