সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণার মাত্র দেড় মাসের মাথায় অভূতপূর্ব গতিতে শুরু হয়েছে শিলিগুড়িতে বিশালাকার মহাকাল মন্দির নির্মাণের সমীক্ষা। শুধু সমীক্ষাই নয়, জমি হস্তান্তর, প্রকল্পের প্রাথমিক ডিজাইন থেকে শুরু করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ—সবই চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। প্রশাসনিক মহলের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের religious tourism (Religious Tourism in Bengal)-এর মানচিত্র সম্পূর্ণ বদলে যাবে।
নির্মাণ সংস্থা HIDCO এবং শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি ডেভলপমেন্ট অথরিটি (SJDA)-র তত্ত্বাবধানে উজানুর Mouza এলাকায় প্রায় ১৭.৪১ একর জমির উপর গড়ে উঠবে এই মহাকাল মন্দির। প্রাথমিক প্ল্যান অনুসারে মন্দিরের মুখ থাকবে উত্তর–পূর্বমুখী। পাশাপাশি JL-81 এবং JL-86 নম্বর জমি মিলিয়ে প্রায় ২৫.১৫ একর জমিও চিহ্নিত করা হয়েছে পার্কিং, ট্যুরিজম সুবিধা ও ধর্মীয় পরিকাঠামোর জন্য।
রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এই স্বপ্নের প্রকল্পের রূপরেখা, নকশা, (Master Plan DPR) এবং Soil Testing-সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। HIDCO-র ইঞ্জিনিয়ার ও কারিগরি দলের সঙ্গে কাজ করছে পুরনিগমের টেকনিক্যাল টিমও। ১৮ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের মনিটরিং কমিটিও গঠন করা হয়েছে যাতে কাজ দ্রুত এবং নিখুঁত হয়।
🏛️ ধর্মীয় পর্যটন বদলে দেবে গোটা উত্তরবঙ্গ
স্থানীয় প্রশাসনের মতে, এই মহাকাল মন্দির তৈরির পর শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, কালিম্পং, ডুয়ার্স–সহ উত্তরবঙ্গের পর্যটন মুখ বদলে যাবে। আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা এলাকার মানুষদের জন্য খুলে যাবে কর্মসংস্থানের বহু দুয়ার।
Mayor Gautam Deb এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনের পর বলেন—
> “এটি শুধু মন্দির নয়, এটি একটি ঐতিহাসিক Religious Economy Hub হবে। এখানকার মানুষ, সংস্কৃতি, ব্যবসা—সবকিছু পাল্টে দেবে এই প্রকল্প।”
তাঁর দাবি, শিলিগুড়িতে এমন একটি Religious Tourism Destination তৈরি হলে তা হবে উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। দেশ–বিদেশের পর্যটকরা আসবেন ভগবান মহাকালের দর্শনে, এবং তার ফলেই বদলে যাবে এলাকার আর্থসামাজিক ছবি।
🏗️ অব্যবহৃত জমির রূপান্তর শুরু
বহুদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা এই বিস্তীর্ণ জমি এখন নির্মাণের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। পুরনিগমের সহযোগিতায় চলছে আবর্জনা পরিষ্কার, জমি সমতলকরণ ও সয়েল টেস্টিং-এর প্রস্তুতি। SJDA-এর লিজে থাকা জমিটি ইতিমধ্যেই ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং সরকারি নথিতে প্রকল্প ঘোষণা সম্পন্ন হওয়ায় আর কোনও প্রশাসনিক বাধা নেই।
কর্তৃপক্ষ জানান — কাজ শুরু হয়েছে, এবং সময় নষ্ট না করে টানা কাজ চলবে।
মূল প্রবেশদ্বার তৈরি হবে নতুন নির্মিত Four Lane Highway–এর বিপরীত পাশে, যেখানে সুপারস্ট্রাকচার হিসেবে বসবে বিশাল মহাকাল মূর্তি। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পে থাকবে—
✔ Meditation Hall
✔ Pilgrim Rest Facility
✔ Tourist Interpretation Centre
✔ ধর্মীয় বৈদিক প্রাঙ্গণ
✔ বিশাল পার্কিং জোন
✔ Heritage Walkway
🌍 উত্তরবঙ্গের Religious Economy-তে নতুন যুগ
পর্যটন দপ্তরের অনুমান, নির্মাণের পর প্রথম পাঁচ বছরে এই এলাকায় বছরে অন্তত ২০ থেকে ৩০ লক্ষ পর্যটক ভ্রমণ করতে পারেন। এর ফলে বৃদ্ধি পাবে—
স্থানীয় ব্যবসা
হোটেল ও হোমস্টে চাহিদা
পরিবহন ব্যবস্থা
হ্যান্ডিক্রাফ্ট, মন্দির সরঞ্জাম ও সাংস্কৃতিক বাজার
স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলের দাবি—এটি হবে North Bengal Religious Tourism Corridor–এর কেন্দ্রবিন্দু।