সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
পশ্চিমবঙ্গে নাকি বিপুল বিনিয়োগ আসবে পূর্ব মেদিনীপুরের তাজপুরে গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরি হওয়ার পরে। ক্ষমতায় থাকাকালীন বেশ কয়েক বছর এমন দাবি করে গিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু বারে বারে দাবি করার পরেও এমনকি আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষর হয়ে যাওয়ার পরেও তাজপুরে আর গভীর সমুদ্র বন্দরের কাজ শুরু হয়ে ওঠেনি।
শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী পদে দায়িত্ব নেওয়ার পরে গতকাল নবান্নে আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে বৈঠকের পর আজ কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালের সঙ্গে বৈঠকের পরে জানিয়ে দিলেন তাজপুরের গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরি করাই রয়েছে টেকনিক্যাল সমস্যা। তাই তাজপুরে গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরি করা সম্ভব নয়।
নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পর্যাপ্ত জমি না থাকার ফলে তাজপুরে গভীর সমুদ্রবন্দর তৈরি করা আর সম্ভব নয়। বৃহস্পতিবার তিনি জানান, জমির অভাবেই আদানিরা এক সময় তাজপুর প্রকল্প থেকে কার্যত সরে গিয়েছিলেন। তবে শিল্প ও পরিকাঠামো উন্নয়নের স্বার্থে এই প্রকল্প পুরোপুরি বন্ধ করে দিচ্ছে না নতুন সরকার। তাজপুরের বিকল্প হিসেবে এবার বেছে নেওয়া হয়েছে দাদনপাত্রবাড়কে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তাজপুর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে দাদনপাত্রবারে ১৭০০ একর জমি দিচ্ছে রাজ্য সরকার। এবার সেই জমিতেই গভীর সমুদ্রবন্দরের কাজ দ্রুত এগোবে।’
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “তাজপুরের মতো একটি বিশাল মাপের গভীর সমুদ্রবন্দর তৈরি করতে গেলে কয়েক হাজার একর সংলগ্ন জমির প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি হলো, তাজপুরে রাজ্য সরকারের হাতে তেমন কোনো জমি নেই। এই কঠিন সত্যটি অনুধাবন করেই শিল্পপতিরা ওই প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ান। আমাদের পরিকাঠামো ও শিল্পায়নের লক্ষ্য পূরণের ক্ষেত্রে বাস্তববাদী হওয়া অত্যন্ত জরুরি।”

আজ কী নিয়ে কথা হয়েছে কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়ালের সঙ্গে? মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বললেন, “আগে বিরোধী দলনেতা হিসাবে এই কথা আমি বলেছিলাম, যতক্ষণ না রেল, হাইওয়ে, ওয়্যারহাউস সহ কয়েক হাজার একর জমি না থাকবে, ততক্ষণ তাজপুর ডিপ সি পোর্ট দাঁড়াবে না। তাজপুর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে দাদনপাত্রবাড়। এখানে পুরোনো নুনের কারখানা ছিল। সেখানে ১ হাজার ৭০০ একর জমি রয়েছে রাজ্যের হাতে। আমরা এখন ওইটা নিয়ে এগোব। আজ আমাদের মিটিংয়ের এজেন্ডা এটাই ছিল। ১ হাজার ৭০০ একর জমি হাতে নিয়ে আমরা এগোব। পরে জমি সংগ্রহ করা যাবে। প্রাথমিক ভাবে আমরা আজ এটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”