কর্পোরেট অ্যাপক্যাবের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর, সমবায় মডেলে নতুন ট্যাক্সি পরিষেবা ঘিরে শুরু জোর চর্চা
সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
দেশের অ্যাপক্যাব বাজারে কি বড় পরিবর্তনের সূচনা হতে চলেছে? বহুদিন ধরে ওলা (Ola) ও উবার (Uber)-এর দাপটে চলা বাজারে এবার নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল ভারত ট্যাক্সি (Bharat Taxi)। শুধু নতুন পরিষেবাই নয়, এর সঙ্গে জুড়ে রয়েছে একেবারে আলাদা ব্যবসায়িক মডেল। আর সেই মডেলের ঘোষণা করতে গিয়ে বেসরকারি অ্যাপক্যাব সংস্থাগুলিকে কার্যত একহাত নিলেন কেন্দ্রীয় সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)।
শনিবার গুজরাট (Gujarat)-এর ১৪টি শহরে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে ‘ভারত ট্যাক্সি’। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি রাইড-হেইলিং সংস্থাগুলি চালক এবং যাত্রী—দুই পক্ষের স্বার্থকেই উপেক্ষা করে নিজেদের লাভ বাড়িয়েছে। তাঁর অভিযোগ, চালকদের কাছ থেকে মোটা কমিশন কেটে নেওয়া, অর্থপ্রদান নিয়ে সমস্যা এবং অভিযোগের ভিত্তিতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনা বারবার ঘটছে।
এই পরিস্থিতিতে সমবায় ভিত্তিক নতুন প্ল্যাটফর্মকে তিনি বিকল্প পথ হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, এখানে চালকেরা শুধুমাত্র পরিষেবা প্রদানকারী নন, তাঁরা এই ব্যবস্থার অংশীদারও। ফলে লাভের বড় অংশ তাঁদের কাছেই থাকবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও চালকদের ভূমিকা থাকবে গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে অমিত শাহ আরও দাবি করেন, ‘ভারত ট্যাক্সি’ চালু হওয়ার খবর সামনে আসতেই প্রতিযোগী সংস্থাগুলি অনেক জায়গায় ভাড়া কমাতে শুরু করেছে। যদিও কোনও সংস্থার নাম নেননি তিনি, তবে ইঙ্গিত ছিল স্পষ্ট। তাঁর বক্তব্য, নতুন উদ্যোগকে বাজারে জায়গা করে নিতে না দিতেই সাময়িকভাবে কম ভাড়ার কৌশল নেওয়া হচ্ছে এবং চালকদেরও বেশি কমিশনের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, এই ধরনের মূল্যযুদ্ধের লক্ষ্য হল নতুন প্ল্যাটফর্মকে দুর্বল করে দেওয়া। কিন্তু সমবায় মডেলের শক্তির উপর ভরসা রেখে তাঁর দাবি, এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে সফল হবে এবং একচেটিয়া ব্যবসার সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।
সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল ‘জিরো কমিশন’ মডেল। অর্থাৎ যাত্রী যে ভাড়া দেবেন, তার সম্পূর্ণটাই চালকের হাতে পৌঁছবে। কোনও কমিশন কেটে নেওয়া হবে না। পাশাপাশি চালকদের মালিকানার অংশীদার করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এই মডেল সফল হলে অ্যাপক্যাব শিল্পে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
প্রাথমিকভাবে এই প্ল্যাটফর্মে তিন ধরনের পরিষেবা মিলবে। অটো-রিকশা, বাইক ট্যাক্সি এবং চার চাকার ট্যাক্সি—সবই একই অ্যাপের মাধ্যমে বুক করা যাবে। পাশাপাশি যাত্রীদের সুবিধা বাড়াতে আহমেদাবাদ (Ahmedabad) মেট্রো, বিমানবন্দর, ট্রাফিক পুলিশ, পুরসভা এবং পশ্চিম রেলের সঙ্গে একাধিক সমঝোতাও হয়েছে।
তবে বাংলার মানুষের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খবর হল, খুব শিগগিরই কলকাতা (Kolkata)-তেও পৌঁছে যাচ্ছে এই পরিষেবা। অমিত শাহ জানিয়েছেন, আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে কলকাতা, মুম্বই, পুনে, নাগপুর, লখনউ, চণ্ডীগড় এবং জয়পুরে ‘ভারত ট্যাক্সি’র পরিষেবা চালুর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে দেশের ৫০০-রও বেশি শহর ও মফস্বলে এই সমবায় ট্যাক্সি পরিষেবা বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে।

অ্যাপক্যাব বাজারে এই নতুন উদ্যোগ কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনই বলা কঠিন। তবে জিরো কমিশন, চালকদের অংশীদারিত্ব এবং সমবায় মডেলের মতো প্রতিশ্রুতি ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। কলকাতার রাস্তায় যখন ‘ভারত ট্যাক্সি’ নামবে, তখন যাত্রী ও চালকদের পছন্দের সমীকরণ ঠিক কতটা বদলাবে, সেটাই এখন দেখার।