ব্রেকিং
  • Home /
  • পশ্চিমবঙ্গ /
  • কর না বাড়িয়েই রাজস্ব বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ! অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের ‘মার্শাল প্ল্যান’ ইঙ্গিতে জোর রাজনৈতিক চর্চা

কর না বাড়িয়েই রাজস্ব বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ! অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের ‘মার্শাল প্ল্যান’ ইঙ্গিতে জোর রাজনৈতিক চর্চা

নতুন কর নয়, ফোকাস রাজস্ব আদায়ে; বিধবা ও বার্ধক্য ভাতা নিয়েও বড় আশ্বাস রাজ্যের নতুন অর্থমন্ত্রীর সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন। রাজ্যের অর্থনীতির হাল ফেরাতে কি এবার নতুন পথের সন্ধানে পশ্চিমবঙ্গ সরকার? দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই এমন কিছু মন্তব্য করলেন....

কর না বাড়িয়েই রাজস্ব বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ! অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের ‘মার্শাল প্ল্যান’ ইঙ্গিতে জোর রাজনৈতিক চর্চা

  • Home /
  • পশ্চিমবঙ্গ /
  • কর না বাড়িয়েই রাজস্ব বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ! অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের ‘মার্শাল প্ল্যান’ ইঙ্গিতে জোর রাজনৈতিক চর্চা

নতুন কর নয়, ফোকাস রাজস্ব আদায়ে; বিধবা ও বার্ধক্য ভাতা নিয়েও বড় আশ্বাস রাজ্যের নতুন অর্থমন্ত্রীর....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন

নতুন কর নয়, ফোকাস রাজস্ব আদায়ে; বিধবা ও বার্ধক্য ভাতা নিয়েও বড় আশ্বাস রাজ্যের নতুন অর্থমন্ত্রীর

সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।

রাজ্যের অর্থনীতির হাল ফেরাতে কি এবার নতুন পথের সন্ধানে পশ্চিমবঙ্গ সরকার? দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই এমন কিছু মন্তব্য করলেন নতুন অর্থমন্ত্রী ডঃ স্বপন দাশগুপ্ত (West Bengal Finance Minister Swapan Dasgupta), যা ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।

 

নতুন কর চাপিয়ে নয়, বরং বিদ্যমান ব্যবস্থার মধ্যেই রাজস্ব বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই এগোতে চান তিনি। আর সেই লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়ে প্রয়োজনে ‘মার্শাল প্ল্যান’-এর মতো বৃহৎ কর্মপরিকল্পনার প্রয়োজন হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

 

দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, পশ্চিমবঙ্গের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলির মধ্যে অন্যতম হল করের বোঝা না বাড়িয়ে রাজস্ব বৃদ্ধি করা। তাঁর কথায়, “ট্যাক্স না বাড়িয়ে রেভিনিউ কীভাবে বাড়ানো যায়, সেটাই এখন বড় পরীক্ষা। এর জন্য নানা ধরনের কৌশল ও প্রশাসনিক দক্ষতা প্রয়োজন হবে।”

 

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ঘাটতির প্রসঙ্গও। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনা রয়েছে, বাস্তবে তার অনেকটাই সংগ্রহ করা হচ্ছে না।

 

স্বপন দাশগুপ্তের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনিক দুর্বলতা থাকতে পারে, আবার কোথাও কোথাও পূর্ববর্তী দায়িত্বপ্রাপ্তদের অনীহাও কারণ হয়ে থাকতে পারে। যদিও তিনি সরাসরি কাউকে আক্রমণ করেননি, তবে তাঁর মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।

 

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, অর্থমন্ত্রীর এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে রাজ্যের আয় বাড়াতে এখন জোর দেওয়া হবে ফাঁকফোকর বন্ধ করার দিকে। অর্থাৎ করদাতাদের উপর নতুন চাপ না বাড়িয়ে প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, রাজস্ব ফাঁকি রোধ এবং সম্ভাব্য উৎসগুলিকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

 

সবচেয়ে বেশি চর্চার বিষয় হয়েছে তাঁর ‘মার্শাল প্ল্যান’ মন্তব্য। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের অর্থনীতি পুনর্গঠনের জন্য যে ঐতিহাসিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল, সেই উদাহরণ টেনে স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্যও বৃহৎ পরিকল্পনার প্রয়োজন হতে পারে।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য শুধুমাত্র অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত নয়, বরং আগামী দিনে রাজ্যের উন্নয়ন ও বিনিয়োগ নীতির ক্ষেত্রেও বড় বার্তা বহন করছে।

 

অন্যদিকে, নির্বাচনের আগে বিজেপির (BJP West Bengal) দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলির বাস্তবায়ন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। বিধবা ভাতা (Widow Pension Scheme) এবং বার্ধক্য ভাতা (Old Age Pension Scheme) বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, সরকার ধাপে ধাপে সমস্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।

 

তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই অন্নপূর্ণা ভাতা প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে এবং তা কার্যকর করার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে বিধবা ও বার্ধক্য ভাতা বৃদ্ধি নিয়েও প্রশাসনিক প্রস্তুতি এগোচ্ছে।

 

স্বপন দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, আগামী দু’মাসের মধ্যেই এই সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যেতে পারে। ফলে লক্ষ লক্ষ উপভোক্তার নজর এখন সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

তবে প্রশ্ন একটাই—রাজস্ব না বাড়িয়ে, নতুন কর না বসিয়ে, আর্থিক চাপে থাকা রাজ্যের কোষাগারে কতটা গতি আনতে পারবেন নতুন অর্থমন্ত্রী? ‘মার্শাল প্ল্যান’-এর ইঙ্গিত কি শুধুই রূপক, নাকি সত্যিই আসছে বড় অর্থনৈতিক রোডম্যাপ?

 

রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের নজর এখন সেদিকেই। কারণ, এই পরিকল্পনা সফল হলে বদলে যেতে পারে পশ্চিমবঙ্গের আর্থিক ভবিষ্যৎ—আর ব্যর্থ হলে উঠবে আরও বড় প্রশ্ন। এবার কি সত্যিই নতুন অর্থনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে বাংলায়?

 

 

আজকের খবর