সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
শিগগিরই তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক পদে রদবদল হতে চলেছে বলে শনিবার (১৫ মার্চ) ইঙ্গিত দিয়েছন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে এও জানিয়ে দিয়েছেন ‘যারা পারফরম্যান্স দেখাচ্ছেন সক্রিয়ভাবে সংগঠন করছেন তাদেরই ব্লক ও জেলা সভাপতির পদে বসানো হবে। সাংগঠনিক দক্ষতাকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে।’ পাশাপাশি বার বার সতর্ক করা সত্বেও বেশ কয়েকটি জেলায় গোষ্ঠীবাজি বন্ধ না হওয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। পূর্ব মেদিনীপুর ও মালদহে গত লোকসভা ভোটে দলকে শূন্য হাতে ফেরার জন্য দুই জেলার নেতৃত্বকেও তীব্র তিরস্কার করেছেন।
শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee), অভিষেক (Abhishek Banerjee) মিটিং (Meeting) করলে জয় পাবেন এটা ভেবে বসে থাকলে চলবে না। বিজেপি (BJP) একটা জালি পার্টি এটা মানুষকে বোঝাতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকার টাকা দিচ্ছে না। আমরা টাকা আদায় করার চেষ্টা করছি। কিন্তু পারিনি। এটা মানুষকে বোঝাতে হবে। যে বুথগুলিতে ৫০\১০০ ভোটে হারছি। কেন হারছি তা খতিয়ে দেখতে হবে। আগামী ২১ থেকে ২৭ মার্চের মধ্যে ব্লক ও টাউন কমিটি গঠন করা হবে। প্রতি বছর ১ লক্ষ নতুন ভোটার যুক্ত হন। সেখানে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৪ লক্ষ নুতন ভোটার যুক্ত হয়েছেন। আইপ্যাকের কেউ গেলে জেলা সভাপতি জানবেন। এখন থেকে জানানো হবে। আগামী বছর বিধানসভা ভোটের লক্ষ্যে দলীয় কর্মীদের কোন পথে এগোতে হবে তার দিক নির্দেশনা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার হোলির দিনেই ভার্চুয়াল মাধ্যমে দলীয় বৈঠক ডেকেছিলেন অভিষেক। সেখানে তিনি এই কথা বলেন। এদিন জেলা ধরে ধরে সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন অভিষেক। দলে জেলাস্তর থেকে নীচুস্তর পর্যন্ত রদবদলেরও ইঙ্গিত দেন তিনি।
এদিনের বৈঠকে বিভিন্ন জেলায় তৃণমূল নেতা-নেত্রীদের কাজিয়া নিয়েও সরব হন অভিষেক। লোকসভা ভোটে মালদহ ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলার চারটি আসনের একটিওতেও জিততে পারেনি শাসকদল। সেই প্রসঙ্গ উত্থাপন করে অভিষেক বলেন, ‘নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করে অন্য দলকে সুযোগ করে দিয়েছেন। বিজেপি, কংগ্রেস ভুল প্রচার করেছে। আপনারা কেউ কাউন্টার করেননি। অন্য দলকে সুযোগ করে দিয়েছেন। মালদহে ফল খারাপ হওয়ার জন্য জেলা নেতৃত্ব, ব্লক নেতৃত্ব দায়ী। আপনারা মন্ত্রী হয়েছেন, পদ পেয়েছেন, কিন্তু ভোটের কাজে পিছিয়ে থেকেছেন। যুদ্ধের সময় যে মায়ের সঙ্গে বেইমানি করে, সে তৃণমূলের কর্মী নয়। কাঁথিতে আরেকটু জোর দিয়ে ঝাঁপালে এই আসন জিততাম।’ পাশাপাশি জলপাইগুড়ি, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট আসনে জয় না পাওয়ার জন্যও জেলা নেতৃত্বকেও কার্যত তুলোধোনা করেছেন তৃনমুলের সর্বভারতীয় সাধারন সম্পাদক।

এদিন দলীয় কর্মীদের অভিষেক বলেন, পূর্ব মেদিনীপুরে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া। আমরা আরেকটু সিরিয়াসলি হলে কাঁথিতে জিততে পারতাম। পূর্ব মেদিনীপুর নিয়ে মিটিং করতে হবে। খুব খারাপ অবস্থা। পূর্ব মেদিনীপুরের মানুষকে ভুল বুঝিয়ে ক্ষমতা প্রয়োগ করে এজেন্সির ভয় দেখিয়ে ভোট করানো হয়েছে। তমলুকে বিজেপি জিতেছে কত টাকার কাজ কেন্দ্র থেকে নিয়ে এসেছে? প্রশ্ন করুন। আমি নিজে পূর্ব মেদিনীপুরে মিটিং করব। পশ্চিম বর্ধমানে ১৩৭ বুথে পিছিয়ে আছি। পশ্চিম মেদিনীপুরের ক্ষেত্রে খড়গপুর সদরে ২৭০ বুথের মধ্যে কিছু বুথে কম ভোট হেরেছি। গড়বেতা, ঘাটাল, সবং, কেশপুরে ভালো ফল হয়েছে।