সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট তৃণমূলে যে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে তা এখন কার্যত সুনামির আকার নিয়েছে। মাত্র ২৪ ঘন্টা আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফেইসবুক লাইভে এসে ঘোষনা করেছিলেন যারা যারা দল ছেড়ে যেতে চান তারা একুশে জুলাই এর আগে দল ছেড়ে বেরিয়ে যান। মমতার বার্তার পরেই শুক্রবার দুপুরে বিধানসভায় গিয়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়ের দলের নাম লেখালেন রাজারহাট নিউ টাউনের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায় এবং বনগাঁ উত্তরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস।
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন বিশ্বজিৎ দাস। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামানও। বৈঠকের পরই স্পষ্ট হয়ে যায়, কালীঘাট শিবিরের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে ঋতব্রতের নেতৃত্বাধীন শিবিরেই নাম লিখিয়েছেন বিশ্বজিৎ। কিছুক্ষণের মধ্যেই একই পথে হাঁটেন তাপস চট্টোপাধ্যায়ও। প্রাক্তন বিধায়ক হওয়ার পাশাপাশি তিনি বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন। ফলে উত্তর ২৪ পরগনায় সংগঠন আরও মজবুত করতে এই দুই নেতার যোগদান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের সময় সই জালিয়াতি কাণ্ডে তৃণমূল ভেঙে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়।
এক পক্ষ মমতার (কালীঘাট তৃণমূল) সঙ্গে, অন্য পক্ষ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (বিদ্রোহী ব্লক) দিকে। কিন্তু ধীরে ধীরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছের মানুষরাও ‘বিট্রে’ করে। ফিরহাদ থেকে মদন সবাই এখন তৃণমূলের বিদ্রোহী ব্লকের সদস্য। এদিকে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র শিবির বদল করতেই জল মাপছেন উত্তর ২৪ পরগনার নেতারাও। কেউ বলছেন মদন মিত্রর সঙ্গে আছেন, আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও আছেন। কেউ আবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে উগরে দিচ্ছেন ক্ষোভ। সব মিলিয়ে ২১ জুলাইয়ের আগে আরও নিঃসঙ্গ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর মাঝেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছড়িয়েছে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু যোগ দিতে পারেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে।

অন্যদিকে, স্ত্রী ও পুত্রদের ইডি নোটিস পাঠানোর পরদিনই ঋতব্রত শিবিরে যোগ দেন কামারহাটির বিধায়ক মদন। আর সেই মদনকে এদিন দেখা গেল কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়কদের পাশে। বিধানসভার প্রাঙ্গণে বি আর আম্বেদকরের মূর্তির সামনে আজ প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন কালীঘাট পন্থী তৃণমূল বিধায়করা। সেখানেই মদনের পাশে দাঁড়িয়ে বিধায়ক কুণাল ঘোষ ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন। বললেন, ‘আমরা এটুকু জেনে রাখছি, আমাদের ভেতরের একটা লোক ওদের মধ্যে রইল।’

‘জেলায় জেলায় ক্রিমিনালরা অভিষেকের লোক’
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় আজ দলের বিরুদ্ধে কার্যত বিদ্রোহ ঘোষণা করে অভিযোগ করেন, ‘শুধুমাত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য তৃণমূল টা ভেঙে গেল। প্রত্যেক জেলায় জেলায় যত ক্রিমিনাল আছে তারা সবাই অভিষেকের লোক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝেও বোঝেননি এই বিষয়টি। ২০২১ সালে তৃণমূলে ফিরে আসার পর থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সব থেকে বেশি সাংগঠনিক কাজ করেছি আমি। তারপরেও আমাকে ত্রিপুরাতে ফেলে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতের বিরোধিতা করে। শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন এটা অত্যন্ত ভালো কথা। শুভেন্দুর সঙ্গে আমার সম্পর্ক খারাপ করার জন্য আমাকে নন্দীগ্রামে প্রার্থী হওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সমস্ত কথা বলার জন্য যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করেন বা আমার বিরুদ্ধে কোন কড়া পদক্ষেপ নেন তা স্বাগত।’