কলকাতা মেট্রোর নিত্যযাত্রীদের জন্য এ সপ্তাহান্তে বড় দুঃসংবাদ। মেট্রোর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আসন্ন রবিবার মহানায়ক উত্তম কুমার (টালিগঞ্জ) থেকে শহিদ ক্ষুদিরাম পর্যন্ত পরিষেবা বন্ধ থাকবে। এর ফলে দক্ষিণ কলকাতার বহু যাত্রী চরম ভোগান্তির মুখোমুখি হতে পারেন।
মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শহিদ ক্ষুদিরাম স্টেশনে রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কাজ চলবে ৩০ আগস্ট শনিবার রাত ১১টা থেকে শুরু করে ৩১ আগস্ট রবিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত। তাই এই সময়ের মধ্যে টালিগঞ্জ থেকে শহিদ ক্ষুদিরাম পর্যন্ত মেট্রো চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। তবে রবিবার বিকেল ৪টার পর থেকে পুনরায় চালু হবে পরিষেবা।
বিকল্প মেট্রো চালানোর ঘোষণা
যাত্রীদের সুবিধার জন্য বিশেষ মেট্রো চালানোর পরিকল্পনা করেছে কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ওইদিন ভোর ৭টায় মহানায়ক উত্তম কুমার থেকে দক্ষিণেশ্বর এবং দক্ষিণেশ্বর থেকে মহানায়ক উত্তম কুমার পর্যন্ত একটি বিশেষ মেট্রো চালানো হবে। একই সঙ্গে গ্রিন লাইনের পরিষেবা সকাল ৯টার পরিবর্তে সকাল ৮টা থেকেই শুরু হবে।
পরীক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য বিশেষ উদ্যোগ
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ওইদিন মিসলেনিয়াস সার্ভিস রিক্রুটমেন্ট এক্সামিনেশন বোর্ডের পরীক্ষা থাকায় পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে বিশেষ পরিষেবা চালানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে বহু পরীক্ষার্থী কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবেন।
কলকাতা মেট্রোয় ভোগান্তি নিত্যদিনের সঙ্গী
মেট্রো পরিষেবা বন্ধ বা দেরি হওয়া এখন আর নতুন কিছু নয়। কখনও টানেলে জল ঢুকে যাচ্ছে, আবার কখনও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দীর্ঘক্ষণ আটকে যাচ্ছে ট্রেন। নির্ধারিত সময়ের অনেক দেরিতে ট্রেন পাওয়া, হঠাৎ বিভিন্ন স্টেশনে দাঁড়িয়ে যাওয়া বা দরজা না খোলার মতো সমস্যাও প্রায় প্রতিদিনই দেখা দিচ্ছে। এতে যাত্রীদের ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে।
বর্তমানে কবি সুভাষ স্টেশনও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলার কারণে মেট্রো শহিদ ক্ষুদিরাম পর্যন্ত সীমাবদ্ধ হয়েছে। অনেক সময় টালিগঞ্জ পর্যন্তই ট্রেন থেমে যাচ্ছে। ফলে প্রান্তিক স্টেশনগুলির যাত্রীরা প্রায় প্রতিদিনই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
পুজোর মুখে অতিরিক্ত চাপ
আগামী রবিবার টালিগঞ্জ থেকে শহিদ ক্ষুদিরাম পর্যন্ত দীর্ঘক্ষণ পরিষেবা বন্ধ থাকার কারণে স্বাভাবিকভাবেই যাত্রী ভোগান্তি চরমে পৌঁছবে। বিশেষ করে পুজোর আগের সময় এই ধরনের সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে যথেষ্ট প্রভাব ফেলতে চলেছে। অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে পরীক্ষার্থী, সকলকেই সমস্যায় পড়তে হবে।
যাত্রীদের দাবি
নিত্যযাত্রীদের দাবি, কলকাতা মেট্রো কর্তৃপক্ষকে আরও পরিকল্পনা করে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করা উচিত। কারণ সপ্তাহান্তে বা ছুটির দিনে কাজ হলেও বহু মানুষ মেট্রোর উপর নির্ভর করেন। তাই যাত্রী স্বার্থে আগে থেকেই সঠিক বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।