সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।

‘বিজেপির এই খেলাটা হল জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে বৈধ নাগরিকদের নাম বাদ দেওয়ানো। যাতে একদিকে ডিটেনশন ক্যাম্পের হাতছানি থাকে, আর অন্যদিকে মানুষ সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন।’ বিজেপির রাজ্য সভাপতি বিতর্কিত মন্তব্যকে সামনে রেখে এভাবেই বিজেপি এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালো তৃণমূল।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মোড়। যে প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছতার দোহাই দিয়ে শুরু করা হয়েছিল, এবার সেই প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিলেন খোদ বিজেপিরই রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ‌। তাঁর বিস্ফোরক মন্তব্য এখন বিজেপির কাছে ‘বুমেরাং’ হয়ে ফিরে এসেছে। তাকেই হাতিয়ার করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন এবং গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে আক্রমণে নেমেছে তৃণমূল। অনন্ত মহারাজ প্রকাশ্যেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়লে সাধারণ মানুষকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হতে পারে এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে। এমনকি তিনি এও বলেছেন, ‘যাঁদের হাতে খাতা-কলম, তাঁরাই তো বাংলাদেশি। তাহলে আমরা কাগজ কাকে দেখাব।’

নিজ দলের সাংসদের মুখে এই আশঙ্কার কথা শুনেই তৃণমূল দাবি করছে, তাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ আজ সত্য প্রমাণিত হল। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষ অনন্ত মহারাজের এই বক্তব্যকে সামনে রেখে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। কুণাল ঘোষের দাবি, তৃণমূল দীর্ঘদিন ধরেই আশঙ্কা প্রকাশ করছিল যে, এসআইআর-এর নামে আসলে এনআরসি এবং ডিটেনশন ক্যাম্পের প্রেক্ষাপট তৈরি করা হচ্ছে। বিজেপির ‘এক কোটি রোহিঙ্গা’ তত্ত্বকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কুৎসা বলে উড়িয়ে দিয়ে কুণাল চ্যালেঞ্জ ছোঁড়েন, অনন্ত মহারাজ যদি সত্যিই মানুষের শুভানুধ্যায়ী হন, তবে তাঁর উচিত শুধু আশঙ্কা প্রকাশ না করে বিজেপির এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়া।

অন্যদিকে, রাজ্যের নারী ও শিশু সমাজকল্যাণ দফতরের মন্ত্রী শশী পাঁজা গোটা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। 1 কোটি 36 লক্ষ নামের তথ্যে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা অসংগতি পাওয়া গিয়েছে বলে কমিশন যে দাবি করছে, তার ভিত্তি কী – তা জানতে চেয়েছেন তিনি। শশী পাঁজার প্রশ্ন, ‘কোন যন্ত্রে বা কোন টেকনোলজিতে এটা আপনারা বুঝতে পারলেন? এই ডেটা নিয়ে স্বচ্ছতা আনতে হবে।’ অসুস্থ, দুর্বল ও প্রতিবন্ধী মানুষদের দূর-দূরান্তের হিয়ারিং সেন্টারে ডেকে পাঠানোকে অমানবিক আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, কমিশনকে জবাব দিতে হবে কেন এত বিপুল সংখ্যক মানুষকে এভাবে সন্দেহের তালিকায় ফেলে হেনস্তা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *