সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায় সহ মোট ১৩ জন বিধায়ক। এসআইআর বিবেচনা সংক্রান্ত বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের আর্জি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দাবিদাওয়া তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন তাঁদের।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত জানান, মসজিদের মাইক অপসারণের বিষয়টি তাঁরা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে এনেছেন। তাঁর দাবি, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত, তাই বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াইয়ের পথেই হাঁটবে তাঁদের দল।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘আগামী শুক্রবারের মধ্যে আমরা হাই কোর্টে যাব। আমাদের দলের আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ তাঁর সঙ্গে এদিন উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান।
ডিলিমিটেশন প্রসঙ্গেও এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হয় বলে জানান বিরোধী দলনেতা। সাংবাদিক বৈঠকে তাঁর বক্তব্য, ‘অনুপ্রবেশকারীদের প্রতি আমাদের কোনও সহানুভূতি নেই। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হলে হোক। কিন্তু ধর্মের ভিত্তিতে দেশের নাগরিকদের ভাগ করা চলবে না। সুনালি খাতুনের মতো ঘটনা যাতে না ঘটে, মুখ্যমন্ত্রীর মাধ্যমে কেন্দ্রের সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছি দেশের নাগরিকদের অধিকার যেন ধর্মের ভিত্তিতে আঘাতপ্রাপ্ত না হয়। সমস্তটা কোর্টে জানাব।’
পাশাপাশি রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদএর পুরনো নির্দেশিকা অনুযায়ী একাধিক মসজিদে মাইক খুলে ফেলার পর এবার বিষয়টি আদালতে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিল ‘আসল’ তৃণমূল। দলের নেতা তথা বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহেই এ বিষয়ে কলকাতা হাই কোর্ট -এর দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে ব্রেকফাস্ট মোদির
আজ শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনে ব্রেকফাস্টে আমন্ত্রিত ছিলেন এনডিএ এবং শরিকদলের সাংসদেরা৷ সেখানে উপস্থিত এনসিপিআই সাংসদেরাও যোগ দেন প্রাতঃরাশে৷ ছিলেন কাকলি, শতাব্দী, আবু তাহের, ইউসুফ পাঠানেরা৷ ছিলেন না শুধুমাত্র দেব। এদিন সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ আমন্ত্রিত সাংসদদের বাসে করে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়৷ প্রাতঃরাশের বৈঠকে এনসিপিআই সাংসদদের বিশেষ পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী৷ জানা গিয়েছে, এদিন এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁদের পশ্চিমবঙ্গের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের বার্তা দেন মোদি৷ সংসদে আরও বেশি উপস্থিতি নিয়েও পরামর্শ দেন তিনি৷ প্রাতঃরাশ সেরে বেরিয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘খুব ভাল বৈঠক হয়েছে। দেশের পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নে উনি খুবই আগ্রহী। কারা যোগা করেন জানতে চেয়েছেন। ক’জন যোগা করেন, হাত তুলতে বলেছিলেন৷ খুব জোভিয়াল মুডে ছিলেন৷ পরে বলেছেন সবাইকে নিজের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখতে৷’ এছাড়া, নিজেদের এলাকায় সময় দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী৷ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রাতঃরাশের বৈঠক শেষে বেরিয়ে শতাব্দী রায় বলেন, ‘ভাল করে কথা বলেছেন, প্রত্যেকের সঙ্গে গল্প করেছেন৷ প্রত্যেককে বলেছেন আপনাদের কনট্রিবিউশন চাই৷ চা নিয়ে বসেছিলেন, আমরা পায়েস টায়েসেও খেয়েছি৷’

রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বেরিয়ে বলেন, ‘উনি বললেন, আপনারা ভাল করে কাজ করুন৷ আমি খুব সাধারণ ভাবে বড় হয়েছি৷ আমাদের উদ্দেশ্য দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া৷ বলেন, ৪০ বছর পেরলেই প্রত্যেকদিন যোগা করুন। বছরে একবার মেডিক্যাল টেস্ট করান। শরীরের যত্ন নিন।’