শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
‘আমি গতকাল গভীর রাত পর্যন্ত জেলার নেতাদের সঙ্গে প্রথম দফার ভোটের বিষয়ে গভীর আলোচনা করেছি। আর আপনাদের স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই যে ১৫২ টি আসনের মধ্যে ১১০ টির অধিক আসনে বিজেপি জিততে চলেছে। এর অর্থ হল যে দ্বিতীয় দফা মিলে আমরা প্রচন্ড বহুমত নিয়ে শুদ্ধরূপে সরকার গঠন করব।’ বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম দফায় ভোটগ্রহণের পরের দিন কলকাতায় বসে এমন চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন অমিত শাহ। কিন্তু প্রশ্ন হল, কীসের ভিত্তিতে ১১০ আসন জেতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হলেন? সাংবাদিকের এই প্রশ্নের জবাবে তিনি জানালেন, ‘প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া এখানে প্রবল। অনেকদিন পর বাড়ির মহিলারা নির্ভয়ে নির্বিঘ্নে ভোট দিয়েছে। তাঁরা সকলে দুর্নীতি থেকে মুক্তি চান। ভোটদানের হার এত বেশি। এসব পর্যালোচনা করেই আমরা সংখ্যাটা বুঝতে পেরেছি।’
গতকাল বাংলার প্রথম দফার ভোটগ্রহণ সম্পূর্ণ হয়ে গেছে। অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে ভোট পড়েছে ৯২.৯৮%। এটা শুধু পশ্চিমবঙ্গের জন্য নয়, গোটা দেশের জন্য একটা নজির। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে যে এই বিপুলসংখ্যক ভোট দান পরিবর্তনের জন্য? নাকি রাজ্যের বর্তমান শাসক দলের প্রত্যাবর্তনের জন্য মানুষ দিয়েছে? তৃণমূল এবং বিরোধীদল বিজেপি – উভয়ের তরফ থেকেই দাবি করা হচ্ছে যে তারাই ক্ষমতায় আসতে চলেছে। তবে এখনো দ্বিতীয় দফার ভোট বাকি।
শুক্রবার কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অমিত শাহ বলেন, ‘গতকাল এরাজ্যের প্রথম দফার নির্বাচনে ভোটদানের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। বাংলার মানুষ অভূতপূর্ব উৎসাহ এবং উদ্দীপনার মধ্যে পরিবর্তনের জন্য ভোট দিয়েছে। ভোটদানের হার যা সামনে এসেছে তা গোটা দেশের গণতন্ত্রকে উৎসাহিত করার জন্য যথেষ্ট। সর্ব প্রথমে প্রথম দফার ভোট দেওয়া মানুষদের আমি অনেক অনেক অভিনন্দন জানাই। আর এই কারণে ধন্যবাদ জানাবো যে ভয় থেকে ভরসার দিকে পথ চলার খুব সুন্দর শুরু হয়েছে। আর দ্বিতীয় দফার ভোটাররা ভয় থেকে ভরসার দিকে এই যাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আমি আশা করি।’
এর পাশাপাশি অমিত শাহের দাবি, ‘বাংলার মানুষ নিজেদের ভবিষ্যৎকে প্রথম দফাতেই ঠিক করে নিয়েছেন। ১৬ টি জেলার ১৫২ টি আসনে ৯২.৯৮% ভোটদান নিশ্চিতভাবে বলে দেয় যে দিদি যাচ্ছে এবং বিজেপি আসছে। ভয় যাবে এবং ভরসা আসবে। এই যে বিপুলসংখ্যক ভোট পড়েছে এটা হল পরিবর্তনের জন্য ভোটদান। বিগত দিনগুলোতে প্রধানমন্ত্রী এবং আমাদের অন্যান্য নেতাদের জনসভাতে যে বিপুল জন সমাবেশ হচ্ছিল তার প্রতিফলন ঘটেছে ইভিএম-এ।’
বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিজেপির জন্য কতটা প্রতিকূল ছিল, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে অমিত শাহ বলেন, ‘একটা সময় আমাদের ঝুলিতে ছিল মাত্র ৩টি আসন। সেখান থেকে লড়াই করে আমরা ৭৭-এ পৌঁছেছি। যখন ৩ থেকে শুরু করেছিলাম, তখন গোটা রাজ্যটাই আমাদের জন্য কঠিন ছিল। আজ সেই পরিস্থিতি বদলেছে। এখন সরকার গড়া আমাদের কাছে অনেক বেশি সহজ কাজ। আসলে সরকার তো কোনও দল একা তৈরি করে না, দেশের সাধারণ মানুষই তা নির্ধারণ করেন। এবার বাংলার আপামর জনগণই স্থির করে নিয়েছেন যে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনবেন।’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া সমালোচনা করে অমিত শাহ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যা কিছুই করুন না কেন, বিরোধিতা করাটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একপ্রকার অভ্যেসে দাঁড়িয়ে গিয়েছে। মোদীজি যদি ভুল করেও বলেন তৃণমূলকে ভোট দিতে, তবে উনি তাতেও আপত্তি জানাবেন। প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়া নিয়ে তাঁর সমস্যা, গঙ্গার ঘাটে ঘুরে বেড়ানো নিয়েও তাঁর আপত্তি। আসলে গঠনমূলক কাজের চেয়ে বিরোধিতাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।’