শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
“আমি ওঁকে বলছি, আপনাকে আমি ভবানীপুরে হারাব। বিজেপি আমায় দাঁড় করালে আমি হারাব।” এভাবেই আরো একবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে খোলা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার ঝাড়গ্রামে পদযাত্রা থেকে মমতা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, তাঁকে কেউ হারাতে চাইলে পারবে না, একমাত্র তিনি নিজে মনে করলে তবেই তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরানো যাবে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই কড়া আক্রমণ শানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
শুভেন্দু আজ বলেছেন, “উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) বলেছেন, আমি কোনওদিন না হারতে চাইলে হারি না। কিন্তু উনি তো আমার কাছে হেরেছেন।” শুভেন্দুর ইঙ্গিত নন্দীগ্রাম নির্বাচনের দিকে। বিরোধী দলনেতা আরও চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, “আমি ওঁকে বলছি, আপনাকে আমি ভবানীপুরে হারাব। বিজেপি আমায় দাঁড় করালে আমি হারাব।” তিনি আরও যোগ করেন, অন্য কোনও প্রার্থীকে দাঁড় করালেও তাঁকে জেতানোর দায়িত্ব তাঁর। শুভেন্দু কটাক্ষ করে বলেন, “হেরেছে-হেরেছে-হেরেছে। যতদিন বাঁচবেন কানের কাছে এটাই বাজাব।”
অন্যদিকে, ঘাটালের বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়ে তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বন্যাত্রাণ, ভুয়ো ভোটার-সহ একাধিক ইস্যু নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তিনি। একইসঙ্গে ২৬-এর নির্বাচনে তৃণমূলকে ‘বিসর্জন’-এর ডাক দিলেন বিজেপি নেতা। এদিন সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ফিরহাদ হাকিমকে একযোগে আক্রমণ করেন বিরোধী দলনেতা। বলেন, ‘এঁদের লক্ষ্য বাংলাদেশি, রোহিঙ্গাদের বাঁচাতে হবে। কারণ তৃণমূল চলে গেলে দিদি চিৎপটাং।’
ক’দিন আগেই বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে ঘাটালে গেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সেই সফরকেও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু অধিকারী। বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী এসে ডাঙায় দাঁড়িয়েছিলেন। চটি পরে ক্যামেরার সামনে এসে কেবল ‘তু খিচ মেরি ফটো’।” তারপর মুখ্যমন্ত্রী কী কী বলেছিলেন সেই বিষয়গুলিও উল্লেখ করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন ঘাটালের সাংসদ-অভিনেতা দেবও। তাঁকেও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে শুভেন্দু বলেন, ‘একজন চিটিংবাজ। সংসদে সবথেকে কম উপস্থিতি এই তিনবারের সাংসদের। ভোটের সময় একবার আসে, আর বলে আই লাভ ইউ।’
মুখ্যমন্ত্রী বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের ফিরে আসার বার্তা দিয়েছেন, তাঁদের জন্য মাসিক ১০০০ টাকা ভাতা চালু করা হবে বলেও ঘোষণা করেছেন। এনিয়ে পাল্টা শুভেন্দু বলেন, ‘তাঁদের মাসে ১ লক্ষ টাকার বেশি রোজগার। গুজরাত, দিল্লির মতো বিভিন্ন রাজ্যে গিয়ে প্রচুর টাকা রোজগার করেন। সেই টাকা দিয়ে বাংলায় এসে জমি কেনেন।’

পরিসংখ্যান তুলে ধরে বন্যাত্রাণ নিয়েও রাজ্যের কাছে প্রশ্ন তুলে ধরেন বিরোধী দলনেতা।
আজ ঘাটালের বানভাসি জনগণের প্রতিবাদ সভায় অংশগ্রহণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। ঘাটালের হাসপাতাল মোড় থেকে সেন্ট্রাল বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত মিছিল করেন তিনি। মিছিলে সামিল হয়েছিলেন স্থানীয় বিজেপি নেতা থেকে শুরু করে বহু দলীয় কর্মী।