সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
‘বিজেপি পরিকল্পনামাফিক ভুল তথ্য প্রচার করছে ও কবিগুরুকে অপমান করছে।’ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের গান নিয়ে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা ও কর্ণাটকের বিজেপি সাংসদ বিশ্বেশ্বর কাগেরির মন্তব্যের প্রেক্ষিতে এমন বিষ্ফোরক অভিযোগ করল তৃণমূল। বিতর্কের শুরু হয় অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বক্তব্য থেকে। কংগ্রেস নেতা বিধুভূষণ দাস বারাক উপত্যকায় শ্রীভূমিতে জেলা কংগ্রেসের একটি সভাতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা আমার সোনার বাংলা গানের প্রথম দুই লাইন গান। যেহেতু এটি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত তাই হিমন্ত বিশ্বশর্মা ওই কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করার নির্দেশ দেন। এই জল শুকতে না শুকতেই এবার কর্ণাটকের সাংসদ বিশ্বেশ্বর কাগেরি মন্তব্য করে বসেন, ইংরেজদের খুশি করতে নাকি জনগণমন লিখেছেন রবীন্দ্রনাথ।
ঘটনা হল, বুধবার হন্নাভরে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কাগেরি বলেন, ‘আমি ইতিহাস খুঁড়ে দেখতে চাই না। তখন ‘বন্দে মাতরম’কে জাতীয় সঙ্গীত করার দাবি উঠেছিল। কিন্তু আমাদের পূর্বপুরুষেরা সিদ্ধান্ত নেন ‘বন্দে মাতরম’ ও ‘জন গণ মন’— দুটোই থাকবে। ‘জন গণ মন’ তখন রচিত হয়েছিল ব্রিটিশ অফিসারকে স্বাগত জানানোর জন্য।’ তাঁর আরও দাবি, ‘বন্দে মাতরম’-এর অবদান দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে চিরকালই অনুপ্রেরণার উৎস। তাই এই ১৫০ বছরে সেটি প্রত্যেকের কাছে পৌঁছানো উচিত। স্কুল, কলেজ, তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে।
আজ সেই নিয়েই মুখ খোলেন ব্রাত্য বসু ও শশী পাঁজা। ব্রাত্য বসু তুলনা টেনে বলেন, ‘পুজোর সময় মুখ্যমন্ত্রীর লেখা গান প্রকাশিত হয়, আর সেই সময় যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উদ্বোধনে আসেন, তাহলে কি বলা যাবে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে স্বাগত জানাতে গান লিখেছেন? এ তো হাস্যকর যুক্তি! বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও রবীন্দ্রনাথের মধ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করছে বিজেপি। এটা তাদের পুরনো কৌশল। বাঙালি এই অপমান কোনওভাবেই মেনে নেবে না।’
এ দিন ব্রাত্য গর্জে ওঠে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান ও কবিগুরুকে অপমান করা নিয়েও। তিনি বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ সব সময় তাঁর গোটা লেখা-গোটা জীবনে হিন্দু-মুসলমানের ঐক্যের কথা লিখে গেছেন। সম্প্রীতির কথা বলেছেন। এটা বিজেপির না পসন্দ। রবীন্দ্রনাথের এই তত্ব তাঁদের একদম পছন্দ নয়। আমাদের এই উপমহাদেশে হিন্দু মুসলমান ঐক্য বিজেপির রাজনৈতিক ধারণা-চিন্তার পরিপন্থী। অথচ রবীন্দ্রনাথ তাঁর গোটা জীবনে এটাই বলে গেছে।’
ব্রাত্য আরও বলেন, ‘বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও রবীন্দ্রনাথের মধ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টা চলছে এটা বিজেপির কৌশল। রবীন্দ্রনাথ ছোট প্রমাণ করার চেষ্টা হচ্ছে। বাঙালি এটা মানবে না। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’ প্রসঙ্গত, পঞ্চম জর্জকে স্বাগত জানাতে কবিগুরু জন গণ মন লিখেছিলেন, এই অভিযোগ উঠেছে বহুবার। তবে ইতিহাস বলছে, কবিগুরু নিজেই জানিয়েছিলেন তাঁর এই গান লেখার সঙ্গে ব্রিটিশদের কোনও যোগ নেই।