১০ লক্ষের বেশি পরিবারের মুখে হাসি! পশ্চিমবঙ্গ আবাস যোজনার দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পৌঁছতে শুরু, জানালেন শুভেন্দু
সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
দল বা ধর্ম দেখে নয়, সরকারি গাইডলাইন মেনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’ প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ বিতরণ। আগে ‘বাংলার বাড়ি’ নামে পরিচিত এই প্রকল্পের নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজ্য জুড়ে ১০ লক্ষ ২০ হাজার ৩৭৯ জন উপভোক্তাকে নির্মীয়মাণ আবাস সম্পূর্ণ করার জন্য মোট ৬,১২২ কোটি ২৭ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
এই অর্থ সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। রাজ্য সরকারের দাবি, এই আর্থিক সহায়তার ফলে নির্মীয়মাণ বাড়িগুলির কাজ দ্রুত শেষ হবে এবং প্রকল্পের আওতায় থাকা উপভোক্তারা দ্রুত নিজেদের স্থায়ী আবাসে বসবাসের সুযোগ পাবেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, যাচাই পর্বে ১২ হাজারেরও বেশি উপভোক্তার তালিকায় বিভিন্ন ধরনের গরমিল ধরা পড়েছে। সেই কারণে আপাতত তাঁদের দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ বিতরণের তালিকা থেকে বাদ রাখা হচ্ছে। যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর তাঁদের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, মূলত যাঁরা প্রথম কিস্তির টাকা পেয়ে লিন্টেল স্তর পর্যন্ত বাড়ির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছেন, তাঁরাই এই পর্যায়ে দ্বিতীয় কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পাচ্ছেন। প্রশাসনের আশা, দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ হাতে পেলে উপভোক্তারা দ্রুত বাড়ির বাকি নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ করতে পারবেন।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘তাঁরা বহু প্রতীক্ষায় ছিলেন পরিবর্তনের সরকার তাঁদের পাশে দাঁড়াবে কি না। বা তাঁদের মধ্যে ভ্রম ঢোকানো হয়েছিল। কারণ পশ্চিমবঙ্গে যত বেনিফিট দেওয়া হয় সেখানে সরকারের নাম বলা হয় না। পশ্চিমবঙ্গে আমরা দেখে এসেছি এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করে গেছেন, এটা তো দিদি-এর স্কিম। এটা এনডিএ-এর সরকার। আমরা আলাদা ভাবে চলি না। তাঁদের গৃহনির্মাণের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা প্রদানের মধ্যে দিয়ে প্রমাণ হয়েছে নরেন্দ্র মোদির যে সংকল্প রয়েছে তাতে আমরা আরও একধাপ এগিয়ে গেলাম।’
প্রকল্পের নাম পরিবর্তন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মন্ত্রিসভা ঠিক করেছি পশ্চিমবঙ্গ নামটা নিয়ে। আমরা পশ্চিম নামটা কোনও দিন মুছে দিতে পারি না। তাই আমরা বাংলার বাড়ি-এর নাম পরিবর্তন করে পশ্চিমবঙ্গ আবাস নাম করব। আমরা একসঙ্গে একটা টিমে কাজ করি। বিগত সরকার শুধু কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যুদ্ধ করে গেছেন। ২০২২ সালের ৩১-এ মার্চ পর্যন্ত আবাসের টাকা পেয়েছে চুরি দুর্নীতির আগে পর্যন্ত। ৩০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে ৪০ লক্ষ ইউনিটের জন্য। এখনও যাঁরা আবাস যোজনায় নাম অন্তর্ভূক্ত করেননি তাঁরা নাম তুলুন। আমরা দল, ধর্ম, রাজনীতি দেখব না। পুজোর পরে আরও কয়েক লক্ষ বাড়ি প্রথম কিস্তি-এর টাকা দেব আরও বড় করে।’
স্বাধীনতা দিবসে রাজ্যে ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচি
১৫ আগস্ট উপলক্ষে এনডিএ সরকার বছর কয়েক ধরে উদযাপন করে ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচি। এতদিন বাংলায় বিরোধী দলের সরকার থাকায় তা হতো না। এবার রাজ্যেও বিজেপি সরকার। প্রথমবার কেন্দ্রের ওই কর্মসূচির সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। ৯ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত হবে এই কর্মসূচি। নিজের কেন্দ্র ভবানীপুর থেকেই এই যাত্রা শুরু করছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচির খুঁটিনাটি সবিস্তারে জানিয়ে শুভেন্দুর ঘোষণা, ‘আগামিকাল (শুক্রবার) আমরা ভবানীপুর অর্থাৎ আমার কেন্দ্র থেকে তেরঙ্গা যাত্রা শুরু করছি। সার্ভে বিল্ডিং থেকে হাজরা পর্যন্ত বিশাল মিছিল করব, আমি নিজে মিছিলে অংশ নেব। পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত মানুষের কাছে আবেদন, আপনারা সকলে এতে অংশগ্রহণ করুন। নিজের নিজের বাড়িতে তেরঙ্গা তুলুন।’

এই উপলক্ষে ৭০ লক্ষ তেরঙ্গা বিতরণ করা হচ্ছে রাজ্যে। নবান্ন সভাঘরে সাংবাদিক বৈঠক করে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ‘বিগত সরকার কেন ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচি করেনি, জানি না। আমরা এবার ওই কর্মসূচিতে জুড়লাম। এবছর থেকে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আমরা তেরঙ্গা যাত্রা করব। যেহেতু এবারই প্রথম, তাই এর বিস্তারিত আমি জানিয়ে দিচ্ছি। ৯ থেকে ১৭ আগস্ট তেরঙ্গা কর্মসূচি পালিত হবে। রাজ্যের প্রতিটি মহকুমা, পৌরসভা, ব্লক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা – সবাইকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। এই উপলক্ষে কলকাতার ঐতিহাসিক ভবন থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলোকসজ্জা হবে। প্রবন্ধ, অঙ্কন, সচেতনতামূলক মিছিল হবে। এনিয়ে প্রিন্ট, ডিজিটাল ও সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার করব আমরা।’