সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’-এর বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগে পুলিশ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দফতরের দ্বারস্থ হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। তৃণমূলের প্রতীক ‘জাল’ করার অভিযোগে পুলিশের দ্বারস্থ হল মমতার তৃণমূল। শনিবার কালীঘাট তৃণমূলের তরফে দোলা সেন নিউটাউন থানায় সেই অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগপত্রে তিনি দাবি করেছেন, তৃণমূলের প্রতীক জাল করা হচ্ছে। জালিয়াতি করে ব্যবহার করা হচ্ছে তৃণমূলের নামও। সেই পরিস্থিতিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৭৩ নম্বর ধারার আওতায় উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন দোলা। কলকাতার প্রগতি ময়দান এবং কালীঘাট থানার পাশাপাশি বিধাননগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগ এবং নিউ টাউন থানায় ই মেল করে এই অভিযোগ জানিয়েছেন তৃণমূলের যুগ্ম সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক দোলা সেন৷
জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে ঋতব্রত শিবিরের বিরুদ্ধে। বিনা অনুমতিতে অবৈধভাবে দলের নাম ব্যবহার করার জন্য পুলিশের কাছে আবার ঋতব্রত শিবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছে কালীঘাট-তৃণমূল। প্রতারণা, চক্রান্ত, ভিত্তিহীন তথ্য ও নথিপ্রচারের অভিযোগ তোলা হয়েছে। ঋতব্রতদের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, ‘বেইমানরা যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া প্রতীক নিয়ে, মমতার দল থেকে জিতে যদি রাতারাতি কেউ বলেন মমতার হাত থেকে প্রতীক নিয়ে নেব তাহলে জানবেন এরা মায়ের পিঠে ছুরি মারতে পারে। এটাই এদের মানসিকতা। ওদের পলিটিক্যাল কেরিয়ার আসলে শেষ। নির্বাচন কমিশন যদি ওদের সিম্বলও দেয় তাহলে জেনে রাখবেন আমাদের কাছে সিম্বল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখটাই।’
২১ জুলাই নিয়ে আবেদন ২ তৃণমূলের
আগামী ২১ জুলাই ধর্মতলায় বার্ষিক শহীদ দিবস উদযাপনের জন্য পুলিশ কমিশনারের কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠি পাঠানোর পাশাপাশি চিঠি দিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আসল তৃণমূল’-এর ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন’ হিসেবে একুশে জুলাইয়ের সভার জন্য কলকাতা পুলিশকে চিঠিও লিখেছেন বিদ্রোহী বিধায়ক অরূপ রায়। যে প্যাডে চিঠি লিখেছেন, তার উপরে লেখা আছে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস, অফিস: ২০৩১ রাজডাঙা মেন রোড, জিএ ১২৪, দ্বিতীয় তল, কলকাতা- ৭০০১০৭।’
প্রসঙ্গত গতকাল অর্থাৎ শনিবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন এই আসল তৃণমূল বলে যারা দাবি করছেন তারা একটি বৈঠকে ডেকেছিলেন কলকাতার তৃণমূল নেতা নেত্রীদের। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তোপসিয়ার একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কোয়েট হলে আয়োজিত বৈঠকে ৪৭ জন প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত ২২ জুন নিউ টাউনে একই ধরনের একটি বৈঠক হয়েছিল। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, বিধানসভা নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পর কলকাতায় সংগঠনের ভিত আরও শক্ত করতেই এই ধারাবাহিক বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে দুই বৈঠকেই ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’-এর নাম এবং দলের ঘাসফুল প্রতীক ব্যবহার করা হলেও কোথাও মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি রাখা হয়নি। বিষয়টি ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। সেই বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে ঋতব্রত শিবিরের অন্যতম মুখ সন্দীপন সাহা বলছেন, ‘আমরা মিটিং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক নিয়েই করেছি। এখন কে কী দাবি করল সেটা বিষয় নয়। কাদের সঙ্গে মানুষ দাঁড়িয়ে রয়েছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ।’
১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মহাকরণ অভিযানে পুলিশের গুলিতে নিহত ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর স্মৃতিতে প্রতি বছর ধর্মতলায় এই শহিদ দিবসের সমাবেশ আয়োজন করে তৃণমূল। মমতা পন্থী তৃণমূলের সাংসদ মহুয়া মৈত্র জানিয়েছেন, প্রশাসনিক অনুমতি না মিললেও কর্মসূচি বাতিল করা হবে না। প্রয়োজনে মঞ্চের বদলে একটি জিপ গাড়ি থেকেই মাইক্রোফোনে সভা করা হবে, তবুও ২১ জুলাইয়ের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবেই।