শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
‘তৃণমূলের গুন্ডা-দুষ্কৃতীদের বলছি, কান খুলে শুনে নিন। ২৩ তারিখ ভোটের দিন ঘর থেকে বেরোবেন না। বেরিয়ে ঝামেলা পাকাবেন না। তা হলে আগামী ৪ মে বিজেপি বাংলায় সরকার গড়ার পর আপনাদের কেউ বাঁচাতে পারবে না। আপনাদের উল্টো করে ঝুলিয়ে সোজা করব।’ মঙ্গলবার পশ্চিম বর্ধমানের কুলটির নির্বাচনী জনসভার মঞ্চ থেকে এভাবেই তৃণমূলের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
এবারের নির্বাচনে জিতে বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের জেলে পাঠানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২৩ এপ্রিল ভোটগ্রহণের আগে দুষ্কৃতীদের থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণও করতে বলেছেন তিনি। এ বার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হুঁশিয়ারি, ভোটের দিন তৃণমূলের দুষ্কৃতী-গুন্ডারা রাস্তায় বেরিয়ে ঝামেলা করলে, তাদের উল্টো করে ঝুলিয়ে সোজা করা হবে। অনুপ্রবেশ নিয়েও কুলটির সভা থেকে তৃণমূলকে বিঁধে অমিত শাহ বলেন, ‘আগামী ৫ তারিখ বিজেপিকে সরকার গড়তে দিন। তার পর বাংলা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের বেছে বেছে বাংলা থেকে বার করব।’
গত রবিবারও একই ভাবেই ‘শাসকদল আশ্রিত দুষ্কৃতী’দের হুমকি দিয়েছিলেন মোদী। বাঁকুড়ার সভায় তিনি বলেছিলেন, ‘বাঘ কে? বাংলার জনতা হলো বাঘ। এই জনতা ফুঁসছে, আর সহ্য করবে না। নির্মম সরকার হঠাতে তারা বদ্ধপরিকর। এখন বদল চাই। সব সিন্ডিকেট, গুন্ডাদের শেষ বার বলছি, ২৯ এপ্রিলের আগে নিজের নিজের থানায় আত্মসমর্পণ করুন। খুব ভালো হয়, যদি ২৩ তারিখের আগে করেন। কারণ, ৪ মের পরে কেউ বাঁচবে না। বিষ্ণুপুরের মাফিয়া, কয়লা পাচারকারী, সিন্ডিকেট কান খুলে শুনুন, এ সব চলবে না।’
ভোটের ঠিক দু’দিন আগে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি থেকে বঙ্গ রাজনীতির পারদ তুঙ্গে চড়ালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মঙ্গলবার জনসভা থেকে তিনি সরাসরি তৃণমূলের ‘উত্তরাধিকার’ রাজনীতিকে নিশানা করে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন। শাহের সাফ কথা, ‘পরের মুখ্যমন্ত্রী কোনও ভাইপো হবেন না, হবেন বাংলারই ভূমিপুত্র।’ গোর্খা সমস্যার সমাধানের দাবি করে শাহ বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার গঠিত হওয়ার পরই, ৬ মে প্রত্যেক গোর্খার মুখে সন্তুষ্টির হাসি থাকবে। আমরা এমন সমাধান বের করব। কংগ্রেস, তৃণমূল এরা সকলে দার্জিলিঙের সঙ্গে, আমার দেশভক্ত গোর্খা ভাইয়ের সঙ্গে অন্যায় করেছে। আমি ৯ বছর ধরে এখানে আসছি।

আমি আপনাদের কথা দিয়ে যাচ্ছি, বিজেপির সরকার গঠিত হলেই ৬ মে-র মধ্যে এত দিন ধরে ঝুলে থাকা গোর্খা সমস্যার সমাধান করে যাব। গোর্খাদের মতো করেই সমাধান করব। পুরো পশ্চিমবঙ্গ ঘুরতে ঘুরতে আজ শেষ দিনে পাহাড়ে এসেছি। আমি আপনাদের বলছি, এ বার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার গঠিত হচ্ছে। আমাদের উপর অত্যাচার করা মমতাদিদিকে টাটা বাই বাই করার সময় হয়ে গিয়েছে।’