সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
“মেছুয়ার হোটেল অনেক পুরনো। বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। আগুন লাগার পর থেকে ফোনে সারারাত খবর নিয়েছি। ডিএমজি খুব চেষ্টা করেছে৷ ফায়ার ব্রিগেড খুব চেষ্টা করেছে। তারপরেও ১৪ জনকে বাঁচানো যায়নি। তবে ৯০ জনকে বাঁচাতে পেরেছে।” আজ বৃহস্পতিবার দিঘা থেকে কলকাতায় ফিরে সোজা মেছুয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন, কথা বলেন সিপি মনোজ ভার্মার সঙ্গে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কিছু কিছু বাড়ি দেখছি ছাদ ভেঙে পড়ছে। পুলিশ, কর্পোরেশনকে বলব বৈঠক করে নিজেরা মেরামতির ব্যবস্থা করতে। ডিসপিউট আছে বলে বাড়ি সংস্কার হবে না, তা হবে না। বলছি না আপনাদের ছেড়ে দিতে হবে৷ জমি নিয়ে, বাড়ি নিয়ে, ভাড়াটিয়া সংক্রান্ত সমস্যা থাকলে কলকাতা পুলিশ ও কর্পোরেশনকে বলুন, কারণ এটা জীবনের ব্যাপার৷” ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর তহবিল থেকে মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, একাধিক বিপজ্জনক বাড়ি রয়েছে কলকাতা, যেগুলো অত্যন্ত পুরনো, যে কোনও সময়ে ভেঙে পড়তে পারে। তাতে ইতিমধ্যেই নোটিস দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। কিন্তু সেই বাড়ি এখনও ছাড়েননি বাসিন্দারা। সঙ্গে বড়বাজারের একাধিক বড় অগ্নিকাণ্ডের পরও এখনও মার্কেট দাহ্য পদার্থ মজুত রয়েছে, যা আগুন লাগলে বড় বিপদের কারণ হতে পারে বলে স্মরণ করালেন মুখ্যমন্ত্রী।

বড়বাজারের ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে মমতা বলেন, “ঘরের মধ্যে প্লাস্টিক ঢুকিয়ে রাখেন, কেমিক্যাল ঢুকিয়ে রাখেন, লোক যাওয়ার জায়গা নেই, যখন আগুন লাগছে, তখন নিজেরা পালাচ্ছেন, মারা যাচ্ছেন অন্য লোক। নন্দমার্কেটে এত কিছু হয়ে যাওয়ার পর এখনও এসব শুনতে পাই, সেখানে এখনও প্লাস্টিক মজুত করে রাখা হচ্ছে। এটা মনে রাখবেন, আমি আপনাদের ভালই চাই। এটা বলার জন্য যদি আপনি আমাকে ভোট না দেন, না দেবেন। কোনও অসুবিধা নেই। কিন্তু প্লিজ সেভ লাইফ। ”
সে প্রসঙ্গে বলতে গিয়েই নন্দমার্কেটে আগুন প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি যখন বিরোধী ছিলাম, নন্দমার্কেটে আগুন লেগেছিল, আমি তিন দিন রাস্তায় বসে ছিলাম। সরকারের কেউ ছিল না। আমি ক্ষমতায় এসে দমকলকেন্দ্র, থানা এখানে বানিয়ে দিই।” কিন্তু তারপরও যে হুঁশ ফেরেনি, সে কথাও বলেন মমতা।
পাশাপাশি হোটেলগুলোর আদৌ অনুমতি রয়েছে কিনা, সমস্ত রকমে ব্যবস্থা রয়েছে কিনা, তা দেখার জন্য পুলিশ-দমকলকে সারপ্রাইজ ভিজিট করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বলেন, “পুলিশ, দমকলকে সারপ্রাইজ ভিজিট করতে বলব। কোনও স্থানীয় প্রতিনিধি এতে মদত দেয়, তার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।”