সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বার হর ঘর তিরঙ্গা যাত্রার সূচনা হলো মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিজের নির্বাচনে কেন্দ্র ভবানীপুর থেকে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে কয়েক বছর আগে দেশজুড়ে এই উদ্যোগের সূচনা হলেও, রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে এতদিন এই পদযাত্রার রেশ সেভাবে পড়েনি। তবে ২০২৬-এর ক্ষমতার পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি বদলেছে। এ বছর তাই স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে তেরঙ্গা যাত্রাকে কেন্দ্র করে এক অভাবনীয় ও বিশাল আয়োজনের সাক্ষী হতে চলেছে গোটা বাংলা।
রাজ্যে এ বার উদযাপিত হতে চলেছে স্বাধীনতার মেগা উৎসব। শুক্রবার কলকাতা সার্ভে বিল্ডিংয়ের সামনে থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত তেরঙ্গা যাত্রায় অংশ নিয়ে সেই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এ দিনের পথপরিক্রমায় হাজার হাজার তেরঙ্গা হাতে অংশ নেন সাধারণ নাগরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব। পদযাত্রা শেষে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, চলতি বছরে রাজ্যজুড়ে অন্তত ৭০ লক্ষ জাতীয় পতাকা বিতরণ করবে রাজ্য সংস্কৃতি দফতর। পাশাপাশি, আগামী ১০ অগস্ট রেড রোড থেকে বিড়লা তারামণ্ডল পর্যন্ত ৫০ হাজার মানুষের একটি ঐতিহাসিক তেরঙ্গা যাত্রার আয়োজন করা হয়েছে।
ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এই তেরঙ্গা যাত্রার সমাপ্তি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পূর্বতন সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গে ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচিতে প্রশাসনিক অংশগ্রহণ ছিল না। এ বার রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর সাধারণ মানুষের উৎসাহকে মাথায় রেখে সরকারি উদ্যোগেই এই রাষ্ট্রবাদী উদযাপনের আয়োজন করা হচ্ছে।
সংস্কৃতি দফতরের উদ্যোগের রূপরেখা তুলে ধরে শুভেন্দু বলেন, ‘আমরা এই রাজ্যে ৭০ লক্ষ তেরঙ্গা জাতীয় পতাকা বিলি করার একটি বৃহৎ কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। সমস্ত সরকারি ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় পতাকার রঙে আলোকমালায় সজ্জিত করা হবে। পাশাপাশি, বর্তমান এবং আগামী প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধ জাগ্রত করতে স্কুল-কলেজে বসে আঁকো প্রতিযোগিতা, কুইজ এবং নানা ধরনের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে রাজ্য সরকার।’
এ দিনের মিছিলে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন রাজস্থানের নেতা রাজ্যবর্ধন রাঠোর, রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য তাপস রায়, স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ, বিধায়ক শঙ্কর সিকদার, শিশির বাজোরিয়া, বিজেপির জেলা সভাপতি অনুপম ভট্টাচার্য, মহিলা নেত্রী পারমিতা দত্ত-সহ অন্যান্যরা।

পরিশেষে আসন্ন স্বাধীনতা দিবসের আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে তেরঙ্গা যাত্রা শেষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বার্তার উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, ‘দিল সে তেরঙ্গা, প্যায়ার সে তেরঙ্গা, হর ঘর তেরঙ্গা’-এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য দেশের প্রতি ভালোবাসা, জাতীয়তাবোধ এবং দেশপ্রেমকে আরও শক্তিশালী করা। তিনি আরও দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে এখন একটি ‘রাষ্ট্রবাদী সরকার’ কাজ করছে এবং সেই ভাবনাকেই সামনে রেখে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।