সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
১০ লক্ষ মানুষের চিকিৎসার নজির গড়ে শুরু হল সেবাশ্রয়ের সেকেন্ড ইনিংস। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ডহারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে রবিবার থেকে শুরু হয়ে গেল 'সেবাশ্রয়'-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের মেগা ক্যাম্প।
দ্বিতীয় পর্যায়ের এই ক্যাম্প চলবে ১৬ মার্চ থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত। চলবে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অধীন সাতটি বিধানসভা এলাকায়। এবার মোট ২৭৩টি ক্যাম্প করা হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। ১৬-২০ মার্চ পর্যন্ত মেগা ফলো-আপ সেবাশ্রয় শিবির আয়োজিত হবে গোটা ডায়মন্ড হারবার লোকসভা জুড়ে। প্রতিদিন সেবাশ্রয় শিবিরের কার্য তদারকি করে চলেছেন অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের সহকর্মী সুমিত রায়।
সম্প্রতি মহেশতলার সেবাশ্রয় শিবির পরিদর্শন করে অভিষেক জানিয়েছিলেন, 'সুস্বাস্থ্য সমাজের লক্ষ্যে এবং স্বাস্থ্যসেবার মৌলিক অধিকারকে সুনিশ্চিত করতে এই কর্মসূচির সূচনা হয়। রোগমুক্ত সুস্থ জীবন ফেরানোর ব্রত নিয়ে, রোগীদের সমস্তরকম সংকীর্ণতার অচলায়তন দূরীকরণে আমার যথাসাধ্য চেষ্টা এবং পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। মানুষের প্রত্যয়ে, ভরসায় এবং তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বুঝেছি, তাঁদের হৃদয়ের নির্ভরযোগ্য সেবাস্থল হয়ে উঠেছে সেবাশ্রয়।
দ্বিতীয় পর্যায়ের মেগা ক্যাম্প শুরুর দিনেই অনেকেই নানাবিধ শারীরিক সমস্যা নিয়ে ভিড় করলেন ক্যাম্পে। এর আগে গত ২ জানুয়ারি থেকে ডায়মন্ড হারবারে প্রথম 'সেবাশ্রয়' শুরু হয়। এবার ফের শুরু হয়ে গেল দ্বিতীয় দফার কাজ। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা অবধি চলবে এই শিবির। টানা পাঁচদিন চলবে এই মেগা ক্যাম্প। তবে শুধু ডায়মন্ড হারবার সংসদীয় এলাকার লোকজনই নয়, রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে চিকিৎসার প্রয়োজনে সেবাশ্রয়ের ক্যাম্পে ছুটে এসেছেন বহু মানুষ।
দ্বিতীয় দফার প্রথম দিনেই পূর্ব বর্ধমানের পাটুলি থেকে ডায়মন্ড হারবার মডেল সেবাশ্রয় ক্যাম্পে আসেন প্রশান্ত বর্ধন ও সিন্থিয়া বর্ধন। সঙ্গে তাঁদের বছর তিনেকের অসুস্থ শিশু। অবস্থা ভাল নয় তাঁদের সন্তানের। জানাচ্ছেন, যখন বাচ্চাটার বয়স মাত্র দু'বছর তখনই এক জটিল অসুখ বাসা বাঁধে তার শরীরে। বর্তমানে চিকিৎসা চলছে এসএসকেএম-এ। কিন্তু, এখন প্রয়োজন বহুমূল্যের ইনজেকশনের। এদিন ওই দম্পতি এ নিয়েই কথা বলেন ক্যাম্পের প্রতিনিধি ও চিকিৎসকদের সঙ্গে। খবর চলে যায় অভিষেকের কাছেও। তিনি ওই শিশুটির যাবতীয় চিকিৎসার খরচ বহন করবেন বলে জানিয়েছেন বলে খবর। এর আগের দফাতেও সামনে এসেছিল এমনই এক খবর। এর আগে ৯ বছরের এক শিশুর ওপেন হার্ট সার্জির যাবতীয় দায়িত্ব নিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

অন্যদিকে, দৃষ্টিহীনদের পাশাপাশি এবার বধিরদেরও পথ চলার সঙ্গী হল সাংসদ অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের ‘সেবাশ্রয়’। প্রায় আড়াই মাসের কর্মযজ্ঞে শতসহস্র প্রাণ বাঁচিয়েছে সেবাশ্রয়, হাসি ফুটিয়েছে আট থেকে আশির মুখে। এবার শ্রবণশক্তি ফিরিয়ে দিতে বজবজের সেবাশ্রয় শিবিরের ৪৬ জন রোগীকে বিশেষ কাস্টম-ফিটেড হিয়ারিং এইড দেওয়ার উদ্দেশ্যে মোল্ডিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হল। এই ৪৬ জনের তালিকায় রয়েছে শিশু থেকে বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা। এই তথ্য সমাজমাধ্যমে তুলে ধরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘এই ইয়ারমোল্ডগুলি সিলিকন দিয়ে তৈরি, যা একেবারেই নিখুঁত। কানে কোনো সমস্যা ছাড়াই এটি ব্যবহার করা সম্ভব। পাশাপাশি এটি আরামদায়ক এবং স্পষ্ট শোনার অভিজ্ঞতাও প্রদান করে।’ তাঁর ভাষায়, ‘এটাই সেবাশ্রয়ের বিশেষত্ব। এটি শুধু চিকিৎসা নয়, আশার আলো জ্বালানো, অনুভূতি ফিরিয়ে আনা এবং সুনিশ্চিত করা যে কারও যেন জগৎ নীরবতায় হারিয়ে না যায়।’ এভাবেই দৃষ্টি থেকে শ্রবণ, সর্বক্ষেত্রে মানুষের জীবনকে সহজ ও উপভোগ্য করার জন্য প্রস্তুত সেবাশ্রয়। অভিষেকের উদ্যোগে এবং মহৎ কর্মযজ্ঞে আপ্লুত সাধারণ মানুষ।
ইতিমধ্যেই ১০ লক্ষের অধিক রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে সেবাশ্রয়ে। রবিবার সেবাশ্রয়ের শিবিরে আসেন প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ। চক্ষু, দন্ত, কর্ণ কোনো কিছুর চিকিৎসাই উপেক্ষিত হয়নি সেবাশ্রয়ে।