সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
আরজি কর-কাণ্ড, কেটে গিয়েছে এক বছর। শুক্রবার রয়েছে রাত দখল। আর দিন পেরতেই শনিবার পর পর দু’টি অভিযান। একটি রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ভবন নবান্নের দিকে। অন্যটি, মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি কালীঘাটের দিকে। কিন্তু এই দুই অভিযান সংক্রান্ত কোনও আবেদন মেইল বা লিখিত ভাবে পৌঁছয়নি পুলিশের কাছে। শুক্রবারের সাংবাদিক বৈঠক থেকে এমনটাই বললেন এডিজি আইনশৃঙ্খলা জাভেদ শামিম।
তিনি জানান, “আমরা সমাজমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমের থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছি। গত বছর যারা এই অভিযান করেছিল, সেই ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তবে তারা জানিয়েছে, এই অভিযানের সঙ্গে তারা কোনও ভাবেই জড়িত নয়।”
নারকীয় এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং বিচারের দাবিতে কাল নবান্ন অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছে। যা নিয়ে এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে পুলিশ প্রশাসন। যেখানে তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে, নবান্নের সামনে ১৬৩ ধারা জারি থাকে। তাই কোনও রকম জমায়েত নিষিদ্ধ। বিকল্প হিসেবে হাওড়ার সাঁতরাগাছি বাসস্ট্যান্ড এবং রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।
আগামীকাল ৯ অগাস্ট, আর জি কর মেডিক্য়াল কলেজের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের ঘটনার প্রতিবাদে, নবান্ন অভিযানের ডাক দেওয়া হয়। সেই অভিযানের বিরোধিতায় যে মামলা হয়েছিল, সেই আবেদনে সাড়া দেয়নি হাইকোর্ট। বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ দেন, প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারবে পুলিশ। উপযুক্ত বিকল্প জায়গার সন্ধান দেবে প্রশাসন। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করতে হবে। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা যাবে না। পুলিশের ওপরও যেন কোনও হামলার ঘটনা না ঘটে, তাও দেখতে হবে আন্দোলনকারীদের।
কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভর্মার জানিয়েছেন, শনিবার বিকালে অভয়া মঞ্চের কালীঘাট অভিযান হওয়ার যে কথা রয়েছে, তা সম্ভব নয়। পরিবর্তে জায়গা প্রদান করা হয়েছে। আর এই বিষয়ে হাইকোর্টে এখনও শুনানি চলছে। অন্যদিকে হাওড়ার নগরপাল প্রবীণ ত্রিপাঠী বলেন, “সবাইকে অনুরোধ শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিবাদ করুন। সাঁতরাগাছি বাসস্ট্যান্ডে মিটিং-মিছিল করুন। সিসিটিভি, ড্রোন সব দিয়ে নজরদারি চলবে।”
এদিন ভবানীভবন থেকে সাংবাদিক বৈঠকে এডিজি দক্ষিণবঙ্গ সুপ্রতীম সরকার বলেন, “আগামীকাল নবান্ন অভিযানের কর্মসূচি রয়েছে। হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ তাদের পর্যবেক্ষণে বলেছে প্রতিবাদ করা মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে। পাশাপাশি পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা বা হিংসাত্মক কার্যক্রমে আশ্রয় নেওয়া এটা বেআইনি। এটা নাগরিক অধিকারের মধ্যে পড়ে না। হিংসা থেকে বিরত থাকা এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্ট না করা এটাও প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। পাশাপাশি হাইকোর্ট বলেছে আইনি মেনে, শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিবাদ করতে হবে। পুলিশ, সরকারি কর্মী বা সরকারি সম্পত্তি ক্ষতি করা যাবে না। আদালত স্পষ্ট করে বলেছে, এই কর্মসূচির প্রেক্ষিতে রাজ্য প্রশাসনের তরফে বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে। সেই বিধিনিষেধ বলবৎ করতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থাও প্রশাসন নিতে পারবে। নবান্নের সামনে ১৬৩ ধারা জারি থাকে। নিরাপত্তার নিরিখে স্পর্শকাতর জায়গায়। তাই কোনও রকম জমায়েত নিষিদ্ধ। সুতরাং নবান্ন সংলগ্ন এলাকায় কোনও প্রতিবাদ কর্মসূচি, মিটিং-মিছিল করা যাবে না।

হাইকোর্ট আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই কর্মসূচির জন্য প্রশাসন উপযুক্ত বিকল্প জায়গা সংগঠকদের জানাতে পারে। আদালতের সেই নির্দেশ অনুযায়ী, হাওড়া পুলিশ সাঁতরাগাছি বাস স্ট্যান্ডকে উপযুক্ত জায়গা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। যার মানে আগামীকালের কর্মসূচি আইন মেনে সাঁতরাগাছি বাস স্ট্যান্ডে করা যেতে পারে। কলকাতা পুলিশের তরফে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউকে উপযুক্ত জায়গা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে এই কর্মসূচির আয়োজক কারা তা নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। সমাজমাধ্যম এবং আমাদের ইন্টালিজেন্স ইনপুট অনুযায়ী, কয়েকটি নাম পেয়েছি তাঁদের এই বার্তা জানিয়ে দিচ্ছি।”