সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
‘‘গোলমালের ঘটনায় আমার বা আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা ভিত্তিহীন। কারণ, যে সমস্ত এলাকায় গোলমালের ঘটনা ঘটেছে, সেগুলি সবই প্রশাসনিক ভাবে তৃণমূলের দখলে। বিধায়কেরা তৃণমূলের, পঞ্চায়েতও তৃণমূলের। সে ক্ষেত্রে আমি বা আমার দল কী ভাবে অভিযুক্ত হতে পারি?’’ নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে ইমাম মুয়াজ্জেনদের সঙ্গে বৈঠকে কংগ্রেস সংসদের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে অভিযোগ তুলেছিলেন এভাবেই তার জবাব দিলেন দক্ষিণ মালদার সাংসদ ঈশা খান চৌধুরী।
বুধবার ওয়াকফ সংশোধনী আইন নিয়ে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে রাজ্যের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি তথা ইমাম মোয়াজ্জেমদের নিয়ে সম্মেলন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মুর্শিদাবাদের ঘটনা নিয়ে কংগ্রেসকে দায়ী করে মমতা বলেন, “যেখানে হামলা হয়েছে সেটা মালদা আসন। মুর্শিদাবাদ নয়। যেখানে গন্ডগোল হয়েছে, কংগ্রেস জিতেছে। ওদের উচিত ছিল পরিস্থিতি শান্ত করা।”
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অভিযোগের কিছুক্ষণের মধ্যেই সংবাদমাধ্যমের সামনে মমতার মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে আসরে নামেন দক্ষিণ মালদহের কংগ্রেস সাংসদ। মালদহ দক্ষিণের কংগ্রেস সাংসদ ঈশা খান চৌধুরী বলেন, ‘‘এখন এ ভাবে মুখ্যমন্ত্রী আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল না তুলে রাজধর্ম পালন করুন! তাঁর পুলিশ-প্রশাসনকে সক্রিয় করুন। রাজ্য সরকারের গোয়েন্দা বিভাগকে সক্রিয় করে আগে থেকেই এমন ঘটনা আটকানোর চেষ্টা করুন। হাজার হাজার বছর ধরে সব ধর্মের মানুষ মিলে মিশে এক সঙ্গে থেকেছে। এখানে ধর্ম নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। কোনও ধর্ম বলে না যে অন্য ধর্মকে আঘাত করো, মন্দির মসজিদ ভাঙো। যারা আমাদের হিন্দু মুসলিম ভাইদের মধ্যে সৃষ্টি করতে চাইছেন তাদের বলি এখন বেশিরভাগ মানুষই ভাল মানুষ। কিন্তু যেহেতু আইন শৃংখলা ভেঙে গিয়েছে তাই পুলিশকেও পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।”
তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে মুর্শিদাবাদের সাম্প্রতিক অশান্তির জন্য বিজেপিকে দায়ী করেছেন, সেই মন্তব্যকে সম্পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে ঈশা বলেন, ‘‘বিজেপি ধর্মীয় রাজনীতি করতে সিদ্ধহস্ত। মুখ্যমন্ত্রী সেই দলের হাতে ধর্মীয় রাজনীতি করার তাস তুলে দিচ্ছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার প্রথমে মালদহের মোথাবাড়ি এবং পরে শমসেরগঞ্জে এসে সাধারণ মানুষকে দা এবং হাঁসুয়া তুলে নেওয়ার নিদান দিয়ে হিংসাত্মক বক্তৃতা করেছেন। এই কঠিন সময়ে যাঁরা এমন ভাষণ দিচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী পদক্ষেপ করুন। এটাই কংগ্রেসের দাবি। কংগ্রেস চায় না, দেশে আরএসএসের মস্তিষ্কপ্রসূত রাজনীতি জায়গা পাক। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের সৌজন্যে তারা ধর্মীয় রাজনীতি করার জায়গা পাচ্ছে। আমি মুখ্যমন্ত্রীকে ধর্মীয় রাজনীতির অভিঘাত নিয়ে ভাবতে অনুরোধ করছি। কারণ, আমি এলাকায় গিয়ে দুর্গত মানুষদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, সব ক্ষেত্রেই গরিব হিন্দু এবং গরিব মুসলমান ভাইয়েরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।’’

ওয়াকফ সংশোধনী আইনের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে মুর্শিদাবাদের কিছু এলাকায় হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে। তাতে মৃত্যুও হয়েছে একাধিক। সংঘর্ষের জেরে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান ছেড়ে নদীপথে মালদহের বৈষ্ণবনগরে অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন বহু মানুষ। ঈশা জানান, তিনি সেই সব আশ্রয়শিবিরে ঘুরে এসেছেন। শেষে শান্তি প্রার্থনা করে কংগ্রেস সাংসদ বলেন, “আপনারা শান্ত থাকুন। কোনও ধর্মীয় সুড়সুড়িতে প্রভাবিত হবেন না। যারা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করেন তাঁরা ধর্মের রক্ষক নন, আসলে
শত্রু।”