বিতস্তা সেন। কলকাতা সারাদিন।
নির্বাচন হয়নি। কলেজে কোনও নির্বাচিত ইউনিয়ন নেই। অথচ ইউনিয়ন চলছে, ইউনিয়ন রুমও খোলা থাকছে। এই বিষয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এবার সেই মামলায় ইউনিয়ন রুম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। যতদিন পর্যন্ত ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত রাজ্যের সব কলেজের ইউনিয়ন রুম বন্ধ থাকবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত রাজ্যকে ছাত্র নির্বাচন কবে হবে তা জানতে চেয়ে আগামী ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে।
গত কয়েক বছরে রাজ্যের প্রায় কোনও কলেজেই ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি। সেই ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বছর কয়েক আগে একটি মামলা হয় কলকাতা হাইকোর্টে। আজ, বৃহস্পতিবার সেই মামলায় বিচারপতি সৌমেন সেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় উল্লেখ করেন, কোনও নির্বাচন না হওয়া সত্ত্বেও ইউনিয়ন চলছে কলেজগুলোতে, যা বেআইনি। এরপরই বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আজ থেকে গোটা রাজ্যের সব কলেজের ছাত্র ইউনিয়নের রুম বন্ধ থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের অনুমতি ছাড়া ছাত্র ইউনিয়নের রুম খোলা যাবে না বলে নির্দেশ বিচারপতির।
কসবার ল’ কলেজে গণধর্ষণের ঘটনার পর ছাত্রভোট নিয়ে আদালতে মামলা হয়েছিল, সেই মামলার শুনানিতেই এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশটি দেওয়া হয়েছে। মামলাকারীর আইনজীবী যুক্তি দিয়েছিলেন যে, উচ্চশিক্ষা দপ্তর এর আগে হলফনামায় জানিয়েছিল রাজ্যের কোনো কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি, ফলে ছাত্র সংসদও নেই, তাই ইউনিয়ন রুম খোলা থাকার কোনো কারণ নেই। এই যুক্তির প্রেক্ষিতে আদালত উচ্চশিক্ষা দপ্তরকে সব কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট ইউনিয়ন রুম বন্ধ করার নোটিস জারি করতে বলেছে। কর্তৃপক্ষকে এই রুম তালাবদ্ধ রাখতে হবে এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অন্য কোনো কাজে এটি ব্যবহার করা যাবে না। প্রসঙ্গত, রাজ্যে ২০১৭ সালের পর থেকে সামগ্রিকভাবে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি।
নির্বাচন না হলেও কলেজে অ্যান্টি র্যাগিং কমিটি থাকছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছিলেন বিচারপতি। তবে মামলাকারী আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কোনও কলেজে এমন কিছু দেখেননি তিনি। রাজ্য কি নির্বাচন নিয়ে পরামর্শ দিতে পারে না? এমনটাই প্রশ্ন বিচারপতি সৌমেন সেনের। রাজ্যের বক্তব্য, এই ধরনের পরামর্শ আইনত দেওয়া যায় না। আগামী ১৬ জুলাই মামলার শুনানি। তার আগে হলফনামা দেবে রাজ্য। এই মামলায় কার্যত আইনের জয় হল বলেই মনে করছেন সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন, এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, দিনের পর দিন এই ইউনিয়ন রুমে নানা বেআইনি কাজকর্ম চলছে। বহিরাগতদের যাতে বের করে দেওয়া হয়, তেমনই ব্যবস্থা করুক আদালত। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডা বলেন, ‘ইউনিয়ন রুমে কী নেই! অস্ত্র, টাকা পয়সা সব আছে। অবিলম্বে এগুলো বন্ধ করা উচিৎ।’