সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
মন্ডল কমিশনের সুপারিশ মেনে কলকাতা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন অনুযায়ী তৈরি নয়া ওবিসি তালিকা রাজ্য সরকার প্রকাশ করা সত্ত্বেও তার উপরে কলকাতা হাইকোর্টের স্থগিতাদেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গেল পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
রাজ্যের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল, কলকাতা হাইকোর্ট নয়া ওবিসি তালিকার উপরে যে স্থগিতাদেশ জারি করেছে তা রিভিউ করে চ্যালেঞ্জ করবে রাজ্য সরকার। কারণ ওবিসি তালিকায় স্থগিতাদেশের ফলে লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রী একদিকে যেমন কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে, ঠিক তেমনভাবেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্য স্কুল সার্ভিস কমিশন যে এসএসসি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সেখানেও আবেদন করতে সমস্যায় পড়ছেন চাকরি প্রার্থীরা।
রাজ্যের দাবি এই স্থগিতাদেশ থাকলে কলেজে ভর্তি থেকে শুরু করে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মত এসএসসি’র ২০১৬ র নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে যাবে। তাই এই অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ খারিজ করা হোক।
প্রসঙ্গত গতবছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের ২২ মে কলকাতা হাইকোর্ট ২০১০ সালের পরে তৈরি রাজ্যের সমস্ত ওবিসি শংসাপত্র বাতিল করে দিয়েছিল। ফলে বাতিল হয়ে যায় প্রায় ১২ লক্ষ ওবিসি শংসাপত্র। কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়ে দেয়, ২০১০ সালের পর থেকে ওবিসি শংসাপত্র প্রাপকদের যে তালিকা তৈরি করা হয়েছিল, তা ১৯৯৩ সালের ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস আইনের পরিপন্থী। হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী, ২০১০ সালের আগের ৬৬টি সম্প্রদায়ের ওবিসি শংসাপত্র বৈধ। ফলে তার পর থেকে তৈরি সব ওবিসি শংসাপত্র বাতিল হয়ে যায়।

রাজ্য সরকার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে মোট ১৪০ জনজাতিকে ওবিসি তালিকাভুক্ত করার কথা জানানোর পরেই সিপিএম এবং ভারতীয় জনতা পার্টি কয়েকজনকে দিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে সেই তালিকা বাতিলের দাবী জানিয়ে মামলা দায়ের করায়। ওবিসি শংসাপত্র বাতিল মামলায় আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, হাইকোর্টের রায় মেনে সমীক্ষা করা হয়নি। কোনও ধরনের বিজ্ঞতি জারি করা হয়নি।
রাজ্য ও অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ কমিশনের যুক্তি ছিল, সমস্ত নিয়ম মেনেই সমীক্ষা হয়েছে, তার রিপোর্টও পেশ করা হয়েছে। ডিভিশন বেঞ্চ সেই সমীক্ষার পদ্ধতি-সহ যাবতীয় নথি দেখতে চায়। এখানে মামলাকারীদের মূল বক্তব্য ছিল, কোথায় কত জনসংখ্যা হয়েছে, তার কোনও নির্দিষ্ট তথ্য রাজ্যের কাছে নেই। এই জন্য প্রয়োজন সঠিক সমীক্ষার। নয়া কোনও জনগোষ্ঠীকে ওবিসির তালিকায় আনতে গেলে বিধানসভায় বিল পেশ করতে হয়। সেটা করেনি রাজ্য সরকার।
এর পরেই রাজ্যের বিজ্ঞপ্তি খারিজের আবেদনে জানান মামলাকারীরা। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতেই কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ডিভিশন বেঞ্চ নতুন ওবিসি তালিকার উপরে অন্তরবর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে।